-
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
‘আমি বাংলায় কথা কই’

বাংলা ভাষাপ্রেমী বিদেশিদের গল্প, ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস জানেন অনেকেই, কারো কারো প্রিয় শব্দ ‘জয়বাংলা’

পথে-প্রান্তরে চলতে গেলে বিদেশি নাগরিক চোখে পড়ে হরহামেশাই। অনেক বিদেশি বাংলা ভাষায় কথা বলে সহজেই দৃষ্টি কাড়েন। কেউ বা অনুরোধে গুনগুনিয়ে গেয়ে ওঠেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত গান, ‘আমি বাংলায় কথা কই...।’ বিদেশিরা বিভিন্ন সুপার শপে গিয়ে বাংলায় কথা বলে কেনাকাটাও করেন। কর্মসূত্রে বাংলাদেশে আসেন এমন অনেক বিদেশির মুখে বাংলা ভাষা শুনলে মনে হবে যেন বাঙালি কেউ কথা বলছে। যেমন কোনো বিদেশি হয়তো রিকশাওয়ালাকে ডেকে বললেন, ‘এই রিকশা যাবে? গুলশান দুই নাম্বার।’ আবার এক দোকানে আরেক বিদেশি ঢুকে বললেন, ‘ওবাই আমাকে ৫ প্যাকেট বিস্কুট দেন।’ বিস্কুট নিয়ে বেরিয়ে রাস্তায় হাত উঁচু করে বললেন, ‘এই ছিঞ্জি যাবে ময়াকালী।’ সম্প্রতি টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে বাসে এক জাপানি তরুণ বাংলাদেশি ফুটবলারদের দেখে বলে উঠেছিলেন, ‘আসসালামুয়ালাইকুম। আমার নাম কোইচি কিমুরা।’
 
বিদেশিদের মুখে মুখে এভাবেই প্রিয় বাংলা ভাষা দিন দিন ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে। বিদেশিদের বাংলা ভাষা শেখার আগ্রহও বাড়ছে। বিশেষ করে মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনা করতে এসে বাংলা শিখছেন, বাংলায় কথা বলছেন বাংলাদেশিদের সাথে। অনেকের কাছে বাংলা ভাষা শেখাটা দারুণ গৌরবের ব্যাপার। নিজের ভাষাটা জানেন, তারপরও বাংলা ভাষা শিখতে পারলে সেটাকে সম্মানের মনে করেন। কারণ তারা শুনেছেন ভাষার জন্য লড়াই করতে হয়েছে বাংলাদেশিদের। রক্ত দিতে হয়েছে। আরো অবাক লাগে যখন তারা বলেন, আমরা বাংলা ভাষাকে শ্রদ্ধা করি। তারা জানেন  ফেব্রুয়ারি মাস বাংলাদেশের ভাষার মাস। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলা ভাষার গৌরবময় ইতিহাসের অনেক তথ্যই জানা আছে বাংলা ভাষাপ্রেমী এই বিদেশিদের।
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকায় অনেক দূতাবাসের কর্মকর্তারা বাংলাদেশিদের সাথে বাংলায় কথা বলেন। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে কর্মকর্তারা প্রতিদিন শত শত বাংলাদেশিদের সাথে বাংলায় কথা বলছেন। এ দেশের ভাষার প্রতি তাদের রয়েছে অগাধ শ্রদ্ধা। যে কারণে বাংলাদেশিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ভিসা প্রার্থীদের সাক্ষাত্কার বাংলায়  নেয়া হচ্ছে। কর্মকর্তারাও বাংলা শিখে এসে সাবলীলভাবে কথা বলছেন।
 
এমনই একজন মার্কিন দূতাবাসের নারী কাউন্সিলর গ্রেস চুং। অসাধারণ বাংলা বলেন। গ্রেস বলেন, ‘মনে হয় বাংলা কঠিন ভাষা। কিন্তু অনেক সুন্দর ভাষা। বাংলাদেশের সংস্কৃতি আছে। বাংলাদেশে অনেক কবি, লেখক আছে। যারা বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন। আমরা সে ভাষায় কথা বলছি। আমরা খুব ভাগ্যবান আমাদের কাছে অনেক বাংলাদেশি যায়। আমরা বাংলায় কথা বলি।’ এই নারী কর্মকর্তা বাংলাদেশকে জানার জন্য অনেক বাংলা অনুষ্ঠানে গিয়েছেন। তার হূদয়ে বাংলা ভাষার জায়গা আছে বলেই একটু একটু জাতীয় সঙ্গীতও জানেন তিনি। কথা বলতে গিয়ে বারবার বাংলাদেশের মানুষদের ‘ভালো মানুষ’ বলে আখ্যায়িত করলেন।
 
দূতাবাসের আরেক কর্মকর্তা ন্যাটে স্যাভিও আরো একধাপ এগিয়ে জানালেন, বাংলাদেশের আর্ট ফিল্ম ও গান তার ভালো লাগে। তিনি বলেন, বাংলা ভাষার ইতিহাস হাজার বছরের। আমি ‘বাংলার গান গাই’ গানটা অনেক শুনেছি। স্যাভিও বাংলা ছবি ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ দেখেছেন। স্যাভিওর পাশে বসা গ্রেস চুং কথা বলার আন্তরিকতার মাত্রাটা আরো বাড়িয়ে দিলেন। বললেন, ‘বাংলাদেশের ভাষা ভালো লাগে, বাংলাদেশিদেরও ভালো লাগে। তার পছন্দ ফুটবল। তবে স্যাভিওর পছন্দ ক্রিকেট।’ স্যাভিও বললেন, ‘আমি ক্রিকেট ম্যাচ পছন্দ করি। বাংলাদেশ-সাউথ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ম্যাচ আমি দেখেছি।’ সব শেষে তারা জানালেন, ‘এটা ভাষার মাস। ২১ ফেব্রুয়ারি অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিবস। আমরা এটা জানি। আমাদের অনেক শ্রদ্ধা এই দিনটির প্রতি। বাংলাদেশের মানুষদের ধন্যবাদ জানাই।’
 
বাংলাদেশে ঘরোয়া ফুটবল লিগে খেলতে এসে অনেক বিদেশিই দেশে ফিরেন না। এদের মধ্যে আফ্রিকান ফুটবলারের সংখ্যাই বেশি। মোহামেডানের হয়ে খেলতে আসা গিনির ইসমাইল বাঙ্গুরা দেখা হলেই বাংলায় বলেন, ‘কেমন আছো?’ ফুটবলার ওয়েডসন, ল্যান্ডিং, ডার্লিংটন এখন ঢাকার ফুটবলে সবচেয়ে বড় তারকা। শেখ জামালের এই তিন ফুটবলারের সামনে বাংলা বললে বুঝে ফেলেন কে কি বলছে। যে কারণে কর্মকর্তারা গোপন কিছু হলে আড়ালে গিয়ে কথা বলেন। তারা প্রায়ই অভিযোগের সুরে বলেন, ‘মাঠে নামলে অনেকে আমাদেরকে বল পাস দেয় না।’ বাংলায় এমন কথা শুনে অনেকেই চমকে যান। আরো ভয়াবহভাবে বাংলা জানেন নাইজেরিয়ান সামসী! তিনি বাংলা ভাষার পাশাপাশি এ ভাষার এমন কোনো গালাগালি নেই যেটা জানেন না। 
 
বিদেশি ফুটবলারদের এজেন্ট আবুল হোসেন বললেন, ‘৬০০ থেকে ৭০০ বিদেশি ফুটবলার আছেন বাংলাদেশে; যাদের বেশির ভাগই বাংলা কথা বুঝতে পারেন। কারণ তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ফুটবল খেলে বেড়ান। অনেকে বরিশাল, চট্টগ্রামের কঠিন আঞ্চলিক ভাষাও জানেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিদেশি ফুটবলাররা টাকা নিয়ে দরকষাকষি করতে পারেন সাবলীল বাংলায়।’
 
শুধু খেলোয়াড়রাই নন, অনেক কোচও বাংলা জানেন। বার্সেলোনার সাবেক ফুটবলার বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ গঞ্জালো সানচেজ মরিনো বাংলা ভাষার প্রতি দুর্বল। সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলা বলার চেষ্টা করেন তিনি। আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা ম্যারাডোনার দেশের মানুষ, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ট্রেইনার কোলম্যান ঢাকায় থেকে বাংলা শিখেছেন। বাংলাদেশি নারী চিকিত্সক মিতা নাইজেরিয়ান ফুটবলার জোয়েলকে ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। এক কন্যা সন্তান তাদের ঘরে। জোয়েল ভালো বাংলা বলতে পারেন। জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলা কোন শব্দটি সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে?  জবাবে জোয়েল বললেন, ‘জয়বাংলা।’
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭৪ সালে আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউট চালু হবার পর সেখানে বিদেশিদের বাংলা ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে শত শত বিদেশি নাগরিক বাংলা ভাষা শিখেছেন। ইন্সটিটিউটের একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলা ভাষা ডিপার্টমেন্ট চালু হওয়ার পর এ পর্যন্ত প্রায় হাজার খানেক বিদেশি বাংলা ভাষা শিখেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংখ্যা বেড়ে চলেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশির ভাগই জাপানি এবং কোরিয়ান। গড়ে প্রতিবছর ২০ থেকে ২২ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভাষা শিখতে এখানে ভর্তি হচ্ছেন।  শুধু পুরুষরাই নন বিদেশি নারীরাও বাংলা শিখতে আসেন বাংলাদেশে। ব্রাজিল, ইতালি, কলম্বিয়ান নারী শিক্ষার্থীরাও বাংলা শিখছেন। ভাষা ইন্সটিটিউটের একজন জাপানি শিক্ষার্থী কিওতা জানালেন, তিনি এনজিওতে কাজ করেন। বাংলাদেশের মানুষের সাথে তার কথা বলতে হচ্ছে। তাই ভাষাটা শিখে নিলে সহজেই কথা বলা ও বোঝা যাবে। বাংলাদেশে অনেক জাপানি আছেন যারা অনেক বাঙালির চেয়েও ভালো বাংলা বলতে পারেন বলে তিনি দাবি করেন।
 
বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং ধর্ম বোঝার জন্য একজন কোরিয়ান ছাত্র এখানে বাংলা শিখছেন। নাম জানতে চাইলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন,‘কোনটা জানতে চান বাংলাদেশি নাম নাকি কোরিয়ান নাম? বললাম, বাংলাদেশি নাম। কোরিয়ান নাগরিক বললেন, ‘সবাই আমাকে করিম ভাই বলে ডাকে।’ আর কোরিয়ান নাম নিজেই বাংলায় লিখে দেখালেন, ছা সং হন। কোরিয়ান সিভিল কালচারাল সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডেভিড জানালেন, এক হাজারেরও বেশি কোরিয়ান বাংলা বলতে পারেন।
 
প্রসঙ্গত, বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা শেখার আগ্রহের কারণে আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটে ৪টি কোর্সের ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো হলো: জুনিয়র বাংলা, সিনিয়র বাংলা, ডিপ্লোমা এবং হায়ার ডিপ্লোমা। আগ্রহী বিদেশি ছাত্ররা নিজ নিজ দেশের ঢাকাস্থ দূতাবাসের মাধ্যমে এখানে ভর্তি হতে পারেন।
‘আমি বাংলায় কথা কই’
                                  

বাংলা ভাষাপ্রেমী বিদেশিদের গল্প, ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস জানেন অনেকেই, কারো কারো প্রিয় শব্দ ‘জয়বাংলা’

পথে-প্রান্তরে চলতে গেলে বিদেশি নাগরিক চোখে পড়ে হরহামেশাই। অনেক বিদেশি বাংলা ভাষায় কথা বলে সহজেই দৃষ্টি কাড়েন। কেউ বা অনুরোধে গুনগুনিয়ে গেয়ে ওঠেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত গান, ‘আমি বাংলায় কথা কই...।’ বিদেশিরা বিভিন্ন সুপার শপে গিয়ে বাংলায় কথা বলে কেনাকাটাও করেন। কর্মসূত্রে বাংলাদেশে আসেন এমন অনেক বিদেশির মুখে বাংলা ভাষা শুনলে মনে হবে যেন বাঙালি কেউ কথা বলছে। যেমন কোনো বিদেশি হয়তো রিকশাওয়ালাকে ডেকে বললেন, ‘এই রিকশা যাবে? গুলশান দুই নাম্বার।’ আবার এক দোকানে আরেক বিদেশি ঢুকে বললেন, ‘ওবাই আমাকে ৫ প্যাকেট বিস্কুট দেন।’ বিস্কুট নিয়ে বেরিয়ে রাস্তায় হাত উঁচু করে বললেন, ‘এই ছিঞ্জি যাবে ময়াকালী।’ সম্প্রতি টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে বাসে এক জাপানি তরুণ বাংলাদেশি ফুটবলারদের দেখে বলে উঠেছিলেন, ‘আসসালামুয়ালাইকুম। আমার নাম কোইচি কিমুরা।’
 
বিদেশিদের মুখে মুখে এভাবেই প্রিয় বাংলা ভাষা দিন দিন ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে। বিদেশিদের বাংলা ভাষা শেখার আগ্রহও বাড়ছে। বিশেষ করে মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনা করতে এসে বাংলা শিখছেন, বাংলায় কথা বলছেন বাংলাদেশিদের সাথে। অনেকের কাছে বাংলা ভাষা শেখাটা দারুণ গৌরবের ব্যাপার। নিজের ভাষাটা জানেন, তারপরও বাংলা ভাষা শিখতে পারলে সেটাকে সম্মানের মনে করেন। কারণ তারা শুনেছেন ভাষার জন্য লড়াই করতে হয়েছে বাংলাদেশিদের। রক্ত দিতে হয়েছে। আরো অবাক লাগে যখন তারা বলেন, আমরা বাংলা ভাষাকে শ্রদ্ধা করি। তারা জানেন  ফেব্রুয়ারি মাস বাংলাদেশের ভাষার মাস। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলা ভাষার গৌরবময় ইতিহাসের অনেক তথ্যই জানা আছে বাংলা ভাষাপ্রেমী এই বিদেশিদের।
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকায় অনেক দূতাবাসের কর্মকর্তারা বাংলাদেশিদের সাথে বাংলায় কথা বলেন। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে কর্মকর্তারা প্রতিদিন শত শত বাংলাদেশিদের সাথে বাংলায় কথা বলছেন। এ দেশের ভাষার প্রতি তাদের রয়েছে অগাধ শ্রদ্ধা। যে কারণে বাংলাদেশিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ভিসা প্রার্থীদের সাক্ষাত্কার বাংলায়  নেয়া হচ্ছে। কর্মকর্তারাও বাংলা শিখে এসে সাবলীলভাবে কথা বলছেন।
 
এমনই একজন মার্কিন দূতাবাসের নারী কাউন্সিলর গ্রেস চুং। অসাধারণ বাংলা বলেন। গ্রেস বলেন, ‘মনে হয় বাংলা কঠিন ভাষা। কিন্তু অনেক সুন্দর ভাষা। বাংলাদেশের সংস্কৃতি আছে। বাংলাদেশে অনেক কবি, লেখক আছে। যারা বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন। আমরা সে ভাষায় কথা বলছি। আমরা খুব ভাগ্যবান আমাদের কাছে অনেক বাংলাদেশি যায়। আমরা বাংলায় কথা বলি।’ এই নারী কর্মকর্তা বাংলাদেশকে জানার জন্য অনেক বাংলা অনুষ্ঠানে গিয়েছেন। তার হূদয়ে বাংলা ভাষার জায়গা আছে বলেই একটু একটু জাতীয় সঙ্গীতও জানেন তিনি। কথা বলতে গিয়ে বারবার বাংলাদেশের মানুষদের ‘ভালো মানুষ’ বলে আখ্যায়িত করলেন।
 
দূতাবাসের আরেক কর্মকর্তা ন্যাটে স্যাভিও আরো একধাপ এগিয়ে জানালেন, বাংলাদেশের আর্ট ফিল্ম ও গান তার ভালো লাগে। তিনি বলেন, বাংলা ভাষার ইতিহাস হাজার বছরের। আমি ‘বাংলার গান গাই’ গানটা অনেক শুনেছি। স্যাভিও বাংলা ছবি ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ দেখেছেন। স্যাভিওর পাশে বসা গ্রেস চুং কথা বলার আন্তরিকতার মাত্রাটা আরো বাড়িয়ে দিলেন। বললেন, ‘বাংলাদেশের ভাষা ভালো লাগে, বাংলাদেশিদেরও ভালো লাগে। তার পছন্দ ফুটবল। তবে স্যাভিওর পছন্দ ক্রিকেট।’ স্যাভিও বললেন, ‘আমি ক্রিকেট ম্যাচ পছন্দ করি। বাংলাদেশ-সাউথ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ম্যাচ আমি দেখেছি।’ সব শেষে তারা জানালেন, ‘এটা ভাষার মাস। ২১ ফেব্রুয়ারি অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিবস। আমরা এটা জানি। আমাদের অনেক শ্রদ্ধা এই দিনটির প্রতি। বাংলাদেশের মানুষদের ধন্যবাদ জানাই।’
 
বাংলাদেশে ঘরোয়া ফুটবল লিগে খেলতে এসে অনেক বিদেশিই দেশে ফিরেন না। এদের মধ্যে আফ্রিকান ফুটবলারের সংখ্যাই বেশি। মোহামেডানের হয়ে খেলতে আসা গিনির ইসমাইল বাঙ্গুরা দেখা হলেই বাংলায় বলেন, ‘কেমন আছো?’ ফুটবলার ওয়েডসন, ল্যান্ডিং, ডার্লিংটন এখন ঢাকার ফুটবলে সবচেয়ে বড় তারকা। শেখ জামালের এই তিন ফুটবলারের সামনে বাংলা বললে বুঝে ফেলেন কে কি বলছে। যে কারণে কর্মকর্তারা গোপন কিছু হলে আড়ালে গিয়ে কথা বলেন। তারা প্রায়ই অভিযোগের সুরে বলেন, ‘মাঠে নামলে অনেকে আমাদেরকে বল পাস দেয় না।’ বাংলায় এমন কথা শুনে অনেকেই চমকে যান। আরো ভয়াবহভাবে বাংলা জানেন নাইজেরিয়ান সামসী! তিনি বাংলা ভাষার পাশাপাশি এ ভাষার এমন কোনো গালাগালি নেই যেটা জানেন না। 
 
বিদেশি ফুটবলারদের এজেন্ট আবুল হোসেন বললেন, ‘৬০০ থেকে ৭০০ বিদেশি ফুটবলার আছেন বাংলাদেশে; যাদের বেশির ভাগই বাংলা কথা বুঝতে পারেন। কারণ তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ফুটবল খেলে বেড়ান। অনেকে বরিশাল, চট্টগ্রামের কঠিন আঞ্চলিক ভাষাও জানেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিদেশি ফুটবলাররা টাকা নিয়ে দরকষাকষি করতে পারেন সাবলীল বাংলায়।’
 
শুধু খেলোয়াড়রাই নন, অনেক কোচও বাংলা জানেন। বার্সেলোনার সাবেক ফুটবলার বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ গঞ্জালো সানচেজ মরিনো বাংলা ভাষার প্রতি দুর্বল। সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলা বলার চেষ্টা করেন তিনি। আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা ম্যারাডোনার দেশের মানুষ, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ট্রেইনার কোলম্যান ঢাকায় থেকে বাংলা শিখেছেন। বাংলাদেশি নারী চিকিত্সক মিতা নাইজেরিয়ান ফুটবলার জোয়েলকে ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। এক কন্যা সন্তান তাদের ঘরে। জোয়েল ভালো বাংলা বলতে পারেন। জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলা কোন শব্দটি সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে?  জবাবে জোয়েল বললেন, ‘জয়বাংলা।’
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭৪ সালে আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউট চালু হবার পর সেখানে বিদেশিদের বাংলা ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে শত শত বিদেশি নাগরিক বাংলা ভাষা শিখেছেন। ইন্সটিটিউটের একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলা ভাষা ডিপার্টমেন্ট চালু হওয়ার পর এ পর্যন্ত প্রায় হাজার খানেক বিদেশি বাংলা ভাষা শিখেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংখ্যা বেড়ে চলেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশির ভাগই জাপানি এবং কোরিয়ান। গড়ে প্রতিবছর ২০ থেকে ২২ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভাষা শিখতে এখানে ভর্তি হচ্ছেন।  শুধু পুরুষরাই নন বিদেশি নারীরাও বাংলা শিখতে আসেন বাংলাদেশে। ব্রাজিল, ইতালি, কলম্বিয়ান নারী শিক্ষার্থীরাও বাংলা শিখছেন। ভাষা ইন্সটিটিউটের একজন জাপানি শিক্ষার্থী কিওতা জানালেন, তিনি এনজিওতে কাজ করেন। বাংলাদেশের মানুষের সাথে তার কথা বলতে হচ্ছে। তাই ভাষাটা শিখে নিলে সহজেই কথা বলা ও বোঝা যাবে। বাংলাদেশে অনেক জাপানি আছেন যারা অনেক বাঙালির চেয়েও ভালো বাংলা বলতে পারেন বলে তিনি দাবি করেন।
 
বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং ধর্ম বোঝার জন্য একজন কোরিয়ান ছাত্র এখানে বাংলা শিখছেন। নাম জানতে চাইলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন,‘কোনটা জানতে চান বাংলাদেশি নাম নাকি কোরিয়ান নাম? বললাম, বাংলাদেশি নাম। কোরিয়ান নাগরিক বললেন, ‘সবাই আমাকে করিম ভাই বলে ডাকে।’ আর কোরিয়ান নাম নিজেই বাংলায় লিখে দেখালেন, ছা সং হন। কোরিয়ান সিভিল কালচারাল সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডেভিড জানালেন, এক হাজারেরও বেশি কোরিয়ান বাংলা বলতে পারেন।
 
প্রসঙ্গত, বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা শেখার আগ্রহের কারণে আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটে ৪টি কোর্সের ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো হলো: জুনিয়র বাংলা, সিনিয়র বাংলা, ডিপ্লোমা এবং হায়ার ডিপ্লোমা। আগ্রহী বিদেশি ছাত্ররা নিজ নিজ দেশের ঢাকাস্থ দূতাবাসের মাধ্যমে এখানে ভর্তি হতে পারেন।
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেলেন ১১জন
                                  

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০১৫ ঘোষণা করা হয়েছে। ১০ ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাংলা একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুরস্কার প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন, কবিতায় আলতাফ হোসেন, কথাসাহিত্যে শাহীন আকতার, প্রবন্ধে যৌথভাবে আবুল মোমেন ও ড. আতিউর রহমান, গবেষণায় মনিরুজ্জামান, অনুবাদে আব্দুস সেলিম, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে তাজুল মোহম্মদ, আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা ও ভ্রমণকাহিনী ক্যাটাগরিতে ফারুক চৌধুরী, নাটকে মাসুম রেজা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশে শরীফ খান ও শিশুসাহিত্যে সুজন বড়ুয়া।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ, আব্দুল হাই, শাহিদা খাতুন, ড. মুজাহিদুল ইসলাম, মোবারক হোসেন, নুরুন্নাহার খানম মুক্তাসহ আরও অনেকে।

প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচজন বিচারকের একটি কমিটি পুরস্কার প্রাপ্তদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করেন। হায়াত মামুদের সভাপতিত্বে এ কমিটির বাকি চার বিচারক হলেন, সৈয়দ আবুল মকসুদ, রামেন্দু মজুমদার, করুণাময়ী গোস্বামী ও ফখরুল আলম।

বিচারকদের তালিকা বুধবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলা একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদ অনুমোদন করে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।
 
প্রতিটা বিভাগে পুরস্কারের মূল্যমান এক লাখ টাকা। প্রতিবারের মতো এবারও অমর একুশে গ্রন্থমেলার প্রথমদিনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরস্কার প্রাপ্তদের হাতে পুরস্কারের টাকা ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেবেন।


বাউল সম্রাট আব্দুল করিমের শততম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু
                                  
বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের শততম জন্মেৎসব উপলক্ষে সুনামগঞ্জে বছরব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।
 
সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় শিল্পী ও অতিথিরা ‘বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে’ এই গান গেয়ে বাউল সম্রাটের শততম জন্মদিনের কেক কাটেন। জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে হাসনরাজা একাডেমি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
 
পরে জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে থাকা বাঙালির প্রিয় শিল্পী শাহ আব্দুল করিমের শততম জন্মদিনের অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জ জেলায় সূচনা হল। সারা বছরই জেলার কোন না কোন এলাকায়, কোন না কোন সাংস্কৃতিক সংগঠন শাহ্ আব্দুল করিমের শততম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান করবে। এ সময় জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক শামছুল আবেদীন সহ অন্য  বক্তব্য দেন।
   Page 1 of 1
    
‘আমি বাংলায় কথা কই’
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেলেন ১১জন
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
বাউল সম্রাট আব্দুল করিমের শততম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......