শেয়ার করুন
Share Button
  
  সাত খুন মামলায় বিউটির সাক্ষ্য গ্রহণ, অসমাপ্ত সাক্ষ্যগ্রহণ ১০ মার্চ
  3, March, 2016, 8:07:38:PM

নব আলো: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের দুই মামলার একটির বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটির সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ সময় আসামি নূর হোসেন, তারেক সাইদ ও এমএম রানার পক্ষে তাঁদের আইনজীবীরা সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত ১০ মার্চ অসমাপ্ত সাক্ষ্য নেওয়ার সময় দেন। বৃহস্পতিবার (০৩ মার্চ) নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে বাদী বিউটির সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

সেলিনা ইসলাম বিউটি হলেন, নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জনকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাজির করা হয়। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, গতকাল ৩২ জন আসামিকে আইনজীবীরা জেরা করেছেন।

এ সময় নূর হোসেন, তারেক সাইদ ও এমএম রানার পক্ষে তাঁদের আইনজীবীরা সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত ১০ মার্চ অসমাপ্ত সাক্ষ্য নেওয়ার সময় দেন। কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দুই মামলার দু’জন বাদী বিজয় পাল ও সেলিনা ইসলাম বিউটির সাক্ষ্য নেওয়ার করার কথা থাকলেও আদালত বিউটির সাক্ষ্য নেওয়ার তারিখ ৩ মার্চ নির্ধারণ করা হয়।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তাঁর বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

কিন্তু অভিযোগপত্র থেকে পাঁচ আসামিকে বাদ দেওয়ায় ও প্রধান আসামি নূর হোসেনের জবানবন্দি ছাড়া অভিযোগপত্র আদালত আমলে নেওয়ায় নারাজি আবেদন করেন সেলিনা ইসলাম বিউটি। আবেদনটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জজ আদালতে খারিজ হয়ে গেলে বিউটি উচ্চ আদালতে যান। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, পুলিশ চাইলে মামলাটির অধিকতর তদন্ত করতে পারে এবং হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার ধারা যুক্ত করে নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। আর চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে এখনো ১২ জন পলাতক রয়েছেন। গত ১২ নভেম্বর নূর হোসেনকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর ১৩ নভেম্বর সাত খুনের দুটি মামলাসহ ১১ মামলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার দেখায়। ১১টি মামলার মধ্যে সাত খুনের দুটি মামলা, চাঁদাবাজির তিনটি ও অস্ত্র আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগের মামলা রয়েছে।



:        
   আপনার মতামত দিন