রাজনীতি -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বিএনপি দুর্নীতিতে পাঁচ-পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ছিলো: কাদের

নিজস্বপ্রতিবেদক : বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন- তারা দুর্নীতিতে পাঁচ-পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ছিলো। এখন তারা আবার যদি ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে আবার তারা দুর্নীতিতে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করে।তাদের গঠনতন্ত্র থেকে ৭ ধারা তুলে দিয়ে তাদের দুর্নীতি প্রবন মুখোশ উন্মোচিত করেছে।আজকে এটা পরিস্কার হয়ে গেছে যে, বিএনপি ক্ষমতায় আবার যেতে পারলে তারা দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, দন্ড ছাড়া একজন নেতাও কি নেই, তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা যেতো না? তারা দন্ডিত ব্যক্তিকে, দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিকে, পলাতক ব্যক্তিকে বিএনপির চেয়ারপারসন করার মধ্যদিয়ে এটাই প্রমাণ হলো, এই দল ক্ষমতায় গেলে আবারো বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে। আবারো বাংলাদেশে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেওয়ার পরিকল্পনা তারা বাস্তবায়ন করবে।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকার ঢাকা মাওয়া মহাসড়কে বিআরটিএ’র মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে এসব কথা বলেন।মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তাদের অপরাধ চরিত্র উন্মোচিত হওয়ায় বিএনপির গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে।

তিনি বলেন- বিএনপির চেয়ারপারসন যদি নির্বাচনের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে, সে অবস্থায় বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে আসার কোন সুযোগ সরকারের নেই।
এসময় মহাসড়কে চলাচলরত ৬টি যানবাহনকে ট্রাফিক আইন অমান্য করায় ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (আদালত-৭) এর মুহাম্মদ আব্দুর রহিম সুজন এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।

 

 

 

 

বিএনপি দুর্নীতিতে পাঁচ-পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ছিলো: কাদের
                                  

নিজস্বপ্রতিবেদক : বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন- তারা দুর্নীতিতে পাঁচ-পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ছিলো। এখন তারা আবার যদি ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে আবার তারা দুর্নীতিতে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করে।তাদের গঠনতন্ত্র থেকে ৭ ধারা তুলে দিয়ে তাদের দুর্নীতি প্রবন মুখোশ উন্মোচিত করেছে।আজকে এটা পরিস্কার হয়ে গেছে যে, বিএনপি ক্ষমতায় আবার যেতে পারলে তারা দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, দন্ড ছাড়া একজন নেতাও কি নেই, তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা যেতো না? তারা দন্ডিত ব্যক্তিকে, দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিকে, পলাতক ব্যক্তিকে বিএনপির চেয়ারপারসন করার মধ্যদিয়ে এটাই প্রমাণ হলো, এই দল ক্ষমতায় গেলে আবারো বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে। আবারো বাংলাদেশে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেওয়ার পরিকল্পনা তারা বাস্তবায়ন করবে।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকার ঢাকা মাওয়া মহাসড়কে বিআরটিএ’র মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে এসব কথা বলেন।মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তাদের অপরাধ চরিত্র উন্মোচিত হওয়ায় বিএনপির গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে।

তিনি বলেন- বিএনপির চেয়ারপারসন যদি নির্বাচনের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে, সে অবস্থায় বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে আসার কোন সুযোগ সরকারের নেই।
এসময় মহাসড়কে চলাচলরত ৬টি যানবাহনকে ট্রাফিক আইন অমান্য করায় ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (আদালত-৭) এর মুহাম্মদ আব্দুর রহিম সুজন এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।

 

 

 

 

আ.লীগ ক্ষমতায় এলে তৃণমূলে উন্নয়ন হয় : ত্রাণমন্ত্রী
                                  

শরীয়তপুর  প্রতিনিধি : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা প্রত্যন্ত ও চরাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারগুলোকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করছি।

তিনি বলেন, দেশের সব জায়গায় শতভাগ বিদ্যুৎ দেয়ার ব্যবস্থা করছে সরকার। রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলেই তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।

শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পঞ্জক দেবনাথ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহমেদ, শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত) মো. এহসান শাহ, গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নাসির উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন শিবলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহজাহান সিকদার, ভাইস চেয়ারম্যান দেওয়ান মো. শাহজাহান ও ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থপনা কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার চৌধুরী প্রমুখ।

 

আলোচনার পর আপিলের সিদ্ধান্ত নেবে দুদক
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আলাপ-আলোচনার পর আপিলের সিদ্ধান্ত নেবে। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম এ কথা জানিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার আপিলের পর তার সাজা বাড়িয়ে দুদক আপিল করবে কি-না এ প্রশ্নের জবাবে দুদকের এই আইনজীবী এ কথা জানান।

তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত নেবে দুদক। আজ আপিল শুনানির জন্য আমরা মেনশন করেছিলাম। পরে আপিল শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দিন ধার্য করেছেন আদালত। আমরা রায়ের কপি সোমবার রাত ৯টায় পেয়েছি। এটা পড়ে কমিশন আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেবে।

সোমবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের অনুলিপি পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করেন খালেদার আইনজীবীর। এতে ৬০ পৃষ্ঠার মূল আবেদনের সঙ্গে এক হাজার ২২৩ পৃষ্ঠার নথিপত্র জমা দেয়া হয়েছে।

আপিলের সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আপিল শুনানি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে।

 

ক্ষমতাসীনদের ‘ঘুম হারাম’ না করার পরামর্শ ফখরুলের
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির গঠনতন্ত্র নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের ‘ঘুম হারাম’ না করে তাদের ‘নিজের চরকায় তেল দেয়ার’ পরামর্শ দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্র নিয়ে আপনাদের ঘুম নেই। আমরা কাকে চেয়ারপারসন করলাম কী করলাম না; তা নিয়ে আপনাদের মাথা ব্যথা।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হয়েছেন। গঠনতন্ত্রে এ বিষয়টি আছে যে, চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন।’

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির গঠনতন্ত্র নিয়ে না ভেবে নিজের চরকায় তেল দেন। নিজের পার্টির অবস্থা দেখুন। ক্ষমতায় না থাকলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন সেটি চিন্তা করুন।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে এ সভার আয়োজন করে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি।

এখন পর্যন্ত খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন না বলে দেয়া প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটা নিয়ে অযৌক্তিক মন্তব্য করছেন। আপনার তো মন্তব্য করার প্রয়োজন নেই। কারণ এ প্রসঙ্গ তো আপনার কাছে এখনো যায়নি। আপনি আগাম মন্তব্য করেছেন। আপনি প্রধান বিচারপতির কাছে গিয়েছেন। বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের কাছে একথা বলেছেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে আপনি এখনি এমন মন্তব্য করছেন কেন? এজন্য বলছি আগে থেকে আপনারা গ্রাউন্ড করে রাখছেন।

গণতন্ত্রের জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

সরকারকে অহঙ্কার-দাম্ভিকতা পরিহার করে দেশ রক্ষায় রাজনৈতিক সংকট সমাধানে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন বিএনপির এ নেতা।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্পষ্ট করে বলতে চাই, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে খেলা করতে পারবেন, আমাদের মুখ বন্ধ করতে পারবেন, কিন্তু ষোল কোটি মানুষের মুখ বন্ধ করতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘সরকার পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নীলনকশা চরিতার্থ করার জন্য আদালতের ওপর ভর করে বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাগারে নিয়েছে। পুরো দেশই এখন কারাগার। থানা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে অসংখ্য গণতন্ত্রকামী মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। শুধু গতকালই হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছে প্রায় ৭শ’ জন।’

সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মেধাশূন্য করতে পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংষ করে দিতে চায় বলেও এ সময় অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

সরকার নিম্ন আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘যে রায়ের কপি পাঁচদিনে পাওয়ার কথা সেটি ১২ দিনে পাওয়া গেল।’ এ সময় বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে শাসকদলের নেতাকর্মীরা ও পুলিশ হামলা চালাচ্ছে।

এনপিপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, জাগপার রেহেনা আক্তার প্রধান, সাম্যবাদী দলের কমরেড সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।

 

খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি বৃহস্পতিবার
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা আপিলের শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দিন ধার্য করেছেন আদালত।

গতকাল (সোমবার) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের অনুলিপি পেয়ে মঙ্গলবার আপিল করেন আইনজীবীরা।

আপিল শুনানি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

আপিলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম।

আপিল আবেদনের শুনানির দিন ধার্য হওয়ার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আজ আদালতে আপিল করেছি। আদালত শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন। ওইদিনই আমরা জামিন আবেদনও করবো। আশা করছি সেদিন জামিন শুনানিও অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আলাপ-আলোচনার পর আপিলের সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম।

তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত নেবে দুদক। আজ আপিল শুনানির জন্য আমরা মেনশন করেছিলাম। পরে আপিল শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন আদালত। আমরা রায়ের কপি সোমবার রাত ৯ টায় পেয়েছি। এটা পড়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

গতকাল (সোমবার) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের অনুলিপি পেয়ে মঙ্গলবার আপিল করেন আইনজীবীরা।

মঙ্গলবার দুপুরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। ৬০ পৃষ্ঠার মূল আবেদনের সঙ্গে ১২২৩ পৃষ্ঠার নথিপত্র জমা দেয়া হয়েছে।

এর আগে আবেদনের কপি নিয়ে খালেদার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খানসহ অন্যরা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় যান।

রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে মোট ২৫টি যুক্তি দেখানো হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো- যে অভিযোগে খালেদা জিয়াকে দণ্ড দেয়া হয়েছে সেটা দুর্নীতির মধ্যে পড়ে না।

যে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খালেদার সাজা হয়েছে ওই টাকা এখনও ব্যাংকে রয়েছে বলেও যুক্তি দেখানো হয়েছে।

বিশেষ আদালতের দেয়া সাজার বিরুদ্ধে আপিলে খালেদা জিয়ার খালাসও চেয়েছেন তার আইনজীবরা।

দুর্নীতি দমক কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে বিএনপি।

মামলায় রায় হওয়ার পরই বেগম জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। এরপর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পান খালেদার ছেলে তারেক রহমান। অবশ্য ওই মামলায় তারেককেও ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

 

বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও সমস্যা নেই : এরশাদ
                                  

রংপুর  প্রতিনিধি : আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে জাতীয় পার্টি (জাপা) তিনশ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জানিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগহণ না করলেও সমস্যা নেই। কারণ দুটো দল থাকলেই নির্বাচন হবে। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশ নেবে আর আওয়ামী লীগতো আছেই।

তিনদিনের সফরে রংপুরে এসে মঙ্গলবার দুপুরে সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি দোষের কিছু না জানিয়ে তিনি বলেন, তারা আন্দোলন করতেই পারে তবে কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি না দেয়া তাদের জন্য মঙ্গল।

বিএনপির একটি বড় অংশ জাতীয় পার্টিতে যোগদান করছে- এমন গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে এরশাদ বলেন, আমি শুনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেনি, তবে হতে পারে।

তিনি বলেন, কেউ যদি ইচ্ছে করে আমার দলে যোগ দিতে চায় কেন তাদের নেবো না? তারা যদি ভাল নেতা হয়, যোগ্য প্রার্থী হয় তবে অবশ্যই তাদের দলে নেবো।

বিএনপি নির্বাচনে না এলে তা গ্রহণযোগ্য হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, দশম সংসদ নির্বাচনেতো বিএনপি আসেনি। এবারে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে। অতএব নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে।

এ সময় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহানগর জাপার সভাপতি রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ দলের বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

 

গণঅভুত্থানে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে : ফখরুল
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : কারাগারে বন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গণঅভুত্থানের মাধ্যমে মুক্ত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, অবৈধ অনৈতিক সরকার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় তাদের নীল নকশা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এই নীল নকশা হচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। আগামী নির্বাচনে যাতে খালেদা জিয়া অংশ নিতে না পারেন এ চক্রান্ত চলছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ।

তিনি বলেন, এখন সময় জেগে উঠার, এখন সময় প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়া। তাই আসুন, দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের মধ্যে দিয়ে দেশের স্বাধীনতার প্রতীক খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আগামী নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত করতে অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্তি দিন। নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করুন।

খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে রাখা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শওকত মাহমুদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) নেতা ডা. একে এম আজিজুল হক, রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, মাহমুদুর রহমান, সাংবাদিক এম আব্দুল্লাহ, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।

 

যে মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা তা গ্রহণযোগ্য নয় : ফখরুল
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতা হারানোর ভয়ে অনির্বাচিত, অনৈতিক ও অবৈধ সরকার তাদের নীলনকশা বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাগারে পাঠিয়েছে। যে মামলায় তাকে এ সাজা দেয়া হয়েছে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার প্রতিবাদ ও তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আসন্ন নির্বাচনে খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে আওয়ামী লীগ জয়ী হতে পারবে না সেটা ভালো করে জেনেই তাকে (খালেদা জিয়া) নির্জন অন্ধকার ঘরে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগ দলীয়করণ করে খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার পরও ক্ষমতাসীনরা আইনের ন্যূনতম বিচার বিধান পালন করছে না। রায়ের পাঁচদিনের মধ্যে সার্টিফাইড কপি দেয়ার নিয়ম থাকলেও এখন পর্যন্ত দেয়া হয়নি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের স্ট্রিমরোলার চালাচ্ছে। প্রতিনিয়ত হত্যা গুম খুন করা হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে, প্রতিদিনেই প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে? হাজার হাজার টাকা লুট করে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাদের বিচার করা হচ্ছে না কারণ এ লুটপাটের সঙ্গে ক্ষমতাসীন সরকার জড়িত।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া ও দেশ আজ একাকার। খালেদা জিয়ার সঙ্গে গণতন্ত্র একে অপরের পরিপূরক। তাই খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ সোচ্চার হতে হবে। জনগণের শক্তি দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে। একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপক্ষে সরকার প্রতিষ্ঠা করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্যে দেন মহিলা দলের নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আক্তার, ইয়াসমিন আরা হক, নেওয়াজ হালিমা আর্লী, হেলেন জেরিন খান, শামসুন্নাহার ভূঁইয়া, আমেনা খাতুন প্রমুখ।

 

খালেদার রায়ের কপি আইনজীবীদের হাতে, জামিন আবেদন কাল
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক :  রায় ঘোষণার ১২ দিন পর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি হাতে পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর খালেদার আইনজীবীরা জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করা হবে। এ মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক। ওই দিন থেকেই রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে রয়েছেন বেগম জিয়া।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া, জাকির হোসেন ভূঁইয়া, জিয়াউদ্দিন জিয়া ও এম হেলাল উদ্দিন হেলালের হাতে ১১৬৮ পৃষ্ঠার এ রায়ের সার্টিফায়েড কপি দেন আদালতের পেশকার মোকাররম হোসেন। ১১৬৮ পৃষ্ঠার এ রায়ের সার্টিফায়েড কপির সঙ্গে, আদেশ যোগ হয়েছে আরও ৬ পৃষ্ঠা।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও জাকির হোসেন ভূঁইয়া জাগো নিউজকে বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের সার্টিফায়েড কপি আমরা হাতে পেয়েছি। আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবেদন করবো।

আদালতের পেশকার মোকাররম হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের ১১৬৮ পৃষ্ঠার সার্টিফায়েড কপি খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের হাতে দেয়া হয়েছে।

এর আগে রোববার বিচারক খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের বলেন, সোমবার আপনাদের রায়ের সার্টিফায়েড কপি দেয়া হবে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ৬৩২ পৃষ্ঠা রায়ের সার্টিফায়েড কপির জন্য তিন হাজার পৃষ্ঠার কার্টিজ পেপার আদালতে জমা দেন খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ। রায় মোট ৬৩২ পৃষ্ঠার। এটি অনুলিপির (সার্টিফায়েড কপি) পর দলিলের (কার্টিজ পেপার) কাগজে প্রিন্ট হয়ে পৃষ্ঠার সংখ্যা হয়েছে ১১৬৮।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এ মামলায় অন্য আসামি খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, বয়স ও সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় কম সাজা দেয়া হয়েছে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে। রায়ের পরই নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে নেয়া হয় বেগম জিয়াকে। দণ্ডবিধি ১০৯ ও ৪০৯ ধারায় খালেদা জিয়াসহ বাকিদের সাজা দেয়া হয়। কারাদণ্ডের পাশাপাশি সব আসামিকে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

 

আওয়ামী লীগই সুন্দর ভবিষ্যতের পথ দেখাবে: মির্জা ফখরুল
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক:   বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোপ-আলোচনার মাধ্যমে আওয়ামী লীগই ভবিষ্যতের পথ দেখাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভিকে দেওয়া সরাসরি সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল এ আশাবাদ প্রকাশ করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আওয়ামী লীগ বড়, ঐতিহ্যবাহী ও পুরনো একটি রাজনৈতিক দল। পুরনো গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে সামনে রেখে `দেয়ার কামব্যাক টু দি দেয়ার সেন্সেস`।”

আশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, `আওয়ামী লীগ দেশ, মানুষ ও জাতির জন্য একটা পথ খুঁজে বের করবে। আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সহনশীলতার রাজনীতি করে তারা একটা সুন্দর ভবিষ্যতের পথ দেখাবে, এটাই আমরা আশা করি।`
বিএনপি মহাসচিব বলেন, `আমাদের সবার এই মনোভাবই পোষণ করা উচিত যে সংঘাত বা প্রতিহিংসা নয়, আলাপ-আলোচনার মধ্যদিয়েই সমস্যার সমাধান করা উচিত।`
মির্জা ফখরুল তার সাক্ষাৎকারে মুক্তিযুদ্ধ, দেশের চলমান রাজনীতি, বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা, আগামী দিনের নির্বাচন, সহায়ক সরকার প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেন।
দেশের মানুষের ওপর প্রত্যাশা ব্যক্ত মির্জা ফখরুল বলেন, `বাংলাদেশের মানুষের অন্তর্নিহিত যে স্পিরিট, সেটাই পথ করে দেবে, বরাবরই দিয়েছে। সেই ১৯৫২ সাল থেকে, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ নানা সময়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোয় বাংলাদেশের মানুষই উঠে দাঁড়িয়েছে। তারা তাদের পথ করে নিয়েছে। সেই মানুষের ওপর আমরা বেশি আস্থা রাখি। সেই মানুষই তার প্রয়োজনে তার অধিকার আদায়ে কাজ করবে। `

সহায়ক সরকারের প্রস্তাবের বিষয়ে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, `যথাসময়ে প্রস্তাব দেওয়া হবে। তবে এর আগে সরকারকে বসতে হবে। সরকার যখনই বসতে চাইবে, তখনই আমরা প্রস্তাব প্রকাশ করবো। এটা আমাদের কাছে তৈরি আছে।`


নির্বাচন কমিশনের ওপর খুব বেশি আস্থা নেই বলে জানান মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, `এই সরকারের সময়ে লাখ লাখ মামলায় লাখ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।`

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, `আমরা নির্বাচনের ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি। বর্তমান ব্যবস্থার ওপর নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। প্রথম কথা হচ্ছে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে। সংসদ রেখে সংসদ সদস্যরা বহাল থাকবেন, নির্বাচন করবেন, এটা কঠিন।`

বিএনপি মহাসচিব বলেন, `এই সংসদ রেখে সংসদ নির্বাচন হতেই পারে না। সেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। ইতোমধ্যে কোটি কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে তাদেরকে কাজ করার জন্য।`

নিরপেক্ষ সরকার যেন গঠন করা যায়, তার জন্য সমান সুযোগ দিতে হবে বলেও জানান ফখরুল।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, মির্জা ফখরুল ইতোমধ্যে কয়েকটি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। আগামী দিনেও আরও গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেবেন।

বিএনপিতে ভাঙনের ভয়
                                  
নিজস্ব প্রতিবেদক : দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে সরকার বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করতে পারে। দলের স্থায়ী কমিটির একজন সিনিয়র সদস্য ইত্তেফাকের কাছে নিজেদের এমন আশংকার কথা স্বীকার করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে দলের ঐক্য ধরে রাখতে, নেতাদের সক্রিয় রাখতে ধারাবাহিক বৈঠক করছে দলটি। খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর বিএনপি সমর্থক বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবীদের নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই পরামর্শ বৈঠক করছেন সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। মাঠের আন্দোলনের সঙ্গে কূটনীতিক পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। মূল লক্ষ্য খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন দিক থেকে সরকারকে চাপে রাখা। ইতোমধ্যে প্রভাবশালী দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেছেন নেতারা।
 
যেকোনো প্রয়োজনে বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সিনিয়র নেতারা বেগম জিয়ার গুলশান অফিসে বসছেন, আলাপ-আলোচনা করছেন। লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিদিন দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলছেন। দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন। প্রতিটি কর্মসূচি মনিটর করছেন। গত চারদিন দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী, আইনজীবী এবং গতকাল শনিবার রাতে বুদ্ধিজীবীদের বৈঠকে টেলিকনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান।
 
দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, সরকার যাতে বিএনপিতে ভাঙ্গন ধরাতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া আইনজীবীদের মাধ্যমে কারাগার থেকে বার্তা পাঠিয়েছেন। যে কোন উস্কানির ফাঁদে পা না দিতে সতর্ক থাকতে বলেছেন। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে বলেছেন। সব ধরনের সংঘাতময় কর্মসূচি পরিহার করে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় থাকতে বলেছেন।
 
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্বিত করে তাকে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে। বিএনপিতে ভাঙ্গন ধরানোর চক্রান্ত করতে পারে তবে দলের সকলেই এখন সতর্ক। তারা কিছুই করতে পারবে না। খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে জেলে রাখার কারণে কেবল বিএনপি নয়, সারাদেশের মানুষ এখন তার জন্য ঐক্যবদ্ধ। আমাদের ওপর সরকার যে স্টিমরোলার চালাচ্ছে সে পরিস্থিতি আমাদের পরস্পরকে বেশি করে কাছে টানার বা ঐক্যবদ্ধ করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। বিএনপি অনেক একতাবদ্ধ ও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি বলেন, কোন ফাঁদে আমরা পা দিবো না। বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যেমে আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করে আনবো। তার কারামুক্তির আগ পর্যন্ত আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাব। এ ব্যাপারে চেয়ারপারসনসহ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
 
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ম্যাডাম নেতাকর্মীদের রাজপথে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দলে এখন নেতা-কর্মীরা সব ঐক্যবদ্ধ। সরকার বিএনপিকে নিয়ে হঠকারী কোন চিন্তা করলে তা টিকবে না। তাদের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে যাবে।
 
মির্জা আব্বাস বলেন, মাঠের নেতারা যে যেভাবে পারছেন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তারেক রহমান প্রতিটি কর্মসূচি মনিটর করছেন। সবাই আরো বেশি সতর্ক। বেগম জিয়াও খবর রাখছেন। নেতাকর্মীরা বুঝতে পারছেন তাদের রাজপথে নামার বিকল্প নেই।
 
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেন, সরকার দল ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র করতে পারে। ওয়ান ইলেভেন থেকে এটা চলে আসছে। তবে কোন লাভ হবে না। চেয়ারপারসনকে কারাগারে নেওয়ার পর নেতাকর্মীরা আরো বেশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে।
 
ঢাকায় বড় সমাবেশ করবে বিএনপি
 
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকায় বড় সমাবেশ করতে চায় বিএনপি। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছে দলটি। সেখানে না পেলে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চাইবে। সমাবেশে বড় জমায়েত ঘটিয়ে দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবি জোরালো করতে চায়।

 

খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে যেতে অসুবিধা কী : কাদের
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নিজেরাই বলছে খালেদা জিয়া জেলে যাওয়াতে তাদের দল আগের চেয়েও শক্তিশালী। তার অনুপস্থিতিতে যে দল এত ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী সেই দলের নির্বাচনে যেতে অসুবিধা কী?

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির উপলক্ষে আগামী ৭ মার্চ ঢাকায় জনসভা করবে আওয়ামী লীগ

রোববার দুপুরে ধানমন্ডির এক কমিউনিটি সেন্টারে দলটির ঢাকা মহানগর, জেলা, পাশ্ববর্তী জেলা, সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা এবং এমপিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে দলটি।

সভা শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, বেগম জিয়াকে বাদ দিয়েও তারা নির্বাচনে যেতে পারেন, তা তারা বলে দিয়েছেন। এ ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী বিএনপিকে নিয়েই আমরা সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে চাই।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আমি বিএনপির কাছে একটা প্রশ্নের জবাব চাই। সেটা হচ্ছে ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় হবে, এ সংবাদ প্রকাশের পর। মামলার রায়ের ১০ দিন আগে কী কারণে রাতের অন্ধকারে বিএনপির গঠনতন্ত্র থেকে সাত ধারা বাতিল করা হলো। এর জবাব এখন পর্যন্ত তারা দেননি।

তিনি বলেন, সাত ধারা তুলে দেয়ায় বিএনপি আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ দল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন কারাগারে যাওয়ার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের পদে আদালতের রায়ে স্বীকৃত দুর্নীতিবাজ, বিদেশে পালাতক তারেক রহমানের অসুবিধা হয়নি। কারণ তাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুর্নীতিবাজ নেতারা তাদের পদে আসতে পারবেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারেক রহমানের মতো দণ্ডিত, দুর্নীতিবাজ, পলাতককে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করার জন্যই কী তড়িঘড়ি করে দলের সাত ধারা পরিবর্তন করা হয়েছে? আমি এ প্রশ্নের জবাব চাই।

তিনি বলেন, আমাদের দলের গঠনতন্ত্রে ছোট্ট একটা শব্দ বাদ দিতে হলেও কাউন্সিল লাগে। রাতের অন্ধকারে বাদ দেয়া যায় না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যে দল এত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে, তারা কিভাবে লন্ডনের দূতাবাসে হামলা চালিয়ে জাতির পিতার ছবি ভাঙচুর করে, কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর হামলা করে। প্রিজন ভ্যানে হামলা করে আসামি ছিনিয়ে নেয়, তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেয়। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিতে পারে না বলে নিজেদের অক্ষমতাকে ঢাকার জন্য তার শান্তিপূর্ণ শব্দটি ব্যবহার করছে। তারা যখনই সুযোগ পায় তখনই বিশৃঙ্খলা করছে। সেটাই তাদের আসল রূপ। এখন যা হচ্ছে সেটা হলো মুখোশ।

তিনি বলেন, ফখরুল ইসলাস কখন আবার কান্নাকাটি শুরু করেন! তারাতো দু’জনে দুই ধরনের প্রেস ব্রিফিং করেন। তারা নিজেরাই নিজেদের উস্কানি দেন। একজন বেগম জিয়ার পক্ষে আমরা শুনি। আরেকজন লন্ডনের আদেশে চলে। এখন কে যে কি বলে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দফতর সম্পাদক আবদুর সোবহান গোলাপ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলি, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

 

আমাদের নেত্রী কোনো অপরাধ করেননি : নজরুল
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আমাদের নেত্রী কোনো অপরাধ করেননি। কোনো দুর্নীতির সম্পৃক্ত ছিলেন না। তাকে দুর্নীতির আইনে বিচারও করা হয়নি। ওরা (আওয়ামী লীগ) এতিমের টাকা মারার কথা বলে। আওয়ামী লীগ বরাবরই অপ্রচারে বিশ্বাস করে।

রোববার বিকেলে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে। তাতে বিএনপির কি ক্ষতি হয়েছে? বরং আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসার কারণে দেশবাসীর কাছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশনেত্রী থেকে ‘মা’ হয়ে গেছেন। তিনি এখন দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধার পাত্র। মরণকালে নাকি সবকিছুই ভুল হয়ে যায়। এ সরকারের মনে হয় এমনটাই হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ মনে করেছিল খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর পর বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে গাড়ি ভাঙচুর করবে। আর সেই সুযোগে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে নাশকতা করবে গাড়িতে আগুন দেবে, আর দোষ দেবে বিএনপির। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় তারা প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বর্তমান সরকার তার সঙ্গে সঠিক আচরণ করেনি। তার প্রাপ্ত সম্মান তাকে দেয়নি। আমরা সরকারের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।

তিনি বলেন, মিথ্যা এ বানোয়াট মামলায় দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীর সাজার ঘটনায় তারা (আওয়ামী লীগ) অনেকেই সমালোচনা করেছেন। সরকারের এমন প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণে মর্মাহত হয়েছেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপন ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খান, সাংগঠনিক সম্পাদক খলনায়ক শিবা শানু প্রমুখ।

 

শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে বিএনপির দুর্বলতা ভাববেন না: খন্দকার মাহবুব হোসেন
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক :  বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন খালেদা জিয়াকে কারাদ- দিয়ে আওয়ামী সরকার এখন বাংলাদেশকে আগ্নেয়গিরির উপর দাঁড় করিয়েছে। যেকোন সময় অগ্নির বিস্ফোরণে ক্ষমতার মসনদ জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারে। তারা ভেবেছিল খালেদা জিয়াকে কারাদ- দিলে বিএনপি কঠোর আন্দোলনে যাবে এবং আওয়ামী লীগ বোমা মেরে জ্বালাও-পোড়াও-সহিংসতা চালিয়ে বিএনপির উপর এর দায় চাপাবে। আওয়ামী লীগের ভাবনাটা ভুল ছিল।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়ে আওয়ামী লীগ এখন ডুবে গেছে। সরকারকে ভাবতে হবে বিএনপি আর তাদের পাতানো ফাঁদে পা দেবে না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন ধৈর্য ধরে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোয় তার জনপ্রিয়তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে খালেদা জিয়ার রায়ের সার্টিফাইড কপি এখনো পাওয়া যায়নি। এটা জাতি ও আদালতের জন্য খুবই লজ্জাজনক। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে বিদেশী যে অনুদান দিয়েছে তা বর্তমানে ছয়গুণ বেড়েছে। শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাজনৈতিকভাবে দেশনেত্রীকে ঘায়েল করার জন্য জালিয়াতির মামলায় সাজা দিয়ে একটি নির্জন নোংরা সেলে রাখা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দেয়ার দাবি করছি।

গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট মিলনায়তনে যুব জাগপা আয়োজিত ‘বেগম খালেদা জিয়ার কারাদন্ডর প্রতিবাদে ও মুক্তির দাবিতে’ আয়োজিত যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে জাগপা সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়ে সরকার দেশ ও জাতিকে বিভক্ত করতে চায়। কিন্তু দেশপ্রেমিক জনগণ খালেদা জিয়ার প্রয়োজনে রাজপথে থেকে দেশ, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় আবারো খালেদা জিয়াকে এদেশের প্রধানমন্ত্রী করবে- ইনশাআল্লাহ।

যুব জাগপার সহ সভাপতি মাহিদুর রহমান বাবলা এর সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক তুহিনের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জাগপা সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, সহ সভাপতি খন্দকার আবিদুর রহমান, মাস্টার এম.এ মান্নান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, জাগপা নেতা বেলায়েত হোসেন মোড়ল, ইনসান আলম আক্কাছ, মানিক সরকার, এনায়েত আহমেদ হালিম, আশরাফুল ইসলাম হাসু, আসাদুজ্জামান বাবুল,
জাগপা ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ফারুকী,যুব জাগপা নেতা রিয়াজ রহমান, নজরুল ইসলাম বাবলু,শাহিনুর রহমান শাহিন, প্রকৌশলী সিরাজ, ছাত্রনেতা মীর আমির হোসেন আমু, যুব জাগপা নেতা বিপুল সরকার, আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ আলী, প্রমুখ।

 

 

 

 
সরকারকে চাপে রাখতে ঢাকায় বড় জমায়েত করবে বিএনপি
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকায় বড় জমায়েত করতে চায় বিএনপি। দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে সরকারকে চাপে রাখতে এবং দেশি-বিদেশি শক্তিকে বার্তা দিতেই এ জমায়েতের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। জমায়েত সামনে রেখে আরও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে জানা গেছে। এ লক্ষ্যে আগামী ২২ ফেব্রয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কিংবা নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

৮ ফেব্রয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের দিন যে জমায়েত হয়েছে তাতে দলের নেতাকর্মীরা বেশ উজ্জীবিত। এত নেতাকর্মীর সমাগম হবে তা ভাবতে পারেনি সরকার ও প্রশাসন। বিষয়টি সরকারকে বেশ ভাবাচ্ছে।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, খালেদা জিয়ার রায়ের পর প্রতিটি পদক্ষেপ তাদের অনুক‚লে আছে। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর মতে, সরকারের অন্তত তিনটি ভাবনা ইতোমধ্যে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এক. বিএনপি বড় কর্মসূচি দিলে সরকার মামলা দিয়ে ধরপাকড় করত, কিন্তু এতে পা দেয়নি দল। 

দুই. খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হবে; বাস্তবতা হলো এখন পর্যন্ত অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে দল ঐক্যবদ্ধ আছে। তিন. তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হলে তার নেতৃত্ব কেউ মানবে না, এখানেও বাস্তবতা; এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। বরং তার নেতৃত্বে দল আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। দলের প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত তার সঙ্গে পরামর্শ করেই নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে মাঠের আন্দোলনের সঙ্গে ক‚টনীতিক পর্যায়ে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ করছেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এর মূল উদ্দেশ্য খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন দিক থেকে সরকারকে চাপে রাখা। ইতোমধ্যে পশ্চিমা রাষ্ট্র ও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ প্রভাবশালী দেশের ক‚টনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নেতারা।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে মুক্ত করাই আমাদের সংগ্রাম। দেশনেত্রীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, দেশনেত্রীকে নিয়েই আমরা আগামী নির্বাচনে যাব। দেশনেত্রী ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না।

দলের বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে তার বাসায় দীর্ঘ আলোচনা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া না হলে এ দাবির সঙ্গে কয়েক মাস পর নিরপেক্ষ সরকারের আন্দোলন যোগ হবে। তবে আগস্টের আগে শক্ত কর্মসূচি দেবে না। আপাতত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকার বাধা বা নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়লেও শান্ত থাকার সিদ্ধান্ত আছে।

দলটির নেতাদের ভাষ্য, দেশের মানুষ বিশ্বাস করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাকে কারাবন্দি, বিলম্বে ডিভিশন দেওয়া, রায়ের সার্টিফায়েড কপি এখন পর্যন্ত না দেওয়াসহ নানা কারণে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, জিয়া অরফানেজ মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হতে পারে এই শঙ্কা নিয়ে আগেভাগেই সিনিয়র নেতারা নিজেদের বিভেদ মিটিয়ে এক টেবিলে বসেন। সময়টিকে ‘ক্রান্তিকাল ধরে’ খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন তারা।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে সরকার যে রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে; এ জন্য তারাই দায়ী। এর মাধ্যমে সমঝোতার সব দ্বার সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। এখন আমাদের কাছে দুটি চ্যালেঞ্জ। একটি হলো খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের করে আনা এবং আরেক হলো দেশে আন্দোলন করে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। এবার আমরা প্রমাণ করব, একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেও সরকারকে বাধ্য করা যায়। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দিতে হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রায় একই সুরে বলেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে দলের কারো সঙ্গে কখনো কোনো অমিল ছিল না। মূলত তিনি নানা মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার। একটি ‘মিথ্যা’ মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পর তার নির্দেশনা অনুযায়ী দল ঐক্যবদ্ধভাবে চলছে। যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন দল বেশি ঐক্যবদ্ধ।

সমাবেশের অনুমতি চেয়েছে বিএনপি : নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ বলেন, ২২ ফেব্রয়ারি সমাবেশ করতে পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ওইদিন ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কিংবা নয়াপল্টনের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চান তারা। এ জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপির কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

খালেদা জিয়ার জামিন ও রায়ের কপি নিয়ে নেতাদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক :  বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন ও রায়ের কপির বিষয়টি নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন। নেতারা একে অপরকে দোষারোপ করছেন। অভিযোগও উত্থাপন করছেন একে অপরের বিরুদ্ধে। আদালতের এ বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকার ছলচাতুরী করছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা অভিযোগ করছেন, খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা মিথ্যা বলছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, কারাগার চলবে জেল কোড অনুযায়ী। এখানে খালেদা জিয়ার জন্য আমরা বিশাল জনতার সমাবেশ করতে পারবো না। কারাগার তো নির্জন জায়গা। বাইরে নানা ঝুট ঝামেলায় থাকেন, এটি একটু শান্তিতে, স্বস্তিতে থাকার একটা জায়গা। কারাগারে থাকার মধ্য দিয়ে তিনি একটু বিশ্রামের সুযোগ পেলেন।

 

কাদের বলেন, অন্ধকারে ঢিল ছোড়া বিএনপির পুরনো অভ্যাস। আদালতের আদেশের বাইরে খালেদা জিয়ার বিষয়ে সরকারের কোনো হাত নেই, কোনো হস্তক্ষেপ নেই। খালেদা জিয়াকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো বা তার বিরুদ্ধে নতুন মামলা দেয়া এটা আদালতের বিষয়, সরকারের নয়।

তিনি বলেন, কারাগারে ডিভিশন নিয়ে খালেদা জিয়ার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি তার গৃহকর্মীকেও তিনি সঙ্গে নিয়ে কারাগারে আছেন। যেটা এ দেশে নজিরবিহীন। এ সুযোগ বাংলাদেশে কেউ পান না।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেয়া সাজার রায়ের সার্টিফাইড কপি নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, রায়ের কপি ইচ্ছে করে দেরিতে দেয়া হচ্ছে।

শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, আইন অনুসারে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে রায়ের কপি দেয়ার কথা থাকলেও সরকার তা দিতে দেরি করছে। এ কারণে আপিল করা যাচ্ছে না। তারা চায় খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত হোক। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে রায়ের কপি নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে। সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আইন হাতে তুলে নিয়ে বেআইনি কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের এ প্রচেষ্টা খালেদা জিয়াকে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে। জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ষড়যন্ত্রের জবাব দেবে।

রায়ের কপি ইচ্ছে করে দেরিতে দেয়া হচ্ছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা মিথ্যা বলছেন। ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের কপি টাইপ করতে যুক্তিসংগত যতটুকু সময় লাগে ততটুকু সময়ই কপি পাবেন তারা। এর এক মিনিটও দেরি হবে না। এতে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে আর কোনো মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়নি। কোনো মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হবেও না। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিনের জন্য জজকে জিম্মি করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ দিকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়ের সার্টিফাইড কপি নিয়ে সরকার ছলচাতুরী করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। বিএনপি চেয়ারপারসনকে বেশি দিন কারাগারে আটকে রাখতেই সরকার এ ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মওদুদ আহমদ এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রায় হয়েছে ৮ ফেব্রুয়ারি। এখন পর্যন্ত রায়ের কপি পাওয়া যায়নি। এই যে ছলচাতুরী, এটা করার অর্থই হলো যে, যতদিন পারা যায়, একটা দিন যদি বেশি রাখা যায় বেগম জিয়াকে জেলখানায়। তবে তা বুমেরাং হচ্ছে বলেও সরকারকে সতর্ক করে দেন তিনি। তার মতে, এতে সরকারের জনপ্রিয়তা কমছে।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, যখনই রায়ের নকল পাব, আমরা আপিল ফাইল করব। আপিলের সঙ্গে সঙ্গে আমরা তার জামিন চাইব। আমরা বিশ্বাস করি, ৫ বছরের (সাজার মেয়াদ) জন্য জামিন এমনিতেই অন্তত লিবারেলি কোর্ট দেখে। ৫ বছরের ব্যাপারে এমন কিছু না। বিএনপি চেয়ারপারসনকে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে নির্জন কারাবাসে রাখা সংবিধান ও কারাবিধির পরিপন্থি বলে দাবি করেন মওদুদ। খালেদাকে বন্দী করে সরকার রাজনৈতিক সমঝোতার পথও দূরে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 


   Page 1 of 10
     রাজনীতি
বিএনপি দুর্নীতিতে পাঁচ-পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ছিলো: কাদের
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
আ.লীগ ক্ষমতায় এলে তৃণমূলে উন্নয়ন হয় : ত্রাণমন্ত্রী
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
আলোচনার পর আপিলের সিদ্ধান্ত নেবে দুদক
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
ক্ষমতাসীনদের ‘ঘুম হারাম’ না করার পরামর্শ ফখরুলের
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি বৃহস্পতিবার
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও সমস্যা নেই : এরশাদ
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
গণঅভুত্থানে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে : ফখরুল
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
যে মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা তা গ্রহণযোগ্য নয় : ফখরুল
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
খালেদার রায়ের কপি আইনজীবীদের হাতে, জামিন আবেদন কাল
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
আওয়ামী লীগই সুন্দর ভবিষ্যতের পথ দেখাবে: মির্জা ফখরুল
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
বিএনপিতে ভাঙনের ভয়
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে যেতে অসুবিধা কী : কাদের
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
আমাদের নেত্রী কোনো অপরাধ করেননি : নজরুল
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে বিএনপির দুর্বলতা ভাববেন না: খন্দকার মাহবুব হোসেন
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
সরকারকে চাপে রাখতে ঢাকায় বড় জমায়েত করবে বিএনপি
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
খালেদা জিয়ার জামিন ও রায়ের কপি নিয়ে নেতাদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
খালেদার মুক্তির আগে নির্বাচনের চিন্তা করছি না: মোশাররফ
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
খালেদাকে কারাদণ্ড দেয়ায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে : অলি আহমেদ
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
খালেদা জিয়া নির্বাচনে না আসতে পারলেও বিএনপি আসবে : কাদের
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
খালেদা জিয়ার জেল অস্বাভাবিক কিছু নয়
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
ধৈর্যহারা হবেন না, বিশৃঙ্খল হবেন না : ফখরুল
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
খালেদার শাসনামলে ১৭ পাটকল শ্রমিক হত্যা করা হয় : মেনন
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
ছাত্রদল নেতাদের গ্রেফতারে নিন্দা ও প্রতিবাদ
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
তারেক রহমানকে শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে : শাজাহান খান
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
অক্ষমতার কারণে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির নামে আদালতকে অবমাননা করছে বিএনপি: ওবায়দুল কাদে
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
২২ ফেব্রুয়ারি সমাবেশ করতে চায় বিএনপি
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
আগামী নির্বাচনে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে এর জবাব দেবে : মওদুদ
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
শেখ হাসিনার গায়ে দুর্নীতির কাদা- সুতরাং দেশনেত্রী জেলে কেন: জাগপা
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
ইইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি নেতারা
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
আমার নেত্রী আবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন: পার্থ
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
কাউকে ঘুমাতে দেব না: সোহেল
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে সঙ্গে পেলেন খালেদা
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
মানহানির মামলায় খালেদাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
বুধবার প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির অনশন
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
সরকার অশুভ শক্তিকে মদদ দিচ্ছে : রব
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
বিএনপি এখন শূন্য কলসির মতো বাজছে : মেনন
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
কৃতকর্মের ফল ভোগ করছে খালেদা-তারেক : ইনু
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
‘মা (খালেদা জিয়া) কারাগারে কেমন আছেন?:
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
সরকারকে যে কারণে ধন্যবাদ জানালেন মির্জা আব্বাস
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
বিএনপির অবস্থান কর্মসূচির স্থান ফের পরিবর্তন
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
সারাদিনে কেউ দেখতে যাননি খালেদা জিয়াকে
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির অবস্থান ধর্মঘট পালিত
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মানববন্ধন
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
জেলে খালেদাকে গুলশানের সুবিধা দেয়া সম্ভব নয়: কাদের
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে:মওদুদ
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
আফরোজা-সুলতানাসহ মহিলা দলের ৪ জনের আগাম জামিন
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
খালেদার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে : ফখরুল
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
খালেদার রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেতে ৩ হাজার পৃষ্ঠার কার্টিজ পেপার
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু গ্রেফতার
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......