শেয়ার করুন
Share Button
   ফিচার
  শতাব্দী পেল সাহসের পুরস্কার
  13, March, 2016, 6:38:53:PM

রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রীর নাম শামসুন্নাহার শতাব্দী। মন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী সে ও তার অনেক বন্ধু হাজির। চলে অপেক্ষার পালা। না, কথা রাখলেন মন্ত্রী, ঠিক সকাল ৬টায় বিআরটিসির মহিলা বাস সার্ভিস এসে হাজির।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে কাছে পেয়ে গণপরিবহনে চলাচলে দুর্ভোগ নিয়ে অভিযোগ করেছে এক স্কুলছাত্রী। অভিযোগ শুনে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় মিটারবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিদর্শনে যান মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষদের অভিযোগ শোনেন। এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী শামসুন্নাহার শতাব্দী হাত তুলে ইংরেজিতে বলে, ‘মিস্টার মিনিস্টার! আই হ্যাভ এ কোশ্চেন।’ জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘হোয়াট ইজ ইয়োর কোশ্চেন। আর ইউ জার্নালিস্ট?’উত্তরে শতাব্দী বলে, ‘নো! আই অ্যাম এ স্টুডেন্ট।’

এরপর রাজধানীর শেওড়াপাড়ার বাসা থেকে স্কুলে আসার পথে গণপরিবহনে নিজের দুর্ভোগের কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে শতাব্দী। সে জানায়, শেওড়াপাড়া থেকে ১২৩ নম্বর বাসে মেয়েদের তুলতে চায় না। তাই প্রায় প্রতিদিনই তার স্কুলে আসতে দেরি হয়।

এছাড়া অন্য অনেক বাসেও সিট খালি নেই বলে মেয়েদের তুলতে চায় না বলেও অভিযোগ করে। অভিযোগ শুনে মন্ত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

এ সময় সেতুমন্ত্রী বলেন, সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত স্কুলটাইমে বিআরটিসির বাসে অবশ্যই স্কুলশিক্ষার্থীদের তুলতে হবে। তিনি বলেন, ‘গণপরিবহনে নারী ও শিশুদের জন্য সংরক্ষিত আসন রাখার বিধান মেনে চলতে হবে।’
সকাল সাড়ে ৬টায় গাড়ির চাকা ঘুরতে শুরু করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। উচ্ছাস তখন শতাব্দীসহ সব শিক্ষার্থীর মাঝে। শতাব্দীর ভাষায়, ‘আমার বন্ধুদের জন্য উচ্ছাসটা অনেক বেশি। আমি আমার বন্ধুদের জন্যই কাজটা করেছি। কারণ তারা অনেক কষ্ট করে স্কুলে যায়। সেজন্য আমার কাছে এই বাস পাওয়ার আনন্দ অনেক।’

নিজের সাহসিকতাকে বন্ধুদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যয় শতাব্দীর।

বন্ধুর এমন কর্মে তার প্রতি শুভকামনা জানালো তার সহপাঠী এবং বন্ধুরাও। এই বাসের ব্যবস্থা হওয়ায় এখন আর তাদের স্কুলে যেতে দেরি হবে না, শিক্ষকের কাছে শাস্তিও পেতে হবে না। তাই ভবিষ্যতে শতাব্দী যেনো আরো ভালো কিছু করতে পারে এই কামনা বন্ধুদের।

শতাব্দীর মা-ও নিজ সন্তানের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। বলেন, শতাব্দী মেয়েদের কল্যাণে একটা কাজ করেছে। তাই মা হিসেবে তিনি গর্বিত। এমন উদ্যোগে সরকারকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

ঢাকা মহানগরীতে সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির সাড়ে ৬শ’ পরিবহনের মধ্যে মাত্র ১৯টি বাস চলে শুধু নারীদের জন্য। কর্মক্ষেত্রে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী নারী শিক্ষার্থীদের জন্য শহরে মহিলা বাস সার্ভিস বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন নারী যাত্রীরা।



:        
   আপনার মতামত দিন