শেয়ার করুন
Share Button
  
  ভাড়াটিয়াদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বন্ধে হাইকোর্টে রিট
  3, March, 2016, 8:41:30:PM

নব আলো:ঢাকার বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে ভাড়াটিয়াদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশনা চেযে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে একটি রিট করেছেন সুপ্রিমকোর্টের একজন আইনজীবী। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে সংশ্লিষ্ট শাখার রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। আগামী রোববার রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রিটকারী।

 

এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, ‘আইন মেনে চলা একজন নাগরিক হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইনগত সহায়তা করতে আমি ইচ্ছুক। তবে যে সহায়তা তারা চাইছেন তা তাদের আইনগত এখতিয়ারে পড়ে না। এভাবে ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়ার মতো কোনো আইনি সুযোগ পুলিশের নেই।’

তাঁর মতে, ‘এসব তথ্যের অপব্যবহার হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া এসব তথ্য যদি কোনো ভুল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে পড়ে, তাহলে ব্যক্তির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।’

সংবিধানে নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার যে অধিকার দেওয়া হয়েছে পুলিশের এ উদ্যোগে তাও ভঙ্গ হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি রিট আবেদনটি করেছেন বলেও জানান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে এক পৃষ্ঠার যে ফরম মালিকদের মাধ্যমে ভাড়াটিয়াদের পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে, সেখানে ভাড়াটিয়ার ছবির পাশাপাশি তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, ফোন নম্বর, জন্ম তারিখসহ বাসার বাসিন্দা এবং গৃহকর্মী ও ড্রাইভারের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এর আগে, গত মঙ্গলবার (১-৩-২০১৬) ঢাকার বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে পুলিশ যেন ভাড়াটিয়াদের ব্যক্তিগত তথ্য না নেয়, সে জন্য আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। এ বিষয়ে ব্যারিস্টার জ্যের্তিময় বড়ুয়া বলেন, ‘পুলিশ এভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে না। এসব তথ্য সংরক্ষণের কোনো বিধান বাংলাদেশে নেই।

নোটিশে বলা হয়, ব্যাংক একাউন্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট তৈরির সময় কিছু তথ্য দিতে হয়। কিন্তু সেখানে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য পুলিশের নেয়ার কোনো আইন নেই। ফৌজদারি কার্যবিধি মোতাবেক শুধুমাত্র কোনো আদালত চাইলে তথ্য দিতে হয়। পুলিশের এসব তথ্য সংগ্রহ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অপরাধ ভঙ্গের পর্যায়ে পড়ে। যেহেতু দেশে তথ্য সংরক্ষণের আইন নেই ফলে এসব তথ্যর অপব্যবহারের আশংকা রয়েছে। পুলিশের কাছে এসব তথ্য থাকা বিপদজনক বলেও তিনি জানান।



:        
   আপনার মতামত দিন