-
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
চলনবিলে হাঁসের খামার

নোবো আলো:দেশের সর্ববৃহৎ বিল চলনবিলের অধীন নাটোরের সিংড়ায় বদলে গেছে সাধারণ মানুষের জীবনধারা। এ অঞ্চলের মানুষ বছরে চার মাস কাজ আর একটিমাত্র ফসলের ওপর নির্ভরশীল। তাই তাদের সংসার চালানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়তো।

একসময় পরিবারের মাংস ও ডিমের চাহিদা মেটানোর জন্য ঘরেই নারীদের হাঁস পালন করতে দেখা যেত। বিলে উচ্ছিষ্ট বোরো ধান ও শামুক হাঁসের প্রধান খাদ্য। বিল অঞ্চল হিসেবে বিলে উচ্ছিষ্ট বোরো ধান ও শামুক খাওয়ার কারণে হাঁসগুলোকে আলাদা করে খাদ্য দিতে হয় না।

প্রাকৃতিকভাবে খাবার মেটানো যায় বলে খরচ কম হয়। আর অল্প টাকা বিনিয়োগে ব্যবসা সফল হওয়ায় বর্তমানে পুরুষরাই বিকল্প পেশা ও বেকারত্বের সমস্যা দূর করার জন্য কর্মসংস্থান হিসেবে অস্থায়ী খামার গড়ে হাঁস পালনের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। এতে অনেকেই পেয়েছেন সচ্ছলতা। সিংড়া উপজেলায় উৎপাদিত ডিম রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।

ডিমের আড়তদাররা প্রতিদিন এ অঞ্চলের অস্থায়ী খামার থেকে কয়েক হাজার ডিম কেনেন এবং তা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন। এ উপজেলায় ৮০টি হাঁসের খামার রয়েছে। বছরে ডিম উৎপাদন হয় ১ কোটি ১৩ লাখ। সারা বছর রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, তীব্র শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে চলনবিল এলাকায় অস্থায়ী খামারে হাঁস পালন করে এখানকার অর্ধশতাধিক পরিবারে লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া।

চলনবিলে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি হাঁসের খামার। এসব খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েকশ’ লোকের। বছরের পুরো সময় অস্থায়ী খামার গড়ে হাঁস পালনের জন্য সমিতি থেকে ঋণ নেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু হাঁসের ডিম বিক্রি করেই সংসারের খরচপাতিসহ চলছে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা। অন্যদিকে কমছে ঋণের বোঝাও। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ ধরনের খামার থেকে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে।

উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার অদূরে প্রায় আড়াই কিলোমিটার কর্দমাক্ত পথ পেরোলে স্থানীয় কলম ইউনিয়নের কালিনগর গ্রাম। এ গ্রামে আলেক হোসেন গত ১৫ বছর ধরে হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার উপার্জনেই সংসার চলে। এটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা।

বর্তমানে তার অস্থায়ী খামারে ৭শ’রও বেশি হাঁস রয়েছে। হাঁসগুলো প্রতিদিন ৩শ’ থেকে ৪শ’টি ডিম দেয়। এসব ডিম তিনি ৯শ’ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

একই ইউনিয়নের নাছিয়ারকান্দি গ্রামের আমজাদ হোসেন প্রায় ৭ বছর ধরে এ পেশায় জড়িত। তার অস্থায়ী খামারে হাঁসের সংখ্যা প্রায় ৬শ’। বলিয়াবাড়ী গ্রামের আ. মালেক সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে হাঁস পালন করছেন। অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা এসব খামারের হাঁস মূলত বিলের শামুক খেয়ে বেঁচে থাকে। এসব হাঁসের রোগ-বালাইয়ে শুধু মাঝে মধ্যে ভ্যাকসিন দিতে হয়।

চলনবিলে হাঁসের খামার
                                  

নোবো আলো:দেশের সর্ববৃহৎ বিল চলনবিলের অধীন নাটোরের সিংড়ায় বদলে গেছে সাধারণ মানুষের জীবনধারা। এ অঞ্চলের মানুষ বছরে চার মাস কাজ আর একটিমাত্র ফসলের ওপর নির্ভরশীল। তাই তাদের সংসার চালানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়তো।

একসময় পরিবারের মাংস ও ডিমের চাহিদা মেটানোর জন্য ঘরেই নারীদের হাঁস পালন করতে দেখা যেত। বিলে উচ্ছিষ্ট বোরো ধান ও শামুক হাঁসের প্রধান খাদ্য। বিল অঞ্চল হিসেবে বিলে উচ্ছিষ্ট বোরো ধান ও শামুক খাওয়ার কারণে হাঁসগুলোকে আলাদা করে খাদ্য দিতে হয় না।

প্রাকৃতিকভাবে খাবার মেটানো যায় বলে খরচ কম হয়। আর অল্প টাকা বিনিয়োগে ব্যবসা সফল হওয়ায় বর্তমানে পুরুষরাই বিকল্প পেশা ও বেকারত্বের সমস্যা দূর করার জন্য কর্মসংস্থান হিসেবে অস্থায়ী খামার গড়ে হাঁস পালনের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। এতে অনেকেই পেয়েছেন সচ্ছলতা। সিংড়া উপজেলায় উৎপাদিত ডিম রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।

ডিমের আড়তদাররা প্রতিদিন এ অঞ্চলের অস্থায়ী খামার থেকে কয়েক হাজার ডিম কেনেন এবং তা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন। এ উপজেলায় ৮০টি হাঁসের খামার রয়েছে। বছরে ডিম উৎপাদন হয় ১ কোটি ১৩ লাখ। সারা বছর রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, তীব্র শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে চলনবিল এলাকায় অস্থায়ী খামারে হাঁস পালন করে এখানকার অর্ধশতাধিক পরিবারে লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া।

চলনবিলে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি হাঁসের খামার। এসব খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েকশ’ লোকের। বছরের পুরো সময় অস্থায়ী খামার গড়ে হাঁস পালনের জন্য সমিতি থেকে ঋণ নেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু হাঁসের ডিম বিক্রি করেই সংসারের খরচপাতিসহ চলছে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা। অন্যদিকে কমছে ঋণের বোঝাও। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ ধরনের খামার থেকে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে।

উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার অদূরে প্রায় আড়াই কিলোমিটার কর্দমাক্ত পথ পেরোলে স্থানীয় কলম ইউনিয়নের কালিনগর গ্রাম। এ গ্রামে আলেক হোসেন গত ১৫ বছর ধরে হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার উপার্জনেই সংসার চলে। এটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা।

বর্তমানে তার অস্থায়ী খামারে ৭শ’রও বেশি হাঁস রয়েছে। হাঁসগুলো প্রতিদিন ৩শ’ থেকে ৪শ’টি ডিম দেয়। এসব ডিম তিনি ৯শ’ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

একই ইউনিয়নের নাছিয়ারকান্দি গ্রামের আমজাদ হোসেন প্রায় ৭ বছর ধরে এ পেশায় জড়িত। তার অস্থায়ী খামারে হাঁসের সংখ্যা প্রায় ৬শ’। বলিয়াবাড়ী গ্রামের আ. মালেক সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে হাঁস পালন করছেন। অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা এসব খামারের হাঁস মূলত বিলের শামুক খেয়ে বেঁচে থাকে। এসব হাঁসের রোগ-বালাইয়ে শুধু মাঝে মধ্যে ভ্যাকসিন দিতে হয়।

মুকুলে ছেয়ে গেছে লিচু গাছ
                                  

নব আলো:লিচুর জন্য বিখ্যাত দিনাজপুর। এখানকার লিচু সুস্বাদু ও মিষ্টি। লিচু হলো বিশ্বের সবচেয়ে রোমান্টিক ফল। প্রায় দুই হাজার বছর ধরে ফলটি এ মর্যাদা পেয়ে আসছে। বিশ্বে প্রথম ফল চাষের বই লেখা হয়েছিল ১০৫৬ সালে, সেটিও ছিল লিচুকে নিয়ে। বিশ্বের অনেক রাজা-বাদশাহ রানী-বেগমদের মন জয় করতে যুগে যুগে লিচু ফল উপহার দিয়েছেন।

অষ্টম শতকে চীনা সম্রাট হুয়ান সাংও একই কাজ করে বেগমের মন জয় করেছিলেন, দক্ষিণ চীন থেকে লিচু বয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন সুদূর উত্তর চীনে। মৌসুমের শুরুতেই দিনাজপুরে থোকা থোকা মুকুলে ছেয়ে গেছে লিচু গাছ। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার লিচু গাছগুলোতে অনেক বেশি মুকুল এসেছে। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলনের আশা করছেন লিচু চাষিরা। বাম্পার ফলনের আশা নিয়ে গাছের পরিচর্যা শুরু করেছেন তাঁরা।

দিনাজপুরের লিচু দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে সুস্বাদু ও মিষ্টি, তাই দেশব্যাপী এর চাহিদা বেশি। বিজ্ঞানীরা নানা জাতের লিচু উদ্ভাবন করেছেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বের করেছে লিচুর তিনটি জাত। এ দেশে যেসব জাতের লিচু পাওয়া যায় সেগুলো হলো- বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না-৩, মঙ্গলবাড়ি, মোজাফ্ফরপুরী, বেদানা লিচু, বারি লিচু-১, বারি লিচু-২, বারি লিচু-৩ ইত্যাদি। বোম্বাই লিচু টকটকে লাল, মাদ্রাজি আগাম জাত, সবচেয়ে ভালো জাত চায়না-৩।

এই জাতের গাছে প্রতি বছরই ভালো ফল ধরে। বেদানা নাবী জাত। বারি লিচু-১ আগাম জাত, বারি লিচু-৩ মাঝ মৌসুমি জাত। কিন্তু বারি লিচু-২ নাবী জাত। লাগানোর জন্য এসব জাত থেকে যে কোনো জাত নির্বাচন করা যেতে পারে। সাধারণত লিচু গাছে তিন থেকে ছয় বছর পর ফল ধরে। তবে ২০-৩০ বছর বয়স পর্যন্ত লিচু গাছে ফলন বাড়তে থাকে। সাধারণত প্রতিটি গাছ থেকে বছরে ৮০-১৫০ কেজি বা ৩২০০-৬০০০টি লিচু পাওয়া যায়। তবে এর তারতম্যও দেখা যায়। দিনাজপুর জেলায় বেদেনা, বোম্বাই ও মাদ্রাজি লিচুর চাষ বেশি হলেও বিচি ছোট ও শাঁস বেশি হওয়ায় বর্তমানে চায়না থ্রি জাতের লিচুর চাষ বাড়ছে।

গোলাপের সুঘ্রাণ বিশিষ্ট অপেক্ষাকৃত বড় আকারের ফল উৎপাদনকারী বারি লিচু-৩। এ জাতটি বসতবাড়ীর বাগানের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ফলের শাঁস মাংসল রসালো ও মিষ্টি। বারি লিচু-৪-এর ফলের বীজ খুব ছোট ও ফল মাংসল। ফল খুব মিষ্টি, রসালো ও সুগন্ধযুক্ত। জাতটি বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য উপযোগী। ফল পাকার সময় বাঁদুর পাকা ফলের ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। এ জন্য জাল দিয়ে পাকা ফল সমেত গাছ ঢেকে দেওয়া হয়। সারা রাত্রি ঢোল বা টিন পিটিয়ে বাঁদুর তাড়ানো হয়।

কোথাও কোথাও দুই সারি গাছের মাঝে বড় বড় খোপযুক্ত নাইলনের জাল টানিয়ে দিয়ে বাঁদুর তাড়ানো হয়। দিনাজপুর জেলা সদরের আউলিয়াপুর, মাসিমপুর পুলহাট, সিকদারগঞ্জ ও মহব্বতপুরে বেদেনা লিচু চাষ হয়। এ এলাকার মাটির কারণে বেদেনা লিচু সুস্বাদু ও উন্নতমানের। এছাড়াও হাইব্রিড জাতের চায়না-টু, চায়না-থ্রি ও চায়না-ফোর জাতের লিচুর চাষ হচ্ছে। লিচু গন্ধ ও স্বাদের জন্য দেশ-বিদেশ বেশ জনপ্রিয়। বাংলাদেশে বৃহত্তর রাজশাহী, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম জেলায় বেশি পরিমাণে লিচু উৎপন্ন হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়। মোট উৎপাদন প্রায় ১৩ হাজার টন।

কিন্তু তা আমাদের চাহিদার মাত্র ১/৪ অংশ পূরণ করে। দিনাজপুর সদর উপজেলার মাসিমপুর এলাকায় এবার গাছে ব্যাপক হারে মুকুল ধরেছে। মুকুল গাছে আসার ১৫ দিন পর থেকেই কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। গাছের গোড়া খনন করে পানি দেওয়া হচ্ছে। ২০০৯ সালে জেলায় লিচু চাষের জমির পরিমাণ ছিল ১৫০০ হেক্টর জমিতে। ২০১০ সালে তা দাঁড়ায় ১৭৮০ হেক্টরে। এরপর ২০১১ সালে ১৯৬৫ হেক্টর, ২০১২ সালে ২৫০০ হেক্টর, ২০১৩ সালে ২৭০০ হেক্টর, ২০১৪ সালে ৩৫০০ হেক্টর, ২০১৫ সালে ৩৮০০ হেক্টরে এসে দাঁড়ায়।

চলতি মৌসুমে লিচু চাষে জমির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৪১৩৮ হেক্টর। এবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৮২৮ টন লিচু। আর্দ্র আবহাওয়ায় লিচুর বৃদ্ধি ভালো হয়। পানি নিষ্কাশনের সুবিধা থাকলে লিচু গাছ সব ধরনের মাটিতেই জন্মাতে পারে। তবে উর্বর বেলে দোঁআশ মাটি লিচুর জন্য ভালো। বোলতা, বিছে কামড়ালে এর পাতার রস ব্যবহার করা যায়। কাঁশি, পেটব্যথা, টিউমার  বৃদ্ধি দমনে লিচু অত্যন্ত কার্যকর। লিচুতে ভিটামিন-বি, সি, খনিজ লবণ ও ক্যাসিয়াম প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।


   Page 1 of 1
    
চলনবিলে হাঁসের খামার
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
মুকুলে ছেয়ে গেছে লিচু গাছ
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......