ধর্ম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
কওমী মাদ্রাসা নিয়ে ভয়ঙ্কর চক্রান্তে খ্রিস্টান পরিচালিত ‘মুভ ফাউন্ডেশন’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি বহুল আলোচিত বিষয় হচ্ছে “মুভ ফাউন্ডেশন “। মুভ ফাউন্ডেশন এর কবলে অনেক মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী আক্রান্ত! পোষাক-পরিচ্ছেদ ও আচার-আচরণে বিশাল আবর্তিত! এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আতংক ও উৎকন্ঠের শেষ নাই।সত্যতা ও মুভ ফাউন্ডেশন নিয়ে জানারা কৌতূহলের অন্ত নাই।

জার্মানি (ক্রুসেডার) খ্রিস্টান মিশনারী কর্তৃক পরিচালিত ও জাতিসংঘের ইউনিডেপ সংস্থার অর্থসহযোগিতায় চালিত ” মুভ ফাউন্ডেশন ” নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এলো এক ভয়ানক তথ্য। যা রীতিমত গা’ শিউরে উঠার! যুগ যুগ ধরে ‘আখলাকে হাসানাহ’ ও ‘সুন্নতে নববী’ ধারণকারী কওমী মাদ্রাসা ও কওমী শীক্ষার্থীদের নিয়ে “মুভ ফাউন্ডেশন “এর পথ চলা।

 

কওমী মাদ্রাসা নিয়ে ভয়ঙ্কর চক্রান্তে খ্রিস্টান পরিচালিত ‘মুভ ফাউন্ডেশন’
                                  

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি বহুল আলোচিত বিষয় হচ্ছে “মুভ ফাউন্ডেশন “। মুভ ফাউন্ডেশন এর কবলে অনেক মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী আক্রান্ত! পোষাক-পরিচ্ছেদ ও আচার-আচরণে বিশাল আবর্তিত! এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আতংক ও উৎকন্ঠের শেষ নাই।সত্যতা ও মুভ ফাউন্ডেশন নিয়ে জানারা কৌতূহলের অন্ত নাই।

জার্মানি (ক্রুসেডার) খ্রিস্টান মিশনারী কর্তৃক পরিচালিত ও জাতিসংঘের ইউনিডেপ সংস্থার অর্থসহযোগিতায় চালিত ” মুভ ফাউন্ডেশন ” নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এলো এক ভয়ানক তথ্য। যা রীতিমত গা’ শিউরে উঠার! যুগ যুগ ধরে ‘আখলাকে হাসানাহ’ ও ‘সুন্নতে নববী’ ধারণকারী কওমী মাদ্রাসা ও কওমী শীক্ষার্থীদের নিয়ে “মুভ ফাউন্ডেশন “এর পথ চলা।

 

তাবলীগের দু-পক্ষের সংঘর্ষের নেপথ্যে মাওলানা সাদ!
                                  

তাবলীগ-জামাতের বিশ্ব-মারকাজ হলো দিল্লির ‘নিজামুদ্দিন মারকাজ’। আর এ বিশ্ব-তাবলীগের আমিরের গুরু দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা সা’দ কান্ধলভী। তবে সম্প্রতি তার কিছু বয়ানের কথা ইসলামের সম্পর্কে সাংঘর্ষিক বলে ফতোয়া জারি করা হয়। মাওলানা সা’দকে সেসব সাংঘর্ষিক বয়ান থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানান উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ দীনি বিদ্যাপীঠ ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’-এর ঊর্ধ্বতন শিক্ষক ও মাওলানারা। বাংলাদেশে তাবলীগ-জামাতের ইজতেমায় যেন সা’দ আসতে না পারেন সে ব্যাপারে মতনৈক্য দেখা দেয়। এরই জেরে মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইল মসজিদের সামনে তাবলীগ-জামাতের দু’পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা, পরে হাতাহাতি থেকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

তাবলীগ-জামাতের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সা’দের পক্ষে ও বিপক্ষে তাবলীগ-জামাতের দুটি পক্ষ। তাবলীগ-জামাতের শুরা সদস্য মাওলানা হাফেজ জুবায়ের সা’দকে বাংলাদেশে আর না আনার পক্ষে। মাওলানা সা’দ যেন বাংলাদেশের কোনো ইজতেমায় অংশ নিতে না পারেন সে ব্যাপারে মত দেন তিনি। অন্যদিকে অপর শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম সা’দের পক্ষে। তিনি সা’দকে বাংলাদেশে আনতে চান।

তাবলীগ-জামাতের শুরা সদস্য মাওলানা হাফেজ জুবায়ের সা’দকে বাংলাদেশে আর না আনার পক্ষে। মাওলানা সা’দ যেন বাংলাদেশের কোনো ইজতেমায় অংশ নিতে না পারেন সে ব্যাপারে মত দেন তিনি। অন্যদিকে অপর শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম সা’দের পক্ষে। তিনি সা’দকে বাংলাদেশে আনতে চান।

সূত্র জানায়, তাবলীগ-জায়াতের দ্বিধাবিভক্তির পেছনে ছিল একে অন্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। প্রায় চার বছর ধরে এ বিরোধে নতুন মাত্রা পেল মাওলানা সা’দকে ঘিরে, যা শেষ পর্যন্ত মুরব্বিদের উপস্থিতিতে বাগবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার রূপ নেয়।

তাবলীগ-জামাতের সাথী মো. শরফুল ইসলাম খান জাগো নিউজকে বলেন, তাবলীগ-জামাতের দিল্লির মারকাজের মুরব্বি মাওলানা সা’দ। কিন্তু তার কিছু কথার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ওলামায়ে দেওবন্দ। ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’ নামে প্রতিষ্ঠানটির ওলামায়ে-কেরাম ফতোয়া জারি করেছেন সা’দের কিছু কথা ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ মর্মে তারা মাওলানা সা’দকে চিঠি দিয়েছেন। তার মতামত থেকে সরে এসে মূল আকিদা অনুযায়ী ইসলাম প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তার পক্ষ থেকে একদল অনুসারী ওলামায়ে দেওবন্দের সঙ্গে দেখা করতে আসলেও সন্তুষ্ট ছিলেন না তারা।

যে কারণে পত্রিকায় খবর প্রচারিত হয়। কী কারণ ফতোয়া দেয়া হয়েছে তাও উল্লেখ করা হয়। বিশ্লেষণে সত্যিকার অর্থে তার সেসব কথা ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এরপরেও তাবলীগ-জামাতের শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম সা’দের পক্ষে। আজকের ঘটনার মূল কারণ এটাই।

তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে পাকিস্তানে তাবলীগ-জামাতের এক আয়োজনে বাংলাদেশের তাবলীগ-জামাতের মজলিশে শুরা সদস্য ও ফায়সাল (আমির) সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম ও হাফেজ মাওলানা জুবায়েরের যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জুবায়ের সেখানে যান। দেশে ফেরার পর অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে বললেও জুবায়ের কিছু জানাননি। এ নিয়েও ঝামেলা হয় দু’পক্ষের মধ্যে।

‘তিন-চার বছর ধরেই এ দলাদলি চলছে। বাংলাদেশ তাবলীগ-জামাত পরিচালনা কমিটির শুরা সদস্য ১১ জন। এর মধ্যে সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম ও হাফেজ মাওলানা জুবায়েরের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং রয়েছে। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন’-বলে তিনি

জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে কাকরাইল মসজিদে শুরা সদস্যরা মাসোয়ারা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে ওয়াসিফুল ও জুবায়ের গ্রুপ একে অন্যের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করতে থাকেন। এরপর হাতাহাতি যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। লাঠিসোটা নিয়ে ওয়াসিফুল পক্ষকে ধাওয়া করে একদল। ওই ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মাসোয়ারা কক্ষসহ মসজিদের ভেতরের কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মইনুল ইসলাম।

তিনি জানান, ‘মতবিরোধের জেরে দু’পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব। এ কারণেই হাতাহাতি হয়েছে। আমরা দু’পক্ষের সঙ্গে বসেছি। আশা করছি বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সুরাহা হবে।

এর আগেও তাবলীগ-জামাতের বিরোধ নিয়ে এ দু’পক্ষের মধ্যে মামলা-পাল্টা মামলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তাদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকও করেছেন।

একটি সূত্র জানায়, গত জানুয়ারিতে করা ওলামায়ে দেওবন্দের দেয়া ফতেয়ার প্রেক্ষিতে স্বরাষ্টমন্ত্রী জানান, বিতর্কিত লোককে না আনাই ভালো। মাওলানা সা’দের ব্যাপারে যেহেতু ফতোয়া এসেছে সুতরাং তাকে আনা যাবে না।

এরপর দিল্লির মারকাজের মুরব্বি মাওলানা সা’দকে ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট নিরসনে উলামা মাশায়েখ পরামর্শ সভা হয়েছে একাধিকবার। গত ১৪ নভেম্বর উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডের আয়েশা মসজিদে এ ইস্যুতে এক বৈঠক হয়। তবে মাওলানা সা’দের বাংলাদেশে ইজতেমায় আসা না আসার বিষয়টি এখনো সুরাহা হয়নি।

মাওলানা সাদ বিষয়ে উত্তরার পরামর্শ সভায় আলেমদের ৩ সিদ্ধান্ত
                                  

তাবলিগে চলমান সঙ্কট নিরসনে আয়োজিত রাজধানী উওরার পরামর্শ সভায় শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম অংশ নেন, এতে সবার কণ্ঠেই ছিলো ঐক্যের সুর।

শনিবার (১১ নভেম্বর) সকালে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্থান থেকে আলেমগণ এসেছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমাদ শফী’র উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি।

তবে মাওলানা আনাস মাদানী সভায় আল্লামা আহমদ শফীর বার্তা পেশ করেন।

মাওলানা আনাস মাদানী বলেন, আব্বাজানের একান্ত আগ্রহ ছিল এ মজলিসে উপস্থিত হওয়া। তবে তিনি বলেছেন, ‘যে বিষয় নিয়ে আজ আমরা উপস্থিত হয়েছি, মাওলানা সাদের বক্তব্য প্রত্যাহার না করা ব্যতীত এবং দারুল উলুমের আস্থা ফিরে না আসা পর্যন্ত তাকে যেন বাংলাদেশে আসতে না দেয়া হয়। সে ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামকে সোচ্চার থাকতে বলেন।

সভাপতির ভাষণে হেফাজতে ইসলামের মহা সচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, বাংলাদেশে তাবলীগ চললে মাওলানা ইলিয়াসের তাবলীগই চলবে। কোন ব্যক্তির তাবলীগকে এই বাংলার জামিনে চলতে দেওয়া হবে না!!

এসময় তিনি যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় ওলামায়ে কেরামকে প্রস্তুত থাকার আহবান জানান।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব এবং হেফাজত ঢাকা মহানগরীর সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, তাফাক্কুহ ফিদ্দিন না থাকা এবং ওলামায়ে কেরাম উদাসীনতাই ফেৎনার জন্ম দেয়। তাই চলমান সঙ্কট নিরসন করা ওলামসাায়ে কেরামের দায়িত্ব।

মাদরাসা নূরে মদিনার মুহাতিমম আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, তাবলিগে বাতিলের গুপ্তচর চেপে বসেছে। যারা লাঠিয়ালের মাধ্যমে তাদের কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখতে চায়।

একপর্যায়ে তিনি মাওলানা সাদকে বাতিলের গুপ্তচর হিসেবে আখ্যায়িত করে তাকে গোটা বিশ্বের জন্য অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন।

দৈনিক ইনকিলাবের সহ সম্পাদক মাওলানা ওবাদুর রহমান খান নদবী বলেন, একটা বিষয় আমাদের স্পষ্ট হতে হবে, যে ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া হিসেবে, উম্মতের প্রতিটি বিষয়ে ওলামাদের নাক গলানো কর্তব্য। এক্ষেত্রে কারো কোন ধরনের কথায় ভ্রুক্ষেপ করা হবে না।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মাওলানা সাজিদুর রহমান, মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মুফতি কেফায়াতুল্লাহ আজহারীসহ প্রমুখ আলেমে দ্বীন ও নেতৃবৃন্দ।

আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ সভায় উপস্থিত হতে না পারলেও তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হয়।

সর্বশেষ অনুষ্ঠানের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন গাজীপুরের শীর্ষ আলেম দারুল উলূম টঙ্গির মুহতামিম, মুফতী মাসউদুল করীম।

ঘোষণাপত্রে ৩ টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়, ১.মাওলানা সাদের সকল বিতর্কিত বিষয়ের বিরুদ্ধে দারুল উলুম দেওবন্দের যে অবস্থান, বাংলাদেশের ওলামা তার সাথে একমত!

২. চলমান পরিস্থিতে মাওলানা সাদ বাংলাদেশে আগমন করলে এদেশের দ্বীনি অঙ্গনে ফেৎনা সৃষ্টির আশংকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এবং ওলামায়ে কেরাম কর্তৃক গৃহিত পদক্ষেপকে এ মাহফিলের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানানো হচ্ছে এবং সকল ক্ষেত্রে দ্রুত কার্যকর করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

৩. সারা বিশ্বে প্রকাশমান এ সঙ্কটে মাওলানা সাদ এর ব্যাপারে দারুল উলূম দেওবন্দ, সাহারানপুর এবং আল্লামা আহমদ শফীসহ সারা বিশ্বের সকল ফতওয়া বিভাগ আস্থা প্রকাশ করার পূর্ব পর্যন্ত তাকে তাবলিগি কোন কাজে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হবে না।

একই সঙ্গে এক্ষেত্রে তাকে তার ভুলের জন্য প্রকাশ্য স্বীকারোক্তিমূলক ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এবং তার অনুসারীদের নিয়ে এ গোমরাহীর পথ ছেড়ে আসতে হবে!

পরিশেষে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি হয়!!

 

বিশ্ব ইজতেমা শুরু ১২ জানুয়ারি
                                  

আগামী বছরের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব হবে ১২ থেকে ১৪ জানুয়ারি আর দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল

নিরাপত্তার জন্য যা যা প্রয়োজন বিশ্ব ইজতেমা মাঠে তা রাখা হবে বলে জানান মন্ত্রী। টঙ্গীতে বিশ্ব এজতেমার নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত বৈঠক শেষে মন্ত্রী এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবারের মতো এবারও যাতে সুন্দর ও নিরাপদভাবে ইজতেমা শেষ করতে পারি এজন্য আরও কিছু করার প্রয়োজন আছে কি না এজন্য সবার সঙ্গে আলোচনা করেছি। ইজতেমাস্থলে প্রতিবারের মতো এবারও ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও প্রয়োজনীয়সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী থাকবে। নিরাপত্তার জন্য যা যা প্রয়োজন সবকিছুই সেই মাঠে আমরা রাখব।’

ইজতেমার নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি আছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো থ্রেটের কথা আমরা জানি না। আমরা মনে করি, যে কোনো সময় যে কোনো কিছু হতে পারে। সেজন্য গোয়েন্দা থেকে আরম্ভ করে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী সবসময় সজাগ থাকবে এবং রয়েছে।

আজ প্রবারণা পূর্ণিমা
                                  

বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আজ বৃহস্পতিবার। প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপনের মাধ্যমে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা ভিক্ষুদের কাছে পাপমোচনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এর মাধ্যমে বৌদ্ধভিক্ষুরাও তাঁদের বর্ষাবাস শেষ করেন। এই দিনে বুদ্ধপূজা, সংঘদান, পিণ্ডদান, অষ্টপরিষ্কার দান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, শীল গ্রহণ, প্রদীপ পূজা, ফানুস ওড়ানোর মতো নানা আচার পালন করা হয়। ছবিগুলো বৃহস্পতিবার রাজধানীর মেরুল-বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহার থেকে তোলা।

আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বৌদ্ধভিক্ষুরা।

প্রার্থনায় অংশ নেন বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা।

এই পূর্ণিমা পালনের মাধ্যমে বৌদ্ধভিক্ষু ও গৃহীদের পাপমোচন হয় বলে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশ্বাস।

প্রার্থনায় অংশ নেয় শিশুরাও।

পিণ্ডদান করছেন কয়েকজন ভক্ত।

প্রবারণা পূর্ণিমায় পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

 

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র আশুরা
                                  

১০ মহররম মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের দিন। হিজরি সাল অনুসারে ১০ মহররমকে আশুরা বলা হয়। সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে আজকের দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়।

ঘটনাবহুল এই দিনে বর্তমান ইরাকের অন্তর্গত কারবালা প্রান্তরে মুয়াবিয়ার হাতে শহীদ হন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রা.)। তার মৃত্যুর দিনটিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন মুসলমানরা।

সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের মুসলমানরাও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করে। বিশেষ করে ইমাম হোসেনের মৃত্যুর প্রতীকী শোক পালন করতে প্রতিবছর তাজিয়া মিছিল বের করে ইমামবাড়াগুলো। রাজধানীতে আশুরা উপলক্ষে সবচেয়ে বড় আয়োজন করা হয় পুরান ঢাকায় হোসেনি দালানে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সেখান থেকে বের করা হয় তাজিয়া মিছিল।

রোববার সকালে বিশাল একটি তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। হাজারো মানুষ এই শোক মিছিলে ‘হায় হোসেন-হায় হোসেন’ মাতম তুলে অংশ নেয়। একই সময়ে মোহাম্মদপুর থেকে একটি তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। মিছিলে এবার ছুরির বদলে হাত দিয়ে বুক চাপড়িয়ে মাতম করতে দেখা যায়।

কারবালার রক্তাক্ত স্মৃতির স্মরণে অন্যান্যবার নিজের দেহে ছুরি দিয়ে আঘাত করে রক্ত ঝরিয়ে মাতম করা হয়। কিন্তু গত বছরের ন্যায় এবারও পুলিশের অনুরোধ ও হোসেনি ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন যৌথ উদ্যোগে নিরাপত্তার স্বার্থে ছুরি দিয়ে মাতম করা হবে না বলে জানা গেছে।

হোসেনি দালানে তাজিয়া মিছিলের মূল দায়িত্বে রয়েছে হোসেনি ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ৯ ও ১০ মহররম দুই দিন রোজা পালনসহ নফল ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে দিনটি পালন করে থাকেন। আশুরা উপলক্ষে বাংলাদেশে রোববর সরকারি ছুটি। শিয়া মুসলমানরা দিনটিকে শোক ও মর্সিয়া দিবস হিসেবে পালন করে থাকেন।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে আশুরা পালন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন শনিবার বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন রাজধানীতে বসবাসরত শিয়া মুসলমানদের পবিত্র আশুরা পালনের প্রস্তুতি দেখতে শনিবার পুরান ঢাকার হোসনি দালান পরিদর্শন করেন।

হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম কারবালা প্রান্তরে ইসলামের সুমহান আদর্শের পতাকা সমুন্নত রাখতে ১০ দিন অবরুদ্ধ থেকে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন। কিন্তু তবুও মদ্যপ, ব্যভিচারী ও বেনামাজি ইয়াজিদকে ইসলামের খলিফা ঘোষণা করে তার হাতে বাইয়াত হওয়ার অন্যায় দাবির কাছে নতি স্বীকার করেননি। এভাবেই তিনি উম্মতে মোহাম্মাদীর সামনে কোনো ধরনের অন্যায়, জুলুম ও অত্যাচারের কাছে নতি স্বীকার না করার দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করে যান।

ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ী, ১ মহররম বর্তমান ইরাকের কুফা নগরীর কাছে ফোরাত নদের তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ইমান হোসাইন। নবীর আদরের নাতির পরিবার-পরিজন ও সাথীদের জন্য ফোরাতের পানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

কুফার গভর্নর ইবনে জিয়াদের নিয়োজিত বাহিনীর প্রধান সাদ ইবনে ওমর ইয়াজিদকে ইসলামের খলিফা ঘোষণা করে তার হাতে বাইয়াত গ্রহণের জন্য ইমাম হোসাইনের ওপর চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু তিনি ইসলামের আদর্শ রক্ষার স্বার্থে ইয়াজিদকে ইসলামের খলিফা ঘোষণা ও তার ইমামত স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান। ইয়াজিদের বাইয়াত মানতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নির্মমভাবে নবী দৌহিত্রকে হত্যা করা হয়।

মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন এ দিনেই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এই দিনেই কিয়ামত বা পৃথিবী ধ্বংস হবে। বেহেস্ত থেকে মানব জাতির আদি পিতা হজরত আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.) পৃথিবীতে আগমনের ঘটনা ঘটে এই দিনেই। ৩০০ বছর প্রার্থনার পর এই দিনেই তারা মহান আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেন। আর এই দিনেই আরাফার ময়দানে পুনরায় সাক্ষাৎ লাভ ঘটে তাদের।

প্রতিমা বিসর্জন আজ
                                  

আজ বিজয়া দশমী। দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটবে। গত মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল হিন্দুধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা।

আজ সব পূজামণ্ডপ ঘিরে শুধুই বিষাদের ছায়া। বিদায়ের সুর বাজছে মণ্ডপগুলোতে। দেবীকে বিদায় দিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শেষ মুহূর্তের পূজা-অর্চনা সম্পন্ন করছেন। একটু পর ঢাকঢোল, খোল-করতাল, কাসর-শঙ্খ বাজিয়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুর্গার বিদায়ের আয়োজন সম্পন্ন করা হবে।

এ ছাড়া আজ ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বিকেল ৩টায় বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে। বিজয়া দশমী উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচারিত হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার ছিল নবমী। এ দিন সকাল থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে ভক্ত-দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। শ্রদ্ধা আর ভক্তির মধ্য দিয়ে প্রার্থনা করেন। দেবীর বন্দনায় প্রতিটি পূজামণ্ডপে ছিল কেবলই বিষাদের ছায়া।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির তথ্য মতে, এবার সারা দেশে ৩০ হাজার ৭৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঢাকায় ২৩১ মণ্ডপে পূজা হচ্ছে এবার।

আজ কুমারী পূজা
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক: শারদীয় দুর্গাপূজার সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং জাঁকজমকপূর্ণ দিন মহাঅষ্টমী। আজ। দেবীর সন্ধ্যাপূজা আর রামকৃষ্ণ মিশনগুলোতে কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

কুমারী বালিকার মধ্যে শুদ্ধ নারীর রূপ চিন্তা করে তাকে দেবী মনে পূজা করবে ভক্তরা। বেলা ১১টায় দেশের সব রামকৃষ্ণ মিশন মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা। এরপর শুরু হবে সন্ধ্যা পূজা। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণের কথামতে বলা হয়েছে, সব স্ত্রীলোক ভগবতীর এক স্বরূপ।

শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর বেশি প্রকাশ। সব নারীতে মাতৃত্বরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার প্রধান লক্ষ্য। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত এক থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে পূজায় উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে। বয়সভেদে কুমারীর নাম হয় ভিন্ন। শাস্ত্রমতে এক বছর বয়সে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কালিকা, পাঁচে সুভগা, ছয়ে উমা, সাতে মালিনী, আটে কুঞ্জিকা, নয়ে অপরাজিতা, দশে কালসর্ন্ধভা, এগারোয় রুদ্রানী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চৌদ্দয় পীঠনায়িকা, পনেরোয় ক্ষেত্রজ্ঞ এবং ষোল বছরে আম্বিকা বলা হয়ে থাকে। এদিন নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরিয়ে ঘাটে বসানো হয়।

পূজা অর্চনা ও দেবীর পায়ে ভক্তদের অঞ্জলি দানের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী পালিত হয়েছে। বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাঁচ দিনব্যাপী সর্ববৃহৎ এ ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার পিতৃগৃহে আগমন ও বিদায় উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সকাল থেকে চণ্ডীপাঠে মুখরিত থাকবে সব পূজামণ্ডপ। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি, ধূপের আরতি আর নানা ব্যঞ্জনার উপকরণ সজ্জা, ঢাকঢোল আর কাঁসরঘণ্টার শব্দে মুখরিত চারদিক। এই পূজাকে আনন্দমুখর করে তুলতে দেশজুড়ে বর্ণাঢ্য প্রস্তুতির পাশাপাশি নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

 

দুর্গা মন্ত্রে দুর্গতি নাশ
                                  

মা দুর্গা অর্থাৎ উমা আমাদের ঘরের মেয়ে। বছরে একটি বার তার বাপের বাড়ি আসা, সেটাও মাত্র চার-পাঁচ দিনের জন্য। শেষে আবার আমাদের মন শূন্য করে তাঁর স্বামীগৃহে চলে যাওয়া। আবারও শুরু একটি দীর্ঘ বছরের প্রতীক্ষা। কিন্তু এই চার-পাঁচদিনেই আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মায়ের কাছে চাহিদার অন্ত থাকে না। বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন রকমের চাহিদা ও মনোবাসনা পূরণের জন্য আর্তি, প্রার্থনা চলতে থাকে মায়ের কাছে।
এই দেবীপক্ষে মায়ের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ভক্তি সহকারে প্রতিদিন একই সময়ে প্রয়োজনীয় ক্রিয়া গুলি করতে পারলে সাফল্য লাভ হয়।
বাধা-বিপত্তি নাশের জন্য - 
‘শরণাগত দীনার্ত 
পরিত্রাণ-পরায়ণে। 
সর্বস্যার্তিহরে দেবী 
নারায়ণী নমোহস্তুতে’।
মোট জপ সংখ্যা দশ হাজার বার। প্রতিদিন একশো আটবার করে।
অযাচিত শত্রু নাশের জন্য - 
‘সর্ব বাধা প্রশমনং 
ত্রৈলোক্যস্যাখিলেশ্বরী। 
এবমেব ত্বয়া কার্যমন্মদ 
বৈরী বিনাশনম’।
মোট জপ সংখ্যা দশ হাজার বার। প্রতিদিন একশো আটবার করে।
সৌভাগ্য লাভ ও সুস্থ থাকার জন্য- 
‘দেহি সৌভাগ্যমারোগ্যং দেহি 
দেবী পরং সুখম।
রুপং দেহি জয়ং দেহি
যশো দেহি দ্বিষো জহি’।
মোট জপ সংখ্যা এক লক্ষ পঁচিশ হাজার বার। প্রতিদিন চারশো বত্রিশ বার করে।
বিদ্যালাভ ও কর্ম লাভের জন্য- 
‘বিদ্যাবন্তং যশস্বন্তং 
লক্ষীবন্তঞ্চ মাং কুরু।
রূপং দেহি জয়ং দেহি
যশো দেহি দ্বিষো জহি’।
মোট জপ সংখ্যা এক লক্ষ পঁচিশ হাজার বার। প্রতিদিন চারশো বত্রিশ বার করে।
বিবাহের জন্য- 
‘ভার্যাং মনোরমাং দেহি
মনোবৃত্ত্যনুসারিণীম্।
রূপং দেহি জয়ং দেহি
যশো দেহি দ্বিষো জহি’।
মোট জপ সংখ্যা সাতাত্তর হাজার বার। প্রতিদিন দু’শো ছাপ্পান্ন বার করে।
জীবনে স্থিতিশীলতা আনার জন্য- 
‘সৈব কালে মহামারী
সৈব সৃষ্টির্ভবত্যজা।
স্থিতিং করোতি ভূতানাং
সৈব কালে সনাতনী’।
মোট জপ সংখ্যা এক লক্ষ পঁচিশ হাজার বার। প্রতিদিন চারশো বত্রিশ বার করে।
সব কাজে সাফল্য ও বিপদ থেকে মুক্তির জন্য - 
‘ওঁ হ্রীং দুর্গে দুর্গে
রক্ষণী রক্ষণী স্বাহা’।
সারাদিনে যতক্ষণ পারবেন জপ করুন। এর কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। অধিক জপে অধিক ফল।

ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়
                                  

পবিত্র সাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ অথবা ২৭ জুন পবিত্র  ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ওই দিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহে।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় আয়োজিত বৈঠক শেষে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মতিউর রহমান এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ঈদের প্রধান জামাত হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ  করছে। এরই মধ্যে ঈদগাহ প্রস্তুত করতে কাজ শুরু করেছে সিটি করপোরেশন। কাজের সার্বিক তদারকি করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘মুসলিম দেশের কূটনৈতিকদের ঈদের জামাতে উপস্থিত থাকার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানো হবে।’

অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মতিউর রহমান জানান, ‘ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দেবেন। ঈদুল ফিতরের জামাতের বিজ্ঞপ্তি সকলেরর অবগতির জন্য বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচার করা হবে। এ ছাড়া রাজধানীর প্রধান প্রধান জামাত ও বৃহত্তর জেলাসমূহের  ঈদের জামাতের সময়সূচি যথাসময়ে সকল মিডিয়ায়  জানানো হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের দিন বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি প্রচারমাধ্যমে  বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। দেশের  বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার ও সরকারি শিশু সদনে ঈদের দিন উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হবে।’

ঈদগাহের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে মনিটরিং শুরু করে দিয়েছে। আমরাও নজরদারি করব। আশা করি কোনো অসুবিধা হবে না।’

সভায়  মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ওয়াসা, পুলিশসহ  বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

যে সব কারণে রোজা ভঙ্গ হয়
                                  

পবিত্র রমজান মাসে প্রায় সকল মুসলিমই মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্যে রোজা বা সাওম পালন করে থাকে। সুবহি সাদিক থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যে সকল প্রকার পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকার নামই হচ্ছে সাওম বা রোজা। এ লেখায় রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ তুলে ধরা হলো।

ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করলে ও ধূমপান করলে : রোজার রাখার অর্থ সুবহে সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহারই নিষিদ্ধ। কিন্তু কেউ যদি রোজা থাকা অবস্থায় কোন প্রকার পানাহার বা ধূমপান করে তাহলে নিঃসন্দেহে তা রোজা ভঙ্গের একটি কারণ হবে। ডুবে ডুবে জল খাওয়ার মতো করে যদি কেউ সবার অজান্তে লুকিয়ে পানাহার করে সেক্ষেত্রেও রোজা ভেঙ্গে যাবে। কারণ আর কেউ না দেখুক, আল্লাহ তাআলা ঠিকই দেখছেন।

তবে কেউ যদি অনিচ্ছাকৃত ভাবে পানি খেয়ে ফেলে বা অন্য কোন খাবার খেয়ে ফেলে তাহলে রোজা ভাঙ্গবে না। খাওয়ার সময় যদি মনে পরে যে ব্যক্তি রোজা ছিলো, তাহলে মুখের খাবার ফেলে দিতে হবে। এছাড়া যতটুকু অজান্তে খেয়ে ফেলেছে ততটুকুর জন্যে রোজা ভাঙ্গবে না।

এ বিষয়ে নবী করিম (সা.) বলেছেন- ‘যদি কেউ ভুলক্রমে পানাহার করে তবে সে যেন তার সিয়াম পূর্ণ করে নেয়, কেননা, আল্লাহ তায়ালাই তাকে এ পানাহার করিয়েছেন।’ (অর্থাৎ এতে তার রোযা ভাঙ্গেনি) –(বোখারিও মুসলিম শরিফ)

অনেকেই মনে করতে পারেন ধূমপান তো পানাহারের মধ্যে পড়ে না, তাছাড়া ধূমপান করলে পেট ভরারও কিছু নেই তাই ধূমপান করা যাবে। এটা ভুল, ধূমপান করলেও রোজা সম্পুর্ণরূপে ভেঙ্গে যাবে। ধূমপানের আসক্তি বা নেশা  ছেড়ে দেওয়ার জন্যে উপযুক্ত সময় হচ্ছে রমজান মাস। দীর্ঘ একমাস রোজা রাখার কারণে সারাদিনই মানুষ সিগারেট ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকে। যা এ ধরনের আসক্তি দূর করতে সাহায্য করে।

ওযু করার সময় গড়গড়া করা যাবে না। আর নাকে পানি দেওয়ার সময় সাবধান থাকতে হবে যেন পানি ভেতরে চলে না যায়। ইচ্ছাকৃত ভাবে পানি ঢোকালে রোজা ভেঙ্গে যাবে, অনিচ্ছাকৃত হলে সেটা আলাদা।

স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হলে : রোজা রাখা মানে শুধু পানাহার থেকে না, ইন্দ্রীয় তৃপ্তি থেকেও নিজেকে বিরত রাখা। সেই অর্থে রোজা থাকা অবস্থায় যদি কেউ সহবাস করে তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। এক্ষেত্রে তাকে কাজা ও কাফফারা দুটোই করতে হবে।

কাফফারা আদায়ের নিয়ম হচ্ছে- কোনো মুসলিম দাস বা দাসী মুক্ত করে দেয়া। বর্তমানে যেহেতু দাস প্রথা নেই। ইসলাম ধাপে ধাপে দাস প্রথাকে উচ্ছেদ করেছে, তাই দাস-দাসী মুক্ত করে কাফফারা আদায় করার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে এক একটি রোজার পরিবর্তে দু মাস বিরতিহীন রোজা রাখতে হবে।  বিরতিহীন রোজা পালন করতে গিয়ে সঙ্গত কারণ ছাড়া যদি বিরতি দেয়া হয়, তবে আবার নতুন করে দু মাস রোজা রাখতে হবে। যদি বিরতিহীন ভাবে দু মাস সিয়াম পালনের সামর্থ্য না রাখে তবে এক একটি রোজার পরিবর্তে ষাট জন অভাবী মানুষকে খাদ্য দান করতে হবে। প্রত্যেকের খাদ্য হবে এক ফিতরার সম পরিমাণ।

ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে : রোজা ভেঙ্গে যাবে। তবে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হয়ে থাকে তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই। অনিচ্ছাকৃত বমি হলে, বমি করার পর সমস্ত মুখ ভালো করে পানি দিয়ে কুলি করে ধুয়ে নিতে হবে যেন মুখের কোথাও বিন্দুমাত্র খাবারের কণা জমে না থাকে। এ সম্পর্কে নবী  করিম (সা.) বলেন – ‘যে ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি করল তাকে উক্ত সিয়াম কাযা করতে হবে না। কিন্তু যে স্বেচ্ছায় বমি করল তাকে উক্ত সিয়াম অবশ্যই কাযা করতে হবে (আবূ দাউদ)

হস্তমৈথুন করলে :  হস্তমৈথুন বা অন্য কোনভাবে যদি কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে বীর্যপাত ঘটায় তাহলে তা রোজা ভঙ্গের কারণ হবে। এক্ষেত্রে যদি কেউ কামভাবে স্ত্রীকে স্পর্শ করার মাধ্যমেও বীর্যপাত ঘটায় তাহলেও রোজা ভেঙ্গে যাবে। তবে স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙ্গবে না। তবে স্বপ্নদোষ হয়েছে এমনটা বোঝামাত্রই ফরজ গোসল করে নিজেকে পবিত্র করে নিতে হবে।

ঋতুস্রাব হলে : রোজা রাখা অবস্থায় যদি মহিলাদের মাসিকের রক্ত দেখা দেয় তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। এমনিভাবে প্রসবজনিত রক্ত প্রবাহিত হতে থাকলে রোজা নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে যে কয়টি রোজা নষ্ট হবে সে কয়টি পরে কাজা করে নিতে হবে।

ইনজেকশন নিলে : ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে জীবনী শক্তি বৃদ্ধি করার জন্যে কিংবা অন্য কোন কারণে শরীরে ওষুধ প্রবেশ করানো হলে  রোজা ভেঙ্গে যাবে। যদি অবস্থা এমন হয় যে ইনজেকশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে ওষুধ নিতেই হবে নয়তো বড়সড় কোন সমস্যা হয়ে যাবে সেক্ষেত্রে কথা ভিন্ন। এ ব্যাপারে একাধিক মতামত রয়েছে। ইনজেকশন যদি এমন হয় যে তাহলে শরীরের বল বৃদ্ধি করবে (যেমন গ্লুকোজ) তাহলে সে জাতীয় ইনজেকশন ব্যবহারে রোজা ভেঙ্গে যাবে। কারণ খাবার যেই কাজ করে এক্ষেত্রে অনেকটা একই কাজ করছে এটি। তবে শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্যে যদি ইনজেকশন দেয়া হয় (যেমন ইনসুলিন, পেনিসিলিন) তাহলে রোজা ভাঙ্গবে না।

এছাড়া দাঁতে আটকে থাকা ছোলা পরিমাণ বা তার চেয়ে বড় খাদ্য-দ্রব্য গিলে ফেললে, বমি মুখে আসার পর গিলে ফেললে, রাত্রি আছে মনে করে পানাহার করলো, কিন্তু দেখা গেলো সুবহে সাদিক হয়ে গিয়েছে, মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়ে সুবহে সাদিকের পর নিদ্রা হতে জাগরিত হলে। এসব ক্ষেত্রে রোজার কাজা করতে হবে।

সুরমা ব্যবহার, চোখে বা কানে ঔষধ ব্যবহার করলে সিয়াম নষ্ট হয় না, যদিও তার স্বাদ অনুভূত হয়। কোন কিছুর স্বাদ অনুভূত হলে সিয়াম ভঙ্গ হয় না। সিয়াম ভঙ্গ হওয়ার সম্পর্ক হল পানাহারের সাথে। কোন কিছুর স্বাদ পরীক্ষা করার কারণে সিয়াম ভঙ্গ হয় না, যদি না তা গিলে ফেলে। কোন কিছুর ঘ্রাণ নিলে সিয়াম ভঙ্গ হয় না। তবে ধুম জাতীয় ঘ্রাণ সিয়াম অবস্থায় গ্রহণ করবে না। যেমন আগরবাতি বা চন্দন কাঠের ধুয়া কিংবা ধুপ গ্রহণ করবে না। কুলি করলে বা নাকে পানি দিলে সিয়াম ভঙ্গ হয় না, তবে গড়গড়া করবে না বা নাকের খুব ভিতরে পানি দেবে না, বা নাকে পানি দিয়ে উপরে টান দেওয়া যাবে না।

গর্ভবতী নারীর সন্তান বা নিজের প্রাণ নাশের আশঙ্কা হলে রোজা না রাখা বা ভঙ্গ করা বৈধ। তবে পরে কাজা আদায় করতে হবে। যে সব নারী তার সন্তানকে দুধ পান করান, রোজা রাখার ফলে যদি দুধ না আসে এবং এতে সন্তানের অসুবিধা হয়, তবে রোজা না রাখার অনুমতি আছে। কিন্তু পরে কাজা আদায় করতে হবে।  মুসাফির অবস্থায় রোযা না রাখার অনুমতি আছে।

রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে রোজা পালনের তাওফিক দান করুন। -আমিন।

রাজধানীতে হেফাজতের বিক্ষোভ
                                  

সুপ্রিম কোর্ট থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবিতে শুক্রবার রাজধানীতে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সামনে মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে ভিনদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য। সুপ্রিম কোর্টের কোনো স্থানেই মূর্তি থাকতে দেওয়া হবে না।

বক্তারা আরো বলেন, মৃণাল হক সুপ্রিম কোর্টের সামনে জঙ্গিবাদ শুরু করেছে। সুপ্রিম কোর্টের সামনে দেবীর হাতে তরবারি দিয়েছে। একে গ্রেপ্তার করে শাস্তি দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা নূর হোছাইন কাসেমী বলেন, গ্রিক দেবী অপসারণের কারণে আমরা গত শুক্রবার ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে আজ আমাদের প্রতিবাদ সমাবেশে সমবেত হয়েছি। মূর্তি অপসারণের পর আবার প্রতিস্থাপন তামাশা, এ ছাড়া আর কিছু নয়। অনতিবিলম্বে মূর্তি অপসারণ করা হোক, না হলে রমজানের পরে বৃহৎ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী, জ্বালাও-পোড়াওয়ে বিশ্বাসী না।

এ সময় ঢাকা মহানগর হেফাজতের সহসভাপতি মুফতি মাহফুজুল হক, মুজিবুর রহমান পেশওয়ারী, গোলাম মুহিউদ্দীন ইকরাম, আতাউল্লাহ আমিন, হাকিম আব্দুল করিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

রোজাদার জান্নাতে প্রবেশ করবে ‘রাইয়ান’ দিয়ে
                                  

রোজা রাব্বুল আল-আমীনের এক অপূর্ব নিয়ামত। রমজান ধৈর্য্যের মাস। আর ধৈর্য্যের সওয়াব হলো বেহেশত। পবিত্র রমজানের ফজিলত ও মর্যাদা আসলে অপরিসীম। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন- যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। -(বোখারী ও মুসলিম)

অপর এক হাদিসে এসেছে, হযরত সাহ্ল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) এরশাদ করেছেন-  বেহেশতের আটটি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে একটি দরজার নাম রাইয়ান। রোজাদার ব্যতিত আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। -(বোখারী ও মুসলিম)

রোজাদারের খুশির বিষয় দুটি- যখন সে ইফতার করে, আর একবার যখন সে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রোজার বিনিময় লাভ করবে। -(বোখারী)

পবিত্র রমজান মাস মহান আল্লাহর সঙ্গে প্রিয় বান্দার প্রেম বিনিময়ের সবচেয়ে উত্তম সময়। এই মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। তাই এ মাসের ফজিলত ও মর্যাদা অনেক।

এই মাসে যে ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশে একটি নফল আমল করল সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ আদায় করলো সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করলো।

এটা এমন পবিত্র মাসের প্রথম দিক রহমত, মাঝের দিক মাগফিরাত, আর শেষ দিক হচ্ছে দোযখ থেকে মুক্তির। যে ব্যক্তি এই মাসে আপন অধীনস্থ দাস-দাসীদের কাজের বোঝা হালকা করে দেবে মহান আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন এবং তাকে দোযখ থেকে মুক্তি দান করবেন। (বায়হাকী)

হযরত আবু ওবায়দা (রা.) রমজানের গুরুত্ব সম্পর্কে আরেকটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, হুজুর (সা.) এরশাদ করেছেন- রোজা মানুষের জন্য ঢালস্বরূপ যতক্ষণ পর্যন্ত তা ফেড়ে না ফেলা হয় (অর্থাৎ রোজা মানুষের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা নিয়ম অনুযায়ী পালন করা হয়)। (ইবনে মাজাহ, নাসাঈ)

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এ সম্পর্কে আরেকটি বর্ণনা এসেছে। তিনি বলেছেন, হুজুর (সা.) এরশাদ করেছেন- অনেক রোজাদার ব্যক্তি এমন রয়েছে যাদের রোজার বিনিময়ে অনাহারে থাকা ব্যতিত আর কিছুই লাভ হয় না। আবার অনেক রাত জাগরণকারী এমন রয়েছে যাদের রাত জাগার কষ্ট ছাড়া আর কিছুই লাভ হয় না। নেক আমল যদি এখলাস ও আন্তরিকতার সঙ্গে না হয়ে লোক দেখানোর উদ্দেশে হয় তাহলে এর বিনিময়ে কোনো সওয়াব পাওয়া যায় না। (ইবনে মাজাহ, নাসাঈ)

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) আরো বলেছেন, নবী করীম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে শরীয়ত সম্মত কোনো কারণ ছাড়া রমজানের একটি রোজাও ভাঙে সে রমজানের বাইরে সারাজীবন রোজা রাখলেও এর বদলা হবে না। (তিরমিযী, আবু দাউদ)

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হযরত রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- আল্লাহ তাআলা বলেন, সিয়াম ছাড়া আদম সন্তানের প্রতিটি কাজ বা আমলই তার নিজের জন্য। কিন্তু সিয়াম আমার জন্য। তাই আমি নিজেই এর পুরস্কার দেবো। সিয়াম হচ্ছে ঢাল (জুন্নাতুন)। তোমাদের কেউ সিয়াম দিবসে কোনো প্রকারেরই অশ্লীলতায় যেন লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া বিবাদ না করে। কেউ যদি তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে ঝগড়া করে তাহলে সে যেন দুবার বলে- আমি সায়িম (রোজাদার)। (বুখারী শরীফ)।

বস্তুত রমজান মাসের ফজিলত বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। এই মাসের পবিত্রতা যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে ব্যাপারে সবারই সচেষ্ট হওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, রমজান মাস আল্লাহ জাল্লা শানুহুর খাস মাস। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে পবিত্র রমজানের ফজিলত জেনে বেশি বেশি নেক আমল করার তৌফিক দান করুন। -আমিন।

ধৈর্য্য ও সিয়াম সাধনা
                                  

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাস ধৈর্য্যের মাস বলেছেন। ধৈর্য্য ধারণ করার অব্যর্থ ও কষ্টকর শিক্ষা নিহীত আছে সিয়াম সাধনার মধ্যে। সেই শিক্ষা মানুষের জাগতিক কাজ-কর্মে সফল হওয়ার নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।

সাহরী খাওয়ার পর আল্লাহর বান্দা নিয়ত করে সুবহে সাদিক থেকে পানাহার পরিত্যাগ করার মাধ্যমে সিয়াম শুরু করে। এর পর সকাল পেরিয়ে সময়ের চাকা দুপুর গড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে রোজাদারের  ক্ষুধাও তৃষ্ণা বেড়ে যায়। দুপুর গড়িয়ে সময় যখন তাকে বিকেলের অবসন্নতায় ঠেলে দেয়, তখন তার তৃষ্ণা ও ক্ষুধার তীব্রতা বেড়ে যায় বহু গুণ। দুপুরের ক্ষুধায় নফস তাকে পানাহার করার জন্য প্রলব্দ করেছিল। কিন্তু প্রভুর নির্দেশের কাছে নফসের আহবান হার মেনেছে। বিকেলের ক্ষুধার তীব্রতায় নফসের আহ্বানের শক্তিও বেড়েছে বহু গুণ। কিন্তু তাতেও বান্দা সাড়া দেয়নি। কারণ নফসের তাড়না থেকে বান্দার মনে প্রভুর তুষ্টির চেতনা অনেক বেশি শক্তিমান। তাই তো ক্ষুধা ও তৃষ্ণার তীব্রতার মাঝেও প্রভু-ভক্ত রোজাদার ধৈর্য্য ধারণ করেছে। কষ্টের মাঝে ধৈর্য্য ধারণ করার এই শিক্ষার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসের নাম সিয়াম।

চরম আকর্ষণ ও চাহিদার পরও বান্দা যখন ধৈর্য্যরে হাতিয়ার দিয়ে কষ্টকে পরাজিত করেছে তখন প্রভু-তুষ্টির সাধনার পথিক এই বান্দার জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরষ্কার স্বরূপ ঘোষণা এসেছে, ধৈর্য্য ধারণকারীদেরকে এত বেশি প্রতিদান দেওয়া হবে যে তা গণনা করা যাবে না। পবিত্র কোরআনে আরও ঘোষণা হয়েছে, হে ঈমানদারগণ, ধৈর্য্য ধারণ করো, অটল-অবিচল থাক, আল্লাহর রাস্তায় নিজেকে ধরে রাখো এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাকো, তাহলে সফল হবে।

সূরা কাসাস–এ ধৈর্য্য ধারণকারী বান্দাদের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, ধৈর্য্যরে কারণে তাদেরকে একবার নয়- দুই প্রতিদান দেওয়া হবে। আর এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে যখন মহান রব ঘোষণা করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্য্য ধারণকারীদের সঙ্গে আছেন।

সহি বুখারী ও মুসলিম শরীফে হযরত আবু সায়িদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ধৈর্য্য থেকে অধিক উত্তম এবং বিস্তৃত কোন দান বান্দার জন্য হতে পারে না। অন্য হাদীসে এসেছে, ইমানদারের সকল কর্মই আশ্চর্যজনকভাবে তার জন্য মঙ্গলজনক। তার কাছে কোনো নেয়ামত এলে যে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে এবং শুকরিয়া জ্ঞাপন তার জন্য মঙ্গলজনক। আবার কোনো বিপদ ও মসিবত এলে সে ধৈর্য্য ধারণ করে এবং এ ধৈর্য্য ধারণ করাও তার জন্য যারপর নাই মঙ্গল বয়ে আনবে।

আসলে ইহকাল ও পরকালে সফলতার কষ্টকর চারিত্রিক গুণের নাম ধৈর্য্য। মানুষের জীবনে, বিপদে, মসিবতে, কষ্টে ও সংকটে, প্রতিযোগিতা ও প্রতিকুলতায় কিভাবে ধৈর্য্য ধারণ করতে হয়, তার পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা নিহীত আছে সিয়াম সাধনায়। আল্লাহ পাক সেই শিক্ষা গ্রহণ করার সবাইকে তাওফিক নসিব করুন। আমীন।

লেখক : মুফতি আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক, উপাধ্যক্ষ, কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসা

বাংলায় কোরআন পড়া ও শোনা
                                  

মুসলমানদের জন্য বিশেষ ইবাদতের মাস রমজান। এ মাসে কাজের চাপে বাসায় কোরআন পড়ার সময় না পেলে আপনার হাতের স্মার্টফোনটি সে সুযোগ করে দিতে পারে।

 

যাত্রাপথে, অফিসে কিংবা অবসরে স্মার্টফোনের মাধ্যমে পড়তে পারবেন কোরআন, শুনতে পারবেন তিলাওয়াত। সেটিও করা যাবে বাংলা ভাষাতেই। সম্পূর্ণ কোরআন শরিফটি হাতের মুঠোয় রাখতে স্মার্টফোনটিতে নামিয়ে নিন ‘কোরআন অর্থসহ অডিও’ অ্যাপটি।

একনজরে অ্যাপ্লিকেশনটির ফিচারগুলো : ১.অ্যাপটির সাহায্যে আরবিতে কোরআন শরিফ সম্পূর্ণ শোনা যাবে। চাইলে নির্দিষ্ট একটি সূরা কিংবা সব সূরার অডিও সংস্করণ একত্রে ডাউনলোড করা যাবে ও শোনা যাবে।

২. যারা আরবি জানেন না তাদের জন্য রয়েছে অ্যাপটির বাংলা ফিচার। ফলে সম্পূর্ণ নিজের ভাষা বাংলায় অ্যাপটি ব্যবহার করা যাবে। সেইসঙ্গে সূরার অনুবাদ বাংলায় পড়া যাবে।

৩. কোনো সূরা যদি বেশি পড়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে প্রতিবার সেটি খোঁজার দরকার হবে না। তালিকার প্রথমেই সেটি রাখা যাবে।

৪. এতে রয়েছে প্রিয় অপশন। সেখানে পছন্দের তালিকায় রাখা যাবে সূরাটি।

৫. এ অ্যাপ অফলাইনেও কাজ করবে। ফলে নেই ইন্টারনেট সংযোগের ঝামেলা। অ্যাপ্লিকেশনটি বিনা মূল্যে http://techshohor.com/software/80471 এ ঠিকানা থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে।

বাংলাদেশে জনসংখ্যায় মুসলিমদের অনুপাত কমেছে
                                  

চার বছর আগে বাংলাদেশে জনসংখ্যায় মুসলমানদের শতকরা হার যত ছিল, বর্তমানে তার চেয়ে সামান্য কমেছে। পরিসংখ্যার ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্যে এই বিষয়টি্ প্রকাশ পেয়েছে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অনুপাত যেখানে ক্রমাগত কমেছে, সেখানে এই ঘটনাটিকে অভিনব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

 

প্রতি দশ বছর পরপর আদমশুমারি করার কথা থাকলেও দুটি আদমশুমারির মধ্যবর্তী সময়ে প্রতিবছর আরো একটি জরিপ করা হয়। সেটি হচ্ছে `স্যাম্পল ভাইট্যাল স্ট্যাটিসটিকস।`আর এই জরিপেই সংখ্যালঘুদের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি জানা যায়।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১২ সালে বাংলাদেশে মুসলিম জনগোষ্ঠী ছিল প্রায় ১৩ কোটি ৫৬ লক্ষ। আর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিমাণ ছিল এক কোটি ৭০ লাখের কিছু বেশি। আর ২০১৬ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশে মুসলিমদের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪ কোটি ২১ লাখের কিছু বেশি। আর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা বেড়ে হয় এক কোটি ৮৬ খালের মত। অর্থাৎ চার বছরে মুসলিম জনগোষ্ঠী বেড়েছে ৬৫ লাখ আর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা বেড়েছে ১৬ লাখেরও বেশি।

অর্থাৎ চার বছরে মুসলিম জনগোষ্ঠী বেড়েছে প্রায় ০.০৪৮ শতাংশ। আর সংখ্যালঘুদের অনুপাত বেড়েছে ০.০৯ শতাংশের বেশি।

পরিসংখ্যার ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী ২০১২ সালে বাংলাদেশ জনসংখ্যায় মুসলিম অংশ ছিল ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশ। আর অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ছিল ১১ দশমিক ২ শতাংশ।

চার বছর পরে এসে ২০১৬ সালের ১ জুলাই মুসলিমদের শতকরা হার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে হয় ৮৮.৪ শতাংশ। আর মুসলিমদের যতটা কমেছে, স্বভাবতই অমুসলিমদের ততটাই বেড়েছে।

পরিসংখ্যার ব্যুরোর এই জরিপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে অমুসলিমদের অনুপাত সামান্য বাড়ার বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। সেখানে কেবল বছরওয়ারী পরিসংখ্যান দেয়া ছিল।

এই পরিসংখ্যানে দেখা যায় ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে মুসলিমদের অনুপাত কিছুটা বেড়ে যায়। ওই বছর দেশের মোট জনসংখ্যার ৮৯.১ শতাংশ ছিল মুসলিম। অর্থাৎ এক বছরে শতকরা হারে মুসলিমদের অনুপাত বাড়ে ০.৩ শতাংশ। পরের বছর তা আরও ০.১ শতাংশ বেড়ে হয় ৮৯.২ শতাংশ।

আবার ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে এই অনুপাত এক শতাংশের মত কমে যায়। এই বছর জনসংখ্যায় অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা ছিল শকতরা ১১.৮ ভাগ। সেখান থেকে পরের বছর অমুসলিমদের অনুপাত আবার কিছুটা কমে ১১.৬ শতাংশ হয়।

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ের আদমশুমারিতে দেখা গেছে বাংলাদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমেছে। ১৯৫১ সালে যে আদমশুমারি হয়েছিল তাতে বাংলাদেশে মোট জনগোষ্ঠির ২২ শতাংশ ছিল হিন্দু। ১৯৭৪ সালের আদমশুমারিতে এটা নেমে আসে ১৪ শতাংশে। আর সর্বশেষ ২০১১ সালের আদমশুমারিতে এটা নেমে আসে ৮ দশমিক ৪ শতাংশে।

জনসংখ্যায় সংখ্যালঘুদের অনুপাত যেখানে ধারাবাহিকভাবে কমেছে এতদিন, সেখানে গত চার বছরে উল্টোচিত্রকে কীভাবে হল-জানতে চাইলে পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, এই বিষয়টা আমাদের গবেষণার মূল ফোকাস ছিল না। কাজেই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারবো না।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক নূর-উন-নবী বলেন, `জনসংখ্যায় মুসলমানের অনুপাত কমার ক্ষেত্রে অনেকগুলো ফ্যাক্টর কাজ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বড় একটি সংখ্যক মানুষের বিদেশে কাজের জন্য যাওয়া। বাংলাদেশ থেকে কাজের খোঁজে যারা বিভিন্ন দেশ যায়, তাদের সিংহভাগই যায় মুসলিম দেশগুলোতে। স্বভাবতই মুসলিমরাই সেখানে যায়। আর প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী বিদেশে কাজ করতে যায় বলে জনসংখ্যায় মুসলিমদের অনুপাত কিছুটা কমতে পারে।

অধ্যাপক নুর-উন নবী বলেন, অনেক সময় `স্যামপ্লিং এরর` থাকে। কোনো একটি এলাকায় অন্য ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা বেশি থাকতে পারে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপে এসব এলাকাকে নমুনা হিসেবে বেশি বেছে নেয়া হতে পারে।`

এই জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ তৃতীয় যে কারণটির কথা বলেছেন, সেটা হলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। তিনি বলেন, `আমাদের দেশে মুসলিমদের মধ্যে অতীত কাল থেকেই সন্তান ধারণের প্রবণতা বেশি ছিল। কিন্তু বর্তমান যুগে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম গতি পেয়েছে এবং মানুষ কম সন্তান নিচ্ছে। এ কারণেও থর্মীয় সংখ্যালঘুদের অনুপাত কিছুটা বাড়তে পারে।`


   Page 1 of 5
     ধর্ম
কওমী মাদ্রাসা নিয়ে ভয়ঙ্কর চক্রান্তে খ্রিস্টান পরিচালিত ‘মুভ ফাউন্ডেশন’
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
তাবলীগের দু-পক্ষের সংঘর্ষের নেপথ্যে মাওলানা সাদ!
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
মাওলানা সাদ বিষয়ে উত্তরার পরামর্শ সভায় আলেমদের ৩ সিদ্ধান্ত
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
বিশ্ব ইজতেমা শুরু ১২ জানুয়ারি
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
আজ প্রবারণা পূর্ণিমা
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র আশুরা
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
প্রতিমা বিসর্জন আজ
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
আজ কুমারী পূজা
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
দুর্গা মন্ত্রে দুর্গতি নাশ
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
যে সব কারণে রোজা ভঙ্গ হয়
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
রাজধানীতে হেফাজতের বিক্ষোভ
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
রোজাদার জান্নাতে প্রবেশ করবে ‘রাইয়ান’ দিয়ে
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
ধৈর্য্য ও সিয়াম সাধনা
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
বাংলায় কোরআন পড়া ও শোনা
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
বাংলাদেশে জনসংখ্যায় মুসলিমদের অনুপাত কমেছে
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
৩০ রোজা ফরজের রহস্য এবং আমাদের করণীয়
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
মূর্তি ধ্বংস করুন নতুবা আপনারা ধ্বংস হয়ে যাবেন: চরমোনাই পীর
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
দ্বিতীয় রমজানের দোয়া
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
দ্বিতীয় রোজার সাহরি ও ইফতার সময়
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
সেহরি ও ইফতারের দোয়া
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
সৌভাগ্যের রজনী আজ, লাইলাতুল বরাত (ভিডিও)
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
শবে বরাত হোক বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়িমুক্ত
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
আজ পবিত্র শবেবরাত
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
মূর্তি অপসারণ করা না হলে রাজপথে আন্দোলন : চরমোনাই পীর
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
এবারের রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়-সূচী
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
শ্রমিকদের জন্য প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) তার উম্মতদের উদ্দেশ্য করে যা বলেন
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
১১ মে পবিত্র শবে বরাত
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
যে ঘড়ি মানুষকে ইসলামের পথ দেখাতো
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
আজ পবিত্র শবে মিরাজ
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
জান্নাত ও জাহান্নামের দিকে ধাবিত করে যে কাজ
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের শুভ ইস্টার সানডে আজ
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
পহেলা বৈশাখে হেফাজতের আহ্বান
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
ইসলাম জঙ্গিবাদকে স্বীকৃতি দেয় না
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
জুমার খুতবায় যা বললেন মদিনার ইমাম
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
২৮ মে থেকে শুরু হতে পারে পবিত্র রমজান
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
৪ এপ্রিল ঢাকায় আসছে মক্কা ও মদিনার চার ইমাম
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
স্বাধীনতা নিয়ে যা বলে ইসলাম
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
ফেনীতে আঞ্চলিক ইজতেমার বৃহত্তম আসর
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন এমনই
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো পটুয়াখালীর ইজতেমা
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
পবিত্র কাবা শরীফে বৃষ্টির জন্য ইসতেস্কার নামাজ (ভিডিও)
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত শুরু
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত রোববার
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
তুরাগ তীরে জুমার টানে মানুষের ঢল
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
কড়া নিরাপত্তায় বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
কুতুববাগের ওরশ হবে না ফার্মগেটে
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
রেডিওর স্পিকারেও মোনাজাতের কান্না
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......
‘আমিন আমিন’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত তুরাগ তীর
............ ...... ....... ....... ............................. .......................... ... .... ......