শেয়ার করুন
Share Button
  
  চলনবিলে হাঁসের খামার
  11, March, 2016, 4:52:25:PM

নোবো আলো:দেশের সর্ববৃহৎ বিল চলনবিলের অধীন নাটোরের সিংড়ায় বদলে গেছে সাধারণ মানুষের জীবনধারা। এ অঞ্চলের মানুষ বছরে চার মাস কাজ আর একটিমাত্র ফসলের ওপর নির্ভরশীল। তাই তাদের সংসার চালানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়তো।

একসময় পরিবারের মাংস ও ডিমের চাহিদা মেটানোর জন্য ঘরেই নারীদের হাঁস পালন করতে দেখা যেত। বিলে উচ্ছিষ্ট বোরো ধান ও শামুক হাঁসের প্রধান খাদ্য। বিল অঞ্চল হিসেবে বিলে উচ্ছিষ্ট বোরো ধান ও শামুক খাওয়ার কারণে হাঁসগুলোকে আলাদা করে খাদ্য দিতে হয় না।

প্রাকৃতিকভাবে খাবার মেটানো যায় বলে খরচ কম হয়। আর অল্প টাকা বিনিয়োগে ব্যবসা সফল হওয়ায় বর্তমানে পুরুষরাই বিকল্প পেশা ও বেকারত্বের সমস্যা দূর করার জন্য কর্মসংস্থান হিসেবে অস্থায়ী খামার গড়ে হাঁস পালনের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। এতে অনেকেই পেয়েছেন সচ্ছলতা। সিংড়া উপজেলায় উৎপাদিত ডিম রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।

ডিমের আড়তদাররা প্রতিদিন এ অঞ্চলের অস্থায়ী খামার থেকে কয়েক হাজার ডিম কেনেন এবং তা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন। এ উপজেলায় ৮০টি হাঁসের খামার রয়েছে। বছরে ডিম উৎপাদন হয় ১ কোটি ১৩ লাখ। সারা বছর রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, তীব্র শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে চলনবিল এলাকায় অস্থায়ী খামারে হাঁস পালন করে এখানকার অর্ধশতাধিক পরিবারে লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া।

চলনবিলে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি হাঁসের খামার। এসব খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েকশ’ লোকের। বছরের পুরো সময় অস্থায়ী খামার গড়ে হাঁস পালনের জন্য সমিতি থেকে ঋণ নেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু হাঁসের ডিম বিক্রি করেই সংসারের খরচপাতিসহ চলছে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা। অন্যদিকে কমছে ঋণের বোঝাও। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ ধরনের খামার থেকে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে।

উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার অদূরে প্রায় আড়াই কিলোমিটার কর্দমাক্ত পথ পেরোলে স্থানীয় কলম ইউনিয়নের কালিনগর গ্রাম। এ গ্রামে আলেক হোসেন গত ১৫ বছর ধরে হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার উপার্জনেই সংসার চলে। এটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা।

বর্তমানে তার অস্থায়ী খামারে ৭শ’রও বেশি হাঁস রয়েছে। হাঁসগুলো প্রতিদিন ৩শ’ থেকে ৪শ’টি ডিম দেয়। এসব ডিম তিনি ৯শ’ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

একই ইউনিয়নের নাছিয়ারকান্দি গ্রামের আমজাদ হোসেন প্রায় ৭ বছর ধরে এ পেশায় জড়িত। তার অস্থায়ী খামারে হাঁসের সংখ্যা প্রায় ৬শ’। বলিয়াবাড়ী গ্রামের আ. মালেক সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে হাঁস পালন করছেন। অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা এসব খামারের হাঁস মূলত বিলের শামুক খেয়ে বেঁচে থাকে। এসব হাঁসের রোগ-বালাইয়ে শুধু মাঝে মধ্যে ভ্যাকসিন দিতে হয়।



:        
   আপনার মতামত দিন