শেয়ার করুন
Share Button
  
  পরকীয়ার জেরে দুই শিশুকে হত্যা
  3, March, 2016, 8:03:31:PM

নব আলো: সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা, পরকীয়া, অর্থ-সম্পত্তির লোভ প্রভৃতির জেরেই রাজধানীর বনশ্রীতে ভাই-বোন অরনী ও আলভীকে নিজের ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন তাদের মা মাহফুজা মালেক জেসমিন। র‌্যাবের হেফাজতে নেওয়ার পর সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই এমনটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (০৩ মার্চ) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব জানায়, মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ মনে হলেও জেসমিনই তার দুই সন্তানকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেছেন, সন্তানদের শিক্ষা নিয়ে তার উদ্বেগ থেকেই এই হত্যাকান্ড। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে র‌্যাবের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান। মুফতি জানান, ঘটনার দিন বিকেল ৫টার দিকে মা জেসমিন আক্তার মেয়েকে নিজের ঘরে নিয়ে ওড়না দিয়ে প্রথমে মেয়েকে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। মেয়ে অরনীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে নিচে পড়ে যায়। এ সময় তিনি মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে একইভাবে ছেলেকে হত্যা করেন।

এদিকে, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে বলেন, মাহফুজা মালেক জেসমিনের পারিবারিক কলহ, মানসিক বৈকল্য, বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক, অর্থ-সম্পত্তির লোভ প্রভৃতিই এ হত্যাকান্ডের প্রধান কারণ। সংবাদ সম্মেলনে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ঘটনার পর জেসমিন জানিয়েছিলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তাদের বিবাহবার্ষিকী ছিলো।

তাদের ১৪তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে তারা বনশ্রীর কিন্ট চায়নিজ রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেতে যান। খাওয়ার পর অবশিষ্ট খাবার সঙ্গে করে নিয়ে বাসায় আসেন তারা। ওই খাবার খেয়ে ভাই-বোন অসুস্থ হয়ে পড়লে শিশু দু’টিকে প্রথমে আল রাজী হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু দু’টিকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুফতি আরও বলেন, মৃত্যুর মূল কারণ কি তা জানতে ময়নাতদন্ত করার কথা বললে ওই মা বারবার নিষেধ করেন। তার নিষেধ না শুনেই শিশুদের ময়নাতদন্ত করা হয়। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী শিশু দু’টিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে ও তাদের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে র‌্যাব তদন্ত শুরু করে। এই হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটনে পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

এরা হলেন অরনী ও আলভীর গৃহ শিক্ষিকা শিউলি আক্তার (২৮), খালু নজরুল ইসলামের ভাগনে শাহিন (২২), মেয়ের মার মামাতো ভাই মো. ওবায়দুর ইসলাম (৩৪), বাসার দুই দারোয়ান পিন্টু মন্ডল (৩২), ফেরদৌস (২৮)। পরে দুই সন্তানের দাফন শেষে জামালপুর থেকে বাবা ও মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে শিশু দু’টির মা জেসমিন জানান, সন্তানদের স্কুলের পরীক্ষার ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় থাকতেন তিনি। তার ধারণা ছিলো, তার সন্তানরা বড় হয়ে কিছুই করতে পারবে না। তাই তিনি ২৯ ফেব্রুয়ারি মেয়ের গৃহশিক্ষিকা চলে যাওয়ার পর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে অরনীকে নিয়ে নিজের ঘরে ঘুমাতে যান। একই সময়ে আলভী বিছানাতেই ঘুমাচ্ছিলো। জেসমিন ছেলের সঙ্গে একই বিছানায় শুয়েছিলেন।

অরনী মায়ের সঙ্গে ঘুমানোর জন্য বিছানায় শোয়ার কিছু সময় পর মা জেসমিন তার মেয়ে অরনীকে ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে মা-মেয়ে দু’জনেই বিছানা থেকে মেঝেতে পড়ে যান। কিছু সময় পর মেয়ের শরীর নিস্তেজ হয়ে গেলে তিনি তার ছোট ছেলে আলভীকে খাটের উপর ঘুমন্ত অবস্থায় একইভাবে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি মরদেহ দু’টির সামনে কিছু সময় ধরে কান্নাকাটি করেন বলেও স্বীকারোক্তি দেন।

পরে এ হত্যাকান্ড লুকাতে তিনি নিজেই একটি গল্প তৈরি করেন। সেই অনুযায়ী সাজিয়ে গুছিয়ে প্রচার করেন, দুপুরে খাবার খেয়ে ঘুমানোর পর তার ছেলে-মেয়েরা আর ঘুম থেকে ওঠেনি। খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।



:        
   আপনার মতামত দিন