-
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
জমে উঠেছে সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচন

নব আলো:আইনজীবীদের শীর্ষ সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০১৬-১৭ সালের নির্বাচন আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ। শেষ মুহূর্তে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে এবারের নির্বাচন। ব্যস্ত সময় কাটছে প্রার্থীদের। আদালত অঙ্গনে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্যপরিষদের নীল প্যানেল এবং সরকার সমর্থক ‘সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সাদা প্যানেলের প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আইনজীবীদের স্লোগানে মুখরিত হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবন। ২০১৫-১৬ সালের সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল)। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি পদে জয় পান তারা। এবারের নির্বাচনেও একই রকম ফল ধরে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এই প্যানেলের প্রার্থীরা। নীল প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, গতবারের মতো এবারো আমরা বেশির ভাগ পদে জয়ী হবো। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে আইনজীবীদের পেশার মান উন্নয়ন, বিচার প্রার্থী মানুষের প্রত্যাশা পূরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ভাবমর্যাদা রক্ষার জন্য কাজ করব। অন্য দিকে সম্প্রতি সরকার সমর্থক আইনজীবীরা বার কাউন্সিল ও ঢাকা বারের নির্বাচনে জয় লাভ করেছেন। এই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে মাঠে অবস্থান নিয়েছেন সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের ‘সাদা’ প্যানেলের প্রার্থীরা। সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ও সরকার সমর্থক আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, পূর্ণ উদ্যোমে আমাদের প্রচার-প্রচারণা চলছে। আমাদের মধ্যে কোনো অনৈক্য নেই। সম্প্রতি ঢাকা আইনজীবী সমিতি (ঢাকা বার), ট্যাক্সেস বারসহ সব বারেই আমরা বিজয়ী হয়েছি। আশা করি সুপ্রিম কোর্ট বারেও আমারা বিজয়ী হবো। নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল থেকে সভাপতি পদে সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং সহসভাপতি পদে ফাহিমা নাসরিন মুন্নী ও মো: গোলাম মোস্তফা। সম্পাদক পদে বর্তমান সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, কোষাধ্যক্ষ পদে নাসরিন আক্তার এবং সহসম্পাদক পদে মো: শহিদুজ্জামান ও মো: ইউসুফ আলী। এ প্যানেল থেকে সদস্যপদে যারা নির্বাচন করছেন তারা হলেন- ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসিম, মমতাজ বেগম বিউটি, মো: কামাল হোসেন, মো: নাসির উদ্দিন খান সম্রাট, নাসরিন ফেরদৌস, রেজাউল করিম ও এস কে তাহসিন আলি। আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্যানেল থেকে সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হুসেন হুমায়ূন, সহসভাপতি পদে মো: তাহেরুল ইসলাম ও সুরাইয়া বেগম, সম্পাদক পদে মো: আজহার উল্লাহ ভূঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ পদে মো: রমজান আলী শিকদার এবং সহসম্পাদক পদে এ কে এম রবিউল হাসান সুমন ও শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। এ প্যানেল থেকে সদস্যপদে যারা নির্বাচন করছেন তারা হলেন- কুমার দেবুল দে, খান মুহাম্মদ শামিম আজিজ, মো: আজিজ মিয়া মিন্টু, মো: হাবিবুর রহমান হাবিব, মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, নাসরিন সিদ্দিকা লিনা ও সাহানা পারভিন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে লড়ছেন ইউনুস আলী আকন্দ। সদস্য পদে আরিফা জেসমিন নাহিন ও মো: আহসান উল্লাহ। জানা গেছে, এবার সুপ্রিম কোর্ট বারের পাঁচ হাজার ২৮ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন-সংক্রান্ত সাব-কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হারুনুর রশীদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। ২৩ ও ২৪ মার্চ সকাল ১০টায় শুরু হয়ে মাঝে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। সুপ্রিম কোর্ট বারের কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সাতটি সম্পাদকীয় ও সাতটি নির্বাহী সদস্যের পদ রয়েছে। নীল প্যানেল থেকে সদস্য প্রার্থী বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারের এবারের নির্বাচন আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভালো প্রার্থী দিতে পেরেছি। আমাদের প্রতিপক্ষও কৌশলী হয়ে প্রার্থী দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য সব পদেই জয়লাভ করা। সেভাবেই আমরা ভোটারদের কাছে টানতে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।

জমে উঠেছে সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচন
                                  

নব আলো:আইনজীবীদের শীর্ষ সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০১৬-১৭ সালের নির্বাচন আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ। শেষ মুহূর্তে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে এবারের নির্বাচন। ব্যস্ত সময় কাটছে প্রার্থীদের। আদালত অঙ্গনে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্যপরিষদের নীল প্যানেল এবং সরকার সমর্থক ‘সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সাদা প্যানেলের প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আইনজীবীদের স্লোগানে মুখরিত হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবন। ২০১৫-১৬ সালের সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল)। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি পদে জয় পান তারা। এবারের নির্বাচনেও একই রকম ফল ধরে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এই প্যানেলের প্রার্থীরা। নীল প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, গতবারের মতো এবারো আমরা বেশির ভাগ পদে জয়ী হবো। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে আইনজীবীদের পেশার মান উন্নয়ন, বিচার প্রার্থী মানুষের প্রত্যাশা পূরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ভাবমর্যাদা রক্ষার জন্য কাজ করব। অন্য দিকে সম্প্রতি সরকার সমর্থক আইনজীবীরা বার কাউন্সিল ও ঢাকা বারের নির্বাচনে জয় লাভ করেছেন। এই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে মাঠে অবস্থান নিয়েছেন সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের ‘সাদা’ প্যানেলের প্রার্থীরা। সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ও সরকার সমর্থক আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, পূর্ণ উদ্যোমে আমাদের প্রচার-প্রচারণা চলছে। আমাদের মধ্যে কোনো অনৈক্য নেই। সম্প্রতি ঢাকা আইনজীবী সমিতি (ঢাকা বার), ট্যাক্সেস বারসহ সব বারেই আমরা বিজয়ী হয়েছি। আশা করি সুপ্রিম কোর্ট বারেও আমারা বিজয়ী হবো। নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল থেকে সভাপতি পদে সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং সহসভাপতি পদে ফাহিমা নাসরিন মুন্নী ও মো: গোলাম মোস্তফা। সম্পাদক পদে বর্তমান সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, কোষাধ্যক্ষ পদে নাসরিন আক্তার এবং সহসম্পাদক পদে মো: শহিদুজ্জামান ও মো: ইউসুফ আলী। এ প্যানেল থেকে সদস্যপদে যারা নির্বাচন করছেন তারা হলেন- ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসিম, মমতাজ বেগম বিউটি, মো: কামাল হোসেন, মো: নাসির উদ্দিন খান সম্রাট, নাসরিন ফেরদৌস, রেজাউল করিম ও এস কে তাহসিন আলি। আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্যানেল থেকে সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হুসেন হুমায়ূন, সহসভাপতি পদে মো: তাহেরুল ইসলাম ও সুরাইয়া বেগম, সম্পাদক পদে মো: আজহার উল্লাহ ভূঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ পদে মো: রমজান আলী শিকদার এবং সহসম্পাদক পদে এ কে এম রবিউল হাসান সুমন ও শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। এ প্যানেল থেকে সদস্যপদে যারা নির্বাচন করছেন তারা হলেন- কুমার দেবুল দে, খান মুহাম্মদ শামিম আজিজ, মো: আজিজ মিয়া মিন্টু, মো: হাবিবুর রহমান হাবিব, মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, নাসরিন সিদ্দিকা লিনা ও সাহানা পারভিন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে লড়ছেন ইউনুস আলী আকন্দ। সদস্য পদে আরিফা জেসমিন নাহিন ও মো: আহসান উল্লাহ। জানা গেছে, এবার সুপ্রিম কোর্ট বারের পাঁচ হাজার ২৮ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন-সংক্রান্ত সাব-কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হারুনুর রশীদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। ২৩ ও ২৪ মার্চ সকাল ১০টায় শুরু হয়ে মাঝে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। সুপ্রিম কোর্ট বারের কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সাতটি সম্পাদকীয় ও সাতটি নির্বাহী সদস্যের পদ রয়েছে। নীল প্যানেল থেকে সদস্য প্রার্থী বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারের এবারের নির্বাচন আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভালো প্রার্থী দিতে পেরেছি। আমাদের প্রতিপক্ষও কৌশলী হয়ে প্রার্থী দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য সব পদেই জয়লাভ করা। সেভাবেই আমরা ভোটারদের কাছে টানতে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।

নিজামীর মৃত্যু পরোয়ানা জারি
                                  

নব আলো:যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারপতি মৃত্যুপরোয়ানা জারি করেন।
মৃত্যু পরোয়ানায় সই করেছেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হক এবং বিচারিক প্যানেলের দুই সদস্য বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী।
আইন অনুসারে কিছুক্ষণের মধ্যে আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়সহ লাল সালুতে মোড়ানো পরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে বলে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মো. শহীদুল আলম ঝিনুক জানিয়েছেন।
এর আগে সন্ধ্যা সাতটার দিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে নিজামীর মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। রায়ের অনুলিপিসহ অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল অরুনাভ চক্রবর্তী ট্রাইব্যুনালে যান। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মো. শহীদুল আলম ঝিনুক তা গ্রহণ করেন। বলে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার।
এর আগে বিকালে ১৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ আপিলে রায় প্রদানকারী চার বিচারপতির স্বাক্ষরের পর তা প্রকাশিত হয় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে।
অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। পূর্ণাঙ্গ রায়টি লিখেছেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃতুদণ্ডাদেশ দেন নিজামীকে।
নিজামীকে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং হত্যা-গণহত্যা ও ধর্ষণসহ সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) প্রমাণিত আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে চারটিতে ফাঁসি ও চারটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
এ রায়ের বিরুদ্ধে ২৩ নভেম্বর আপিল করেন নিজামী। পরে আপিল বিভাগ তিনটিতে ফাঁসি ও দুটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন। অন্য তিনটিতে চূড়ান্ত রায়ে দণ্ড থেকে খালাস পান নিজামী, যার মধ্যে একটিতে ফাঁসি ও দু’টিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ ছিল ট্রাইব্যুনালের রায়ে।

মিল্কি হত্যা : পলাতক ছয় জনকে গ্রেফতারের নির্দেশ
                                  

নব আলো:যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কি হত্যা মামলায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতাক ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূর এ আদেশ দেন। এছাড়া পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা গেল কি না সে বিষয়ে আগামী ২৫ এপ্রিল তামিল প্রতিবেদনের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেন, সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, মো. আরিফ ওরফে আরিফ হোসেন, মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ, রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, মো. শরীফ উদ্দিন চৌধুরী ওরফে পাপ্পু ও ফাহিমা ইসলাম লোপা। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস এ মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। এছাড়া নয়জনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে। অভিযোগপত্র ভুক্ত ১৮ আসামি হলেন, সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে হাবিব, মো. সোহেল মাহমুদ ওরফে সোহেল ভূঁইয়া, মো. চুন্নু মিয়া, মো. আরিফ ওরফে আরিফ হোসেন, মো. সাহিদুল ইসলাম, মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ, মো. জাহাঙ্গীর মন্ডল, ফাহিমা ইসলাম লোপা, রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, মো. শরীফ উদ্দিন চৌধুরী ওরফে পাপ্পু, তুহিন রহমান ফাহিম, সৈয়দ মুজতবা আলী প্রকাশ রুমী, মোহাম্মদ রাশেদ মাহমুদ ওরফে আলী হোসেন রাশেদ ওরফে মাহমুদ, সাইদুল ইসলাম ওরফে নুরুজ্জামান, মো. সুজন হাওলাদার, ডা. দেওয়ান মো. ফরিউদ্দৌলা ওরফে পাপ্পু ও মো. মামুন উর রশীদ। মামলার নথি সুত্রে জানাগেছে, ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই রাতে গুলশানে শপার্স ওয়ার্ল্ড সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওচিত্র দেখে মিল্কির এক সময়ের সহযোগী যুবলীগের আরেক নেতা জাহিদ সিদ্দিকী তারেকসহ ভাড়াটে খুনিরা তাকে হত্যা করে বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। ওই ঘটনায় মিল্কির ছোট ভাই রাশেদুল হক খান বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন।

মালিক-ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহ বন্ধে রিট খারিজ রবিবার
                                  

নব আলো:ঢাকা মহানগরীতে বাড়ি মালিকদের মাধ্যমে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার (১৩ মার্চ) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি খারিজের আদেশ দেন।

এর আগে ৮ মার্চ একই বেঞ্চে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংক্রান্ত এই রিটের শুনানি হয়। ওইদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহের হোসেন সাজু।

গত ৩ মার্চ ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহে পুলিশের উদ্যোগের আইনগত ভিত্তি কি তা জানতে চেয়ে স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, পুলিশের আইজি ও ডিএমপি কমিশনারকে লিগ্যাল মোটিশ পাঠিয়েছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেয়ার কথা বলা হলেও সরকারে পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো জবাব দেয়া হয়নি। পরে ৫ মার্চ তিনি হাইকোর্টে এই কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন।

ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, ‘আইন মেনে চলা একজন নাগরিক হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইনগত সহায়তা করতে আমি ইচ্ছুক। তবে যে সহায়তা তারা চাইছেন তা তাদের আইনগত এখতিয়ারে পড়ে না। এভাবে ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়ার মতো কোনো আইনি সুযোগ পুলিশের নেই।’

তিনি বলেন, ‘নাগরিকদের যেসব ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য পুলিশ যেভাবে সংগ্রহ করছে, তা করার মতো প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পুলিশের নেই। এসব তথ্যের অপব্যবহার হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া এসব তথ্য যদি কোনো ভুল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে পড়ে, তাহলে ব্যক্তির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ক্ষুন্ন হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।’

সংবিধানে নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার যে অধিকার দেওয়া হয়েছে, পুলিশের এ উদ্যোগে তাও ভঙ্গ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এ আশঙ্কা থেকেই তিনি রিট আবেদনটি করেছেন বলেও জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বিভিন্ন বাড়িতে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও বোমা তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়ার পর গত বছর বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের এই কাজ শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এক পৃষ্ঠার যে ফরম ভাড়াটিয়াদের পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে, সেখানে ভাড়াটিয়ার ছবির পাশাপাশি তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, ফোন নম্বর, জন্ম তারিখসহ বাসার বাসিন্দা এবং গৃহকর্মী ও ড্রাইভারের তথ্য চাওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের লোগো সম্বলিত ঐ ফরমের ফটোকপি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আবার তা সংগ্রহ করছেন পুলিশ সদস্যরা।

মীর কাসেম অালীর ফাঁসি বহাল রেখেছেন আদালত
                                  

নব আলো:মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মীর কাশেম আলীর আপিল খারিজ করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন আদালত। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান। রায় ঘোষণার সময় আদালতে মীর কাসেমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আলামীন, মীর কাসেমের ছেলে ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম।

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আদালতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিপুলসংখ্যক সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর মামলায় আপিলের উপর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তি উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত হয় ৮ মার্চ। প্রথমে তারিখ ২ মার্চ ঠিক করা হলেও প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ঢাকার বাইরে সফর থাকায় রায়ের তারিখ বদলে ৮ মার্চ করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামী জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর আপিল শুনানি। আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয় ১৭ ফেব্রুয়ারি।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের পর পাল্টা যুক্তি দেয় আসামিপক্ষ। এর পরই রায় ঘোষণার তারিখ ২ মার্চ ঠিক করার পর আবার পরিবর্তন করে ৮ মার্চ করা হয়।

রূপগঞ্জে সন্ত্রাসীকে পুলিশে দিলেন এমপি
                                  

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্থানীয় চাঁদাবাজ মামুন বাহিনীর প্রধান ও শীর্ষ সন্ত্রাসী চাঁন্দা মামুনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক)।  শুক্রবার দুপুরে রূপসী এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। চাঁন্দা মামুন রূপসী এলাকার চাঁন মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, চাঁন্দা মামুনসহ সহযোগী রিপন, ছালাম, আশরাফুল চাঁদাবাজ মামুন বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় বিভিন্নভাবে সাধারণ ও নিরীহ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে চাঁদা আদায় করে আসছে। এ বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, জুয়ার আসর বসানোসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা-ের অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষ জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে এ বাহিনীকে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলেই হামলা ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়ে থাকে। সাধারণ মানুষ এ বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় পোশাক কারখানার নারী শ্রমিকদের আটক করে বিভিন্নভাবে শ্লীলতাহানি করছে। কেড়ে নিচ্ছে টাকা-পয়সাসহ মোবাইল সেট। খুলনার এরশাদ সিকদারের ভূমিকা পালন করছে চাঁদাবাজ মামুন বাহিনী।

অভিযোগ রয়েছে, গত দু’দিনে স্থানীয় জয়নাল আবেদীনের কাছ থেকে ১৫ হাজার, গোলাপী বেগমের কাছ থেকে ৮ হাজার, আবদুর রশিদের কাছ থেকে ৫ হাজার, চা দোকানদার দিলদারের কাছ থেকে ৪ হাজার, বাবুল মিয়ার কাছ থেকে ৮ হাজার, সুরুজ মিয়ার কাছ থেকে ৫০ হাজার, খোরশেদ মিয়ার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা আদায় করেছে তারা।

এছাড়া চাঁদা না দেওয়ায় মুসা ও হানিফ নামে দুজনকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রূপসী কলাবাগানসহ আশপাশের এলাকার শত শত নারী-পুরুষ লাঠিসোটা নিয়ে চাঁন্দা মামুন বাহিনীর বিরুদ্ধে দফায় দফায় বিক্ষোভ করে। সংবাদ পেয়ে রূপগঞ্জ থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চাঁন্দা মামুন বাহিনীর অন্যতম সদস্য রিপন ও আশরাফুল নামে দুই চাঁদাবাজকে আটক করে।

পরে এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর কাছে গিয়ে অভিযোগ করে। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে সংসদ সদস্য নিজে চাঁন্দা মামুনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজসহ অপরাধীদের কোনো ছাড় নেই। অপরাধীরা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

 

কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় ২ জনের ফাঁসি
                                  

নব আলো:কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুরে দিঘলকান্দী গ্রামের আলোচিত সবুজ হত্যা মামলায় দুইজনের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় মামলার বাদী ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে কুষ্টিয়া জজকোর্টের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রেজা মো. আলমগীর এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- দিঘলকান্দী এলাকার আমির উদ্দিনের ছেলে রুবেল এবং একই এলাকার মুরার ছেলে সুজন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর রুবেল ও সুজন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সবুজকে হত্যা করে। এই ঘটনায় নিহতের চাচা মনিরুল ইসলাম (মন্টু মাস্টার) বাদী হয়ে ১০/০৯/২০১১ইং তারিখে দৌলতপুর থানায় রুবেল ও সুজনসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ভাড়াটিয়াদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বন্ধে হাইকোর্টে রিট
                                  

নব আলো:ঢাকার বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে ভাড়াটিয়াদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশনা চেযে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে একটি রিট করেছেন সুপ্রিমকোর্টের একজন আইনজীবী। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে সংশ্লিষ্ট শাখার রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। আগামী রোববার রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রিটকারী।

 

এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, ‘আইন মেনে চলা একজন নাগরিক হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইনগত সহায়তা করতে আমি ইচ্ছুক। তবে যে সহায়তা তারা চাইছেন তা তাদের আইনগত এখতিয়ারে পড়ে না। এভাবে ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়ার মতো কোনো আইনি সুযোগ পুলিশের নেই।’

তাঁর মতে, ‘এসব তথ্যের অপব্যবহার হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া এসব তথ্য যদি কোনো ভুল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে পড়ে, তাহলে ব্যক্তির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।’

সংবিধানে নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার যে অধিকার দেওয়া হয়েছে পুলিশের এ উদ্যোগে তাও ভঙ্গ হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি রিট আবেদনটি করেছেন বলেও জানান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে এক পৃষ্ঠার যে ফরম মালিকদের মাধ্যমে ভাড়াটিয়াদের পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে, সেখানে ভাড়াটিয়ার ছবির পাশাপাশি তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, ফোন নম্বর, জন্ম তারিখসহ বাসার বাসিন্দা এবং গৃহকর্মী ও ড্রাইভারের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এর আগে, গত মঙ্গলবার (১-৩-২০১৬) ঢাকার বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে পুলিশ যেন ভাড়াটিয়াদের ব্যক্তিগত তথ্য না নেয়, সে জন্য আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। এ বিষয়ে ব্যারিস্টার জ্যের্তিময় বড়ুয়া বলেন, ‘পুলিশ এভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে না। এসব তথ্য সংরক্ষণের কোনো বিধান বাংলাদেশে নেই।

নোটিশে বলা হয়, ব্যাংক একাউন্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট তৈরির সময় কিছু তথ্য দিতে হয়। কিন্তু সেখানে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য পুলিশের নেয়ার কোনো আইন নেই। ফৌজদারি কার্যবিধি মোতাবেক শুধুমাত্র কোনো আদালত চাইলে তথ্য দিতে হয়। পুলিশের এসব তথ্য সংগ্রহ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অপরাধ ভঙ্গের পর্যায়ে পড়ে। যেহেতু দেশে তথ্য সংরক্ষণের আইন নেই ফলে এসব তথ্যর অপব্যবহারের আশংকা রয়েছে। পুলিশের কাছে এসব তথ্য থাকা বিপদজনক বলেও তিনি জানান।

সাত খুন মামলায় বিউটির সাক্ষ্য গ্রহণ, অসমাপ্ত সাক্ষ্যগ্রহণ ১০ মার্চ
                                  

নব আলো: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের দুই মামলার একটির বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটির সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ সময় আসামি নূর হোসেন, তারেক সাইদ ও এমএম রানার পক্ষে তাঁদের আইনজীবীরা সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত ১০ মার্চ অসমাপ্ত সাক্ষ্য নেওয়ার সময় দেন। বৃহস্পতিবার (০৩ মার্চ) নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে বাদী বিউটির সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

সেলিনা ইসলাম বিউটি হলেন, নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জনকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাজির করা হয়। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, গতকাল ৩২ জন আসামিকে আইনজীবীরা জেরা করেছেন।

এ সময় নূর হোসেন, তারেক সাইদ ও এমএম রানার পক্ষে তাঁদের আইনজীবীরা সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত ১০ মার্চ অসমাপ্ত সাক্ষ্য নেওয়ার সময় দেন। কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দুই মামলার দু’জন বাদী বিজয় পাল ও সেলিনা ইসলাম বিউটির সাক্ষ্য নেওয়ার করার কথা থাকলেও আদালত বিউটির সাক্ষ্য নেওয়ার তারিখ ৩ মার্চ নির্ধারণ করা হয়।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তাঁর বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

কিন্তু অভিযোগপত্র থেকে পাঁচ আসামিকে বাদ দেওয়ায় ও প্রধান আসামি নূর হোসেনের জবানবন্দি ছাড়া অভিযোগপত্র আদালত আমলে নেওয়ায় নারাজি আবেদন করেন সেলিনা ইসলাম বিউটি। আবেদনটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জজ আদালতে খারিজ হয়ে গেলে বিউটি উচ্চ আদালতে যান। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, পুলিশ চাইলে মামলাটির অধিকতর তদন্ত করতে পারে এবং হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার ধারা যুক্ত করে নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। আর চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে এখনো ১২ জন পলাতক রয়েছেন। গত ১২ নভেম্বর নূর হোসেনকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর ১৩ নভেম্বর সাত খুনের দুটি মামলাসহ ১১ মামলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার দেখায়। ১১টি মামলার মধ্যে সাত খুনের দুটি মামলা, চাঁদাবাজির তিনটি ও অস্ত্র আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগের মামলা রয়েছে।

পরকীয়ার জেরে দুই শিশুকে হত্যা
                                  

নব আলো: সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা, পরকীয়া, অর্থ-সম্পত্তির লোভ প্রভৃতির জেরেই রাজধানীর বনশ্রীতে ভাই-বোন অরনী ও আলভীকে নিজের ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন তাদের মা মাহফুজা মালেক জেসমিন। র‌্যাবের হেফাজতে নেওয়ার পর সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই এমনটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (০৩ মার্চ) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব জানায়, মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ মনে হলেও জেসমিনই তার দুই সন্তানকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেছেন, সন্তানদের শিক্ষা নিয়ে তার উদ্বেগ থেকেই এই হত্যাকান্ড। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে র‌্যাবের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান। মুফতি জানান, ঘটনার দিন বিকেল ৫টার দিকে মা জেসমিন আক্তার মেয়েকে নিজের ঘরে নিয়ে ওড়না দিয়ে প্রথমে মেয়েকে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। মেয়ে অরনীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে নিচে পড়ে যায়। এ সময় তিনি মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে একইভাবে ছেলেকে হত্যা করেন।

এদিকে, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে বলেন, মাহফুজা মালেক জেসমিনের পারিবারিক কলহ, মানসিক বৈকল্য, বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক, অর্থ-সম্পত্তির লোভ প্রভৃতিই এ হত্যাকান্ডের প্রধান কারণ। সংবাদ সম্মেলনে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ঘটনার পর জেসমিন জানিয়েছিলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তাদের বিবাহবার্ষিকী ছিলো।

তাদের ১৪তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে তারা বনশ্রীর কিন্ট চায়নিজ রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেতে যান। খাওয়ার পর অবশিষ্ট খাবার সঙ্গে করে নিয়ে বাসায় আসেন তারা। ওই খাবার খেয়ে ভাই-বোন অসুস্থ হয়ে পড়লে শিশু দু’টিকে প্রথমে আল রাজী হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু দু’টিকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুফতি আরও বলেন, মৃত্যুর মূল কারণ কি তা জানতে ময়নাতদন্ত করার কথা বললে ওই মা বারবার নিষেধ করেন। তার নিষেধ না শুনেই শিশুদের ময়নাতদন্ত করা হয়। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী শিশু দু’টিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে ও তাদের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে র‌্যাব তদন্ত শুরু করে। এই হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটনে পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

এরা হলেন অরনী ও আলভীর গৃহ শিক্ষিকা শিউলি আক্তার (২৮), খালু নজরুল ইসলামের ভাগনে শাহিন (২২), মেয়ের মার মামাতো ভাই মো. ওবায়দুর ইসলাম (৩৪), বাসার দুই দারোয়ান পিন্টু মন্ডল (৩২), ফেরদৌস (২৮)। পরে দুই সন্তানের দাফন শেষে জামালপুর থেকে বাবা ও মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে শিশু দু’টির মা জেসমিন জানান, সন্তানদের স্কুলের পরীক্ষার ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় থাকতেন তিনি। তার ধারণা ছিলো, তার সন্তানরা বড় হয়ে কিছুই করতে পারবে না। তাই তিনি ২৯ ফেব্রুয়ারি মেয়ের গৃহশিক্ষিকা চলে যাওয়ার পর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে অরনীকে নিয়ে নিজের ঘরে ঘুমাতে যান। একই সময়ে আলভী বিছানাতেই ঘুমাচ্ছিলো। জেসমিন ছেলের সঙ্গে একই বিছানায় শুয়েছিলেন।

অরনী মায়ের সঙ্গে ঘুমানোর জন্য বিছানায় শোয়ার কিছু সময় পর মা জেসমিন তার মেয়ে অরনীকে ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে মা-মেয়ে দু’জনেই বিছানা থেকে মেঝেতে পড়ে যান। কিছু সময় পর মেয়ের শরীর নিস্তেজ হয়ে গেলে তিনি তার ছোট ছেলে আলভীকে খাটের উপর ঘুমন্ত অবস্থায় একইভাবে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি মরদেহ দু’টির সামনে কিছু সময় ধরে কান্নাকাটি করেন বলেও স্বীকারোক্তি দেন।

পরে এ হত্যাকান্ড লুকাতে তিনি নিজেই একটি গল্প তৈরি করেন। সেই অনুযায়ী সাজিয়ে গুছিয়ে প্রচার করেন, দুপুরে খাবার খেয়ে ঘুমানোর পর তার ছেলে-মেয়েরা আর ঘুম থেকে ওঠেনি। খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

সাক্ষী না আসায় নূর হোসেনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য পেছালো
                                  

নব আলো:আদালত নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি অস্ত্র মামলায় সাক্ষী না আসায় সাক্ষ্য গ্রহণ পিছিয়ে আগামী ১৩ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন। বুধবার (০২ মার্চ) সকালে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক কামরুন নাহার এ আদেশ দেন। এদিকে নূর হোসেনকে ডান্ডাবেড়ি না পরিয়ে আদালতে হাজির করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাত খুনের দুই মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী।

অতিরিক্ত সহকারী কৌঁসুলি কেএম ফজলুর রহমান বলেন, ২০১৪ সালের এপ্রিলে সাত খুনের ঘটনার পর এই মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে গেলে সরকার তাঁর বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করে। পরবর্তী সময়ে নূর হোসেনের সিদ্ধিরগঞ্জের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও একটি অস্ত্র জমা না দেওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে আরও দুটি মামলা করে। তদন্ত শেষে পুলিশ বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে বিচারের জন্য মামলাগুলো অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে পাঠানো হয়। এই আদালতে অভিযোগ গঠন শেষে ওই তিন মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আজকের দিন (বুধবার) ধার্য করা হয়েছিল।

এদিকে নূর হোসেনকে ডান্ডাবেড়ি না পরিয়ে আদালতে হাজির করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাত খুনের দুটি মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেন, নূর হোসেনের বিরুদ্ধে অর্ধডজনের মতো মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে একটি মামলায় তাঁর এক বছরের কারাদন্ড হয়েছে। অথচ তাঁকে কোনো ডান্ডাবেড়ি পরানো হয়নি। অস্ত্র মামলায় যেভাবে নূর হোসেনকে আদালতে আনা হয়েছে, তাতে মনে হয়েছে তিনি সাবেক একজন মন্ত্রী, তাঁকে জামাই আদরে ভিআইপির মতো আদালতে হাজির করা হয়েছে।

লাকসামে স্কুলছাত্র নিহতের ঘটনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা
                                  

প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধনে এলাকার নারী, পুরুষ, স্কুলের ছাত্রছাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এতে অংশ নেয়। মানববন্ধন শেষে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন মুদাফরগঞ্জ ইউপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সামছুল আলম ভূঁইয়া, ইউপি সদস্য হাসান আহমেদ খোকন, কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি খোরশেদ আলম ভূঁইয়া, ইউপি যুবলীগের প্রচার সম্পাদক আবুল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আবুল কাসেম, ছাত্রলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন, মাষ্টার ইয়াসিন, আবদুর রশিদ, সফিকুর রহমান, আমান উল্লাহ আমান, কবির হোসেন, নুর মোহাম্মদ, দেলোয়ার হোসেন, জাগির হোসেন, আলী আহমেদ গাজী প্রমূখ।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন মুদাফরগঞ্জ ইউপির নিশ্চিন্তপুর গ্রামের জিয়াউল হক তার ইরি ক্ষেতে ইদুঁর মারার জন্য পল্লী বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ দিয়ে রাখে। গত মঙ্গলবার দুপুরে ওই ধান ক্ষেতের পাশে ঘাস কাটতে গেলে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে স্থানীয় বামন্ডা গ্রামের আবদুল বারেকের বড় ছেলে মুদাফরগঞ্জ আলী নোয়াব স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র রাসেল হোসেন (১৪) মারা যায়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ রাসেল বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়লে জিয়াউল হক ও তার বাড়ীর লোকজন দেখে রাসেলকে পাশের একটি ডোবায় ফেলে রাখে। এতেই তার মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবাদ সভায় বক্তারা জিয়াউল হকের শাস্তি দাবী করেছেন। পরে জিয়াউল হকের একটি কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয় এবং প্রকিবাদ সভা শেষে একটি মিছিল বের হয়।

সাত খুনের সাক্ষ্য শুরু
                                  

বাদীর জবানবন্দি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের দুই মামলায় সাক্ষ্য নেওয়া শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ এনায়েত হোসেনের আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় বলে পিপি এসএম ওয়াজেদ আলী খোকন জানান।

এ মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ দুই মামলায় গ্রেফতার থাকা ২৩ জনকে সকাল ১০টার দিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের দিন থাকলেও আসামি তারেক সাঈদকে আদালতে হাজির না করায় তা পিছিয়ে যায়।পিপি ওয়াজেদ আলী বলেন, আইনজীবী চন্দন সরকার ও তাঁর গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যা মামলার বাদী বিজয় কুমার পাল সবার আগে সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন। পরে অন্য মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটির সাক্ষ্য গ্রহণ করার কথা রয়েছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ দুই মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আদালত। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাঁদের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহত নজরুলের স্ত্রী বিউটি ও বিজয় কুমার পাল মামলা দুটি দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।কিন্তু অভিযোগপত্র থেকে পাঁচ আসামিকে বাদ দেওয়ায় এবং প্রধান আসামি নূর হোসেনের জবানবন্দি ছাড়া অভিযোগপত্র আদালত আমলে নেওয়ায় ‘নারাজি’ আবেদন করেন সেলিনা ইসলাম বিউটি।

আবেদনটি বিচারিক হাকিম আদালত ও জজ আদালতে খারিজ হয়ে গেলে বিউটি উচ্চ আদালতে যান। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, পুলিশ চাইলে মামলাটির ‘অধিকতর তদন্ত’ করতে পারে এবং ‘হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার’ ধারা যুক্ত করে নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারে।

এ মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। নূর হোসেন ছাড়া বাকিরা হলেন- সামরিক বাহিনী থেকে বরখাস্ত তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, এমএম রানা ও আরিফ হোসেন, র‌্যাব সদস্য এসআই পূর্ণেন্দু বালা, এএসআই বজলুর রহমান ও আবুল কালাম আজাদ, হাবিলদার এমদাদুল হক ও নাসির উদ্দিন, কনস্টেবল শিহাব উদ্দিন ও বাবুল হাসান, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, ল্যান্সনায়েক হীরা মিয়া, বেলাল হোসেন, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন, সিপাহী আবু তৈয়ব, নুরুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান নূর এবং নূর হোসেনের সহযোগী মোর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দীপু, রহম আলী ও আবুল বাশার।

র‌্যাবের সার্জেন্ট এনামুল কবীর, এএসআই কামাল হোসেন, কর্পোরাল মোখলেছুর রহমান, সৈনিক আবদুল আলিম, মহিউদ্দিন মুন্সী, আল আমিন শরীফ, তাজুল ইসলাম ও কনস্টেবল হাবিবুর রহমান পলাতক। এছাড়া নূর হোসেনের আরেক সহযোগী বন্দর উপজেলার কুড়িপাড়া এলাকার সেলিম ভারতের কারাগারে আটক রয়েছেন।

ভারতে ১৪ নারী-শিশু খুনের পর আত্মহত্যা
                                  

পুলিশের উদ্বৃতি দিয়ে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, সবাইকে খুনের আগে ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়েছিল। পরে ধারালো ছুরি দিয়ে নারী-শিশু সবাইকে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতক। নিহতদের মধ্যে রয়েছে সাত শিশু এবং ছয় নারী।

পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির ভেতরে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকা একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। ওই ব্যক্তির আনুমানিক বয়স হবে ৩২ বছর। ওই যুবকের হাতে একটি ছুরিও পাওয়া পাওয়া গেছে।  পুলিশের ধারণা, ফাঁসির দড়িতে ঝুলে থাকা এ যুবকই ১৪ খুনে জড়িত।

সন্দেহভাজন এ ঘাতকের সঙ্গে নিহতদের সম্পর্ক রয়েছে কি না তা নিয়ে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। পুলিশের ধারণা, ওই পরিবারের সঙ্গে খুনির সম্পর্ক রয়েছে। পারিবারিক সম্পদ নিয়ে বিবাদের জের ধরেই নৃশংস এ হত্যাযজ্ঞ ঘটানো হয়েছে। এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পৈশাচিক এ হত্যাযজ্ঞ থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেচেঁ যান ওই পরিবারের এক নারী সদস্য। তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বন্ধ করতে হবে জঙ্গিবাদের টাকার জোগান
                                  

জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পেছনে সবচেয়ে বেশি কাজ করে অর্থ ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা। কখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে, কখনো অরাষ্ট্রীয়ভাবে। পৃষ্ঠপোষকতার ধরন যা-ই হোক না কেন, অর্থ ব্যতীত জঙ্গি ও সন্ত্রাস চলতে পারে না জানিয়ে এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, অক্সিজেনের অভাবে যেমন জীবন বাঁচতে পারে না, অর্থ না পেলে জঙ্গিত্ব শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়।

অর্থই হচ্ছে জঙ্গিবাদের অক্সিজেন। তাই জঙ্গিবাদের এত টাকার উৎস কি এবং জোগান কোথা থেকে আসে তা আগে বের করতে হবে এবং কঠোরভাবে সে পথ রোধ করতে হবে। শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরে অবস্থিত হোটেল সিক্স সিজনসে ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট, ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (আই ক্ল্যাডস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বিস্তারে বিদেশিদের হাত’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অতীতে জঙ্গিবাদের জন্য অর্থ জোগানোর পেছনে বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রবহির্ভূত শক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ভ‚রাজনৈতিক স্বার্থ, আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিদ্বন্দ্বি রাষ্ট্রকে ঘায়েল করার জন্য জঙ্গির ব্যবহার প্রক্সিযুদ্ধ নামে পরিচিতি পেয়েছে। ইরান, পাকিস্তান ও লিবিয়াসহ অনেক রাষ্ট্রকে জঙ্গি সহায়তার জন্য অভিযুক্ত হতে হয়েছে। কিন্তু আমরা আমাদের সোনার বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেখতে চাই না।

বক্তারা আরও বলেন, বিএনপির মতো একটি শক্তিশালী দলের লোকজন বিবেকহীনের মতো জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছে, যা সাধারণ মানুষকে দারুণভাবে শঙ্কিত করেছে। রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্তদের এ ধরনের জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি বাংলাদেশের সাধারণ বিবেকবান মানুষকে ভীষণভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। বিএনপির গায়ে জঙ্গি পৃষ্ঠপোষকতার কালি ভালোভাবেই লেপ্টে আছে মন্তব্য করে বক্তারা বলেন, গত বছরের শুরুতে ৯০ দিনের লাগাতার অবরোধ ও হরতালের সময় বাছবিচার ছাড়াই পেট্রলবোমা ছুড়ে নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্যতা পেয়েছে মানুষের মনে।

তখনও দলটির বড় নেতাদের বিরুদ্ধে আগুনবোমার হামলাকারীদের অর্থ জোগানের অভিযোগ এসেছে। গণতন্ত্রের পথ ধরে চলা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গোপন জঙ্গি দলের সংশ্লিষ্টতা স্বভাবতই দেশ ও মানুষের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তৎকালীন সময়ে জেএমবির উত্থান এবং ভয়াবহ হামলার পেছনে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেশে ও বিদেশে তীব্র সমালোচনার ঝড় তোলে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, জঙ্গিবাদের অর্থের প্রধান উৎস এখনও দেশের ভেতরে ও বাইরে অবস্থিত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী দলীয়ভাবে ও ব্যক্তি পর্যায়ে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো থেকে ইসলামি উম্মাহর নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিল, যা ব্যাংক, বীমা, হাসপাতাল, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন লাভজনক ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।

বক্তারা বলেন, করপোরেট জাকাত এবং করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটির নামে কোম্পানিগুলোর মুনাফার একটি অংশ জঙ্গিবাদ ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যয় করা হয়। মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিশ্বের ধনী মুসলিমদের কাছ থেকে জাকাত সংগ্রহের জন্য সুপরিকল্পিতভাবে নেটওয়ার্ক বিস্তার করা হয়েছে। এখান থেকে অচিন্তনীয় পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ হয়ে থাকে। তাছাড়া দেশি ও আন্তর্জাতিক এনজিওর নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করা হয়েছে।

ইসলামের কাজে ব্যয়ের জন্য দান-খয়রাতের টাকা সংগ্রহ করে সরিয়ে ফেলা অর্থ জঙ্গিদের হাতে চলে যায়। প্রবাসী বাঙালিদের কাছ থেকেও নিয়মিত চাঁদা, জাকাত ও সদকায়ে জারিয়ার নামে টাকা সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশে কর্মরত দেশি-বিদেশি জঙ্গি কর্মকান্ডে জড়িত এনজিওগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর চেয়ে ক্রমান্বয়ে তাদের কর্মকান্ড বন্ধ করে দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে অর্থ সংগ্রহের পথ বন্ধ করা দুষ্কর।

কারণ ব্যক্তির আয় সংস্থানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সাংগঠনিক ভিত্তির কাঠামো পরিবর্তন ছাড়া এটা সম্ভবও নয়। বাংলাদেশের জঙ্গি অর্থায়নের নেটওয়ার্ক খুব সুবিস্তৃত ও গভীরে নিহিত। তবে সরকারের এ বিষয়ে বহুমুখী ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাই জঙ্গি অর্থের জোগানের পথ সম্পূর্ণভাবে উৎপাটন করতে পারে।

একাত্তর টেলিভিশনের মিথিলা ফারজানার সঞ্চালনা এবং সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার মোহাম্মদ জমিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট, ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিসের (আই ক্লডস) নির্বাহী পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. আবদুর রশীদ, খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ দারা, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, বাংলদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, সিনিয়র সাংবাদিক আবেদ খান প্রমুখ।

মীর কাসেমের রায় দেখে ব্যবস্থা : আইনমন্ত্রী
                                  

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদ-াদেশ পাওয়া জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর আপিলের রায় দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরদের যোগ্যতা নিয়ে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলার তিন দিন পর তিনি এ কথা বলেন।

আজ শনিবার ঢাকা চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাট্রিজে ‘দ্য রোল অব সার্কো অ্যাজ অন আরবিট্রেশন সেন্টার ইন দি রিজন’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন আইনমন্ত্রী।

সেমিনারে মূল প্রবদ্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ফিদা এম কামাল। এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘মীর কাসেম আলীর রায়ে প্রসিকিউটরদের অযোগ্যতাবিষয়ক মন্তব্যের বিষয়ে সরাসরি কিছু জানি না। খবরের কাগজের মাধ্যমে বিষয়টি নজরে এসেছে। তবে প্রয়োজন হলে কী বিষয়ে তিনি পয়েন্ট আউট করতে চেয়েছেন, তা জানার চেষ্টা করব। এরপর যদি কোনো ব্যবস্থা নিতে হয়, তবে রায় দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে গত বুধবার একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসের আলীর আপিলের রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৮ মার্চ দিন নির্ধারণ করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

ওইদিন (বুধবার) মীর কাসেমের বিরুদ্ধে মামলাটির তদন্ত ও পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষের গাফিলতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। এর আগে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার সম্প্রসারণ হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরে কিংবা বহির্বিশ্বের সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্যে কিছু আর্থিক বিরোধ রয়েছে।

সারাবিশ্বে বর্তমানে এ বিরোধের পরিমাণ ৬০০ বিলিয়ন ডলার। আর বাংলাদেশে এর পরিমাণ ৪০০ মিলিয়ন ডলার। মামলার মাধ্যমে এ অর্থের নিষ্পত্তি করতে গেলে হয়তো কিছু সময় লাগবে। তাই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিকল্প বিরোধের ক্ষেত্রে অর্থ ও সময়ের সাশ্রয় হয়। এক্ষেত্রে প্রয়োজন আত্মবিশ্বাসের। বক্তারা সরকারের নীতি যুগোপযুগী করার পরামর্শ দেন।


   Page 1 of 2
    
জমে উঠেছে সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচন
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
নিজামীর মৃত্যু পরোয়ানা জারি
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
মিল্কি হত্যা : পলাতক ছয় জনকে গ্রেফতারের নির্দেশ
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
মালিক-ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহ বন্ধে রিট খারিজ রবিবার
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
মীর কাসেম অালীর ফাঁসি বহাল রেখেছেন আদালত
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
রূপগঞ্জে সন্ত্রাসীকে পুলিশে দিলেন এমপি
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় ২ জনের ফাঁসি
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
ভাড়াটিয়াদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বন্ধে হাইকোর্টে রিট
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
সাত খুন মামলায় বিউটির সাক্ষ্য গ্রহণ, অসমাপ্ত সাক্ষ্যগ্রহণ ১০ মার্চ
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
পরকীয়ার জেরে দুই শিশুকে হত্যা
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
সাক্ষী না আসায় নূর হোসেনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য পেছালো
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
লাকসামে স্কুলছাত্র নিহতের ঘটনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
সাত খুনের সাক্ষ্য শুরু
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
ভারতে ১৪ নারী-শিশু খুনের পর আত্মহত্যা
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
বন্ধ করতে হবে জঙ্গিবাদের টাকার জোগান
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
মীর কাসেমের রায় দেখে ব্যবস্থা : আইনমন্ত্রী
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়, নিজামী-মীর কাসেম চূড়ান্ত পরিণতির অপেক্ষায়
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
ঢাকা বারে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
অভিজিৎ হত্যা: ১ বছরেও কোনো গ্রেফতার নেই
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
শিশু ধর্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
ঢাকা বারের ভোটগ্রহণ চলছে
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
মীর কাসেমের আপিল শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন চলছে
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
ঢাকা বারের নির্বাচন ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
রিমান্ড শেষে কারাগারে ব-দ্বীপ প্রকাশনীর বিপণন কর্মকর্তা শামসুল
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ বিচারে পারস্পরিক সহায়তা
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
মীর কাসেম আলির আপিল শুনানি চলছে
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
আইনজ্ঞ মাহমুদুল ইসলামের ইন্তেকাল
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নেয়া পদক্ষেপ জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
ইউপি নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
১৫ নয়, ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের সুপারিশ
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......