শেয়ার করুন
Share Button
  
  উই আর শকড: মাহমুদুল ইসলামের মৃত্যুতে প্রধান বিচারপতি
  16, February, 2016, 11:38:51:AM
সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল ইসলামের মৃত্যুতে বিচারকরা শোকাহত ও মর্মাহত বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। 
 
আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় আপিল বিভাগের মামলা শুনানি শুরু হলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সিনিয়র আইনজীবী মাহমুুদুল ইসলাম গত রাতে মারা গেছেন। 
 
এ পর্যায়ে এস কে সিনহা বলেন, ‘উই আর সকড’।
 
উল্লেখ্য, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল ইসলাম সোমবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তার মৃত্যুতে বিচারঙ্গণে শোকের ছেয়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী তাহমিনা ইসলাম ও দুই ছেলে আরিফ ইসলাম ও আসিফ ইসলামসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রহী রেখে গেছেন।
 
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রথম আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহমুদুল ইসলাম। দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলা পরিচালনায় করেন তিনি। অ্যাটর্নি জেনালের হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারে তিনি অংশ নেন। এছাড়া ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের পক্ষে তিনি জোরালো ভূমিকা রাখেন। মাহমুদুল ইসলাম প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ ও এসআর পালের জুনিয়র ছিলেন। সম্প্রতি মাহমুদুল ইসলাম বার্ধক্যজনিত রোগ নিয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ৬ ডিসেম্বর তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিত্সা শেষে হক ২৩ ডিসেম্বর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর থেকে তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিত্সাধীন ছিলেন।
 
১৯৩৬ সালে রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন মাহমুদুল ইসলাম। কারমাইকেল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ডিগ্রি অর্জন করেন। রংপুর জেলা বারে আইন পেশা শুরু করার পর তিনি হাই কোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৭২ সালে সহকারী অ্যার্টনি জেনারেল ছিলেন তিনি। মাহমুদুল ইসলামই বাংলাদেশের প্রথম আইনজীবী যিনি সাংবিধানিক গবেষণামূলক বই লেখেন; সংবিধান বিষয়ে তার লেখা বইটি হচ্ছে ‘কন্সটিটিউশনাল ল অব বাংলাদেশ’। এর বাইরে লিখেছেন ‘ল অব সিভিল প্রসিডিউর’ ও ‘ইন্টারপ্রিটেশন অব স্ট্যাটিউটস অ্যান্ড ডকুমেন্ট’। মাহমুদুল ইসলামের দুই ছেলে পেশায় প্রকৌশলী। তারা বর্তমানে কানাডায় রয়েছেন। আগামী বৃহস্পতিবার দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। ওই দিন সুপ্রিম কোর্টের মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হতে পারে।


:        
   আপনার মতামত দিন