শেয়ার করুন
Share Button
   লাইফস্টাইল
  ওষুধি গাছের গ্রাম নাটোরের লক্ষ্মীপুর
  5, March, 2016, 11:06:13:PM

নব আলো:নাটোর শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর, লক্ষ্মীপুর, খোলাবাড়িয়া, কাঁঠালবাড়িয়া, চুরারিয়, সুলতানপুর, দরাপপুর, টলটলিয়া, পিজ্জিপাড়া এখন ‘ওষুধি গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত। এসব গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ওষুধি গাছের চাষ করে। ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক ধরে ১০-১২ কিলোমিটার এগোলেই হবিয়তপুর (হবিতপুর) বাজার।

এখানে নেমে ভ্যানগাড়িতে তিন কিলোমিটারের পথ লক্ষ্মীপুর আমিরগঞ্জ বাজারের মোড়। এর পাশেই ওষুধি গ্রাম। বাজার থেকে দক্ষিণ দিকে ঢুকে যাওয়া রাস্তা ধরে এগোলেই টলটলিয়া গ্রাম। রাস্তার দু’পাশে সবুজ ক্ষেত, ঝোপ-ঝাড়। অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর ক্ষেত চোখে পড়ার মতো। এ গ্রামের আবদুল কাদেরের রয়েছে সবচেয়ে বেশি ওষুধি গাছ। তিনি কবিরাজি করেন।

২০ বছর ধরে ওষুধি গাছের বাগান করছেন। তাঁর বাড়ি কাদের কবিরাজের বাড়ি নামে পরিচিত। তাঁর বাগানে ৮০ থেকে ১০০ প্রজাতির ওষুধি গাছ রয়েছে। ২০ বছরের সংগ্রহ এগুলো। প্রজাতি সংগ্রহে ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের আনাচে-কানাচে। তাঁর বন্ধু এমদাদুল হক। ডা. এমদাদ নামেই তাঁকে সবাই চেনেন। গ্রামডাক্তার। ওষুধি গাছগাছড়া সম্পর্কে ভালো ধারণা রয়েছে তাঁর।

তবে শুরুটা করেছিলেন যিনি, তাঁকে সবাই বলেন আফাজ পাগলা। ১৯৯০ সালের দিকে কয়েকটি ওষুধি গাছ লাগিয়ে বাগান শুরু করেন তিনি। কয়েক বছরের মধ্যেই মেলে অভাবনীয় সাফল্য। তাঁর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে গ্রামের অনেকেই শুরু করেন ওষুধি গাছ লাগানো।

গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ওষুধি গাছ মানে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীকে চেনে। এর চাষও বেশি করে সবাই। সহজে চাষযোগ্য ও ফলন ভালো পাওয়া যায় বলে অ্যালোভেরার চাষই বেশি হওয়ার কারণ। মণ হিসেবে পাওয়া যায় ৫শ’ টাকার মতো। শ্যাম্পু, সাবান থেকে শুরু করে শরবতে পর্যন্ত এর ব্যবহার রয়েছে।

বড় বড় ওষুধ কোম্পানির মধ্যে স্কয়ার, একমি ও হামদর্দ এ গ্রামের ওষুধি উপকরণের নিয়মিত ক্রেতা। তবে তাদের চাহিদা মূলত হারবাল ওষুধ তৈরিতে। অশ্বগন্ধা, বাসক, তুলসী, নিসিন্ধা ও সর্পগন্ধা এসব কোম্পানিতে বেশি চলে। এছাড়া বিভিন্ন হারবাল কোম্পানি পাইকারি উপকরণ কিনে নিয়ে যায়। এলাকায়ও রয়েছেন বেশ কয়েকজন পাইকার।

তাঁদের প্রত্যেকের আবার দোকান রয়েছে লক্ষ্মীপুর বাজারে। নিজেরা ওষুধ তৈরি করে বিক্রির পাশাপাশি পাইকারি দরে কাঁচামালও বিক্রি করেন। শিমুল মূলের বাগান থেকে তিনি দেখানো শুরু করলেন তাঁর ওষুধি গাছ। শিমুল মূল মানে যে শিমুল তুলার গাছ, সেটি বোঝা গেল পরে।

ছোট অবস্থায় গাছটির গোড়ায় যে মুলা আকৃতির মূল হয়, সেটির রয়েছে ভালো ওষুধি গুণ। শারীরিক দুর্বলতা রোধ ও পেট কষায় ভালো কাজ করে এটি। এখানে রয়েছে রক্ত তা-াল, তুরুপ তা-াল, বালিক মূল, বিষ-ব্যথা দূরীকরণের হস্তিপলাশ, আমাশয়ের মহৌষধ কিয়ামুল, ভুঁইকুমড়া, সাদা লজ্জাবতী, লাল লজ্জাবতী, কালোমেঘ, প্রাণতুলসী, চা-াল, বাইত, নিসিন্ধা, আলকুশি, রাইচা-াল, হাড়জোড়া ইত্যাদি গাছ।

আরও রয়েছে দুধরাজ, গরু রসুন, গন্ধভাদালি, গুরুচা-াল, আকন্দ, অশ্বগন্ধা, তালমূল, ঈশ্বরমূল, রাজকণ্ঠি, পাথরকুচি, ওলটকম্বল, জোয়ানবির, বনঢেঁড়শ, মিচরিদানা, পিপরুল, শতমূল, তেজবল, আমরুল, আপাঙ, পাথরসনা, হিমসাগর, নীলকণ্ঠ, বর্মাচা-াল, বাসক, স্বর্ণলতা, ডপতেরেঙ্গা, জগডুমুর প্রভৃতি। তবে সবচেয়ে মূল্যবান গাছ ঈশ্বরমূল। দোঁআশ মাটি এসব গাছ জন্মানোর জন্য ভালো। ওষুধি গাছের আবাদ করে মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় হয়।

আর এজন্য জমি যে খুব বেশি লাগে তাও নয়, তিন বিঘার মতো। গাছের পেছনে খরচও কম। জৈবসার ব্যবহার করা হয়। এছাড়া পরিচর্যার জন্য কিছু ব্যয় আছে। ছোটখাটো রোগের জন্য গ্রামের মানুষ শহরে যেতে হয় না। গ্রামের গাছগাছড়া থেকে তৈরি ওষুধেই কাজ হয়। অনেক গাছগাছড়া আছে যেগুলো এলোপেথিকের চেয়ে দ্রুত কাজ করে।

এখানে বাড়ির আঙিনা কেউই খালি রাখেন না। অন্য চাষাবাদের পাশাপাশি গুরুত্বের সঙ্গেই ওষুধি গাছের চাষ করছেন সবাই। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয় ঘৃতকুমারীর। শিমুল মূল, শতমূল, বাসক, নিশিন্ধার আবাদও রয়েছে। হারবাল চা তৈরির জন্য তুলসী গাছের চাহিদা রয়েছে। শিমুল মূল, শতমূল বেশি বিক্রি হয়। দাম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা।

অন্য ফসলের আবাদ করে আগে যে টাকা আয় হতো, তারচেয়ে অনেক বেশি রোজগার হচ্ছে ওষুধি গাছ আবাদ করে। শতমূল, ঘৃতকুমারী, শিমুলমূল বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৬০ কেজি। প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা লাভ হয়।



:        
   আপনার মতামত দিন
     লাইফস্টাইল
জমে উঠেছে সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচন
................................................................
নিজামীর মৃত্যু পরোয়ানা জারি
................................................................
মিল্কি হত্যা : পলাতক ছয় জনকে গ্রেফতারের নির্দেশ
................................................................
মালিক-ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহ বন্ধে রিট খারিজ রবিবার
................................................................
মীর কাসেম অালীর ফাঁসি বহাল রেখেছেন আদালত
................................................................
রূপগঞ্জে সন্ত্রাসীকে পুলিশে দিলেন এমপি
................................................................
কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় ২ জনের ফাঁসি
................................................................
ভাড়াটিয়াদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বন্ধে হাইকোর্টে রিট
................................................................
সাত খুন মামলায় বিউটির সাক্ষ্য গ্রহণ, অসমাপ্ত সাক্ষ্যগ্রহণ ১০ মার্চ
................................................................
পরকীয়ার জেরে দুই শিশুকে হত্যা
................................................................
সাক্ষী না আসায় নূর হোসেনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য পেছালো
................................................................
লাকসামে স্কুলছাত্র নিহতের ঘটনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা
................................................................
সাত খুনের সাক্ষ্য শুরু
................................................................
ভারতে ১৪ নারী-শিশু খুনের পর আত্মহত্যা
................................................................
বন্ধ করতে হবে জঙ্গিবাদের টাকার জোগান
................................................................
মীর কাসেমের রায় দেখে ব্যবস্থা : আইনমন্ত্রী
................................................................
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়, নিজামী-মীর কাসেম চূড়ান্ত পরিণতির অপেক্ষায়
................................................................
ঢাকা বারে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়
................................................................
অভিজিৎ হত্যা: ১ বছরেও কোনো গ্রেফতার নেই
................................................................
শিশু ধর্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
................................................................
ঢাকা বারের ভোটগ্রহণ চলছে
................................................................
মীর কাসেমের আপিল শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন চলছে
................................................................
ঢাকা বারের নির্বাচন ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি
................................................................
রিমান্ড শেষে কারাগারে ব-দ্বীপ প্রকাশনীর বিপণন কর্মকর্তা শামসুল
................................................................
আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ বিচারে পারস্পরিক সহায়তা
................................................................
মীর কাসেম আলির আপিল শুনানি চলছে
................................................................
আইনজ্ঞ মাহমুদুল ইসলামের ইন্তেকাল
................................................................
রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নেয়া পদক্ষেপ জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট
................................................................
ইউপি নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই
................................................................
১৫ নয়, ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের সুপারিশ
................................................................