শেয়ার করুন
Share Button
   বাংলাদেশ
  ঠান্ডাত গতর লায়ে গেইজে, ঘর থেকে বাহির হবা পারিনা
  12, January, 2018, 12:42:28:AM

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: তাপমাত্রার পারদ কোথায় ঠেকছে, ঠাকুরগাঁও জেলার মানুষ তা হয়তো ঠিক টের পাচ্ছে না। হিম হয়ে থাকা শরীর টের পাবেই বা কী করে! তবে তাপমাত্রার পারদ যে ঊর্ধ্বমুখী হতে ভুলে গেছে তা বুঝতে বাকি নেই কারোরই। এ মুল্লুকে সূর্য উঠছে না। মধ্যদুপুরে খানিক উঁকি দিলেও সে সূর্যে উত্তাপ থাকছে না।

হিমালয়ের বরফগলা হাওয়া যেন কাঁপিয়ে তুলেছে ঠাকুরগাঁওয়ের জনপদ। আড়ষ্ট হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা। চলমান শৈত্যপ্রবাহ রীতিমতো দুর্যোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে এ জেলায়। আর হাড় কাঁপানো অতিঠান্ডা অভিশাপ হিসেবেই দেখা দিয়েছে দুস্থ-অসহায়দের কাছে।

অতিবন্যা এবারে দুঃখ বাড়িয়েছে এ জেলার মানুষদের। ধান, পুকুরের মাছ সবই খেয়ে গেছে বন্যা। নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকেই পার করছে মানবেতর জীবনযাপন। সহায়-সম্বলহীন মানুষেরা কোমর সোজা করে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই শীতের ঝাপটা। আর তাতে যেন অন্ধাকার নেমে এসেছে এ অঞ্চলের মানুষের।

গত সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ে তাপমাত্রা নামতে নামতে সর্বশেষ ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ঠেকেছিলো। আজ বুধবার বর্তমান ১০.১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ দিন অন্তত তাই জরিপ করেছে আবহাওয়া অফিস। কিছুতেই যেন দোহাই মানছে না শীতের তীব্রতা। শরীর ভেদ করে হাড় কাঁপিয়ে তুলছে পৌষের ঠান্ডা। আগাম প্রস্তুতি এবং পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ। শিশু এবং বয়স্করা আরও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

কথা হলো, শহরের হাজীপাড়ার ইসরাফীল হকের সাথে। তিনি বলেন, গত শীতের চেয়ে এবার অনেক বেশি অসহনীয় শীত। বাচ্চাদের নিয়ে শীতের জন্য অনেক সমস্যা হচ্ছে। আরেকটি ব্যপার হলো যে ইলেকট্রিক দোকানে রুম হিটার কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না।

কথা হয়, হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গী পাড়ার রমজানের সঙ্গে। বলেন, ‘গেল বছর ভয়াবহ বন্যার কবলত পড়ে একটা ঘর তুলে কুনোমতে থাকেচি। ঠান্ডাত গতর লায়ে গেইজে, বাহিরত বেরুবা পারুনা। এমন ঠান্ডা মোর বয়সে দেখুনি। কুয়াশার সঙ্গে কনকনে ঠান্ডা বাতাস! বাহিরত বেরুবা পারুনা। এসব দেখারও কেহো নাই। কায় কম্বল দেছে, আর কে পাছে, তার খবরও মেলে না হামারঠে।’

জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল বলেন, এবারে বন্যায় মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এ অঞ্চলের। এরপর এমন শীত আসবে তা হয়তো কেউ ধারণা করতে পারেনি। শীতার্তদের মাঝে ইতিমধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আমরা আরও শীতবস্ত্রের ব্যবস্থা করছি। সেগুলো পেলেই আমরা আরোও বিতরণ করতে পারবো।

হাড় কাঁপানো শীতে কাহিল হয়ে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ। শীতের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না ওইসব মানুষ। সকাল হতে না হতেই তাদের খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।



:        
   আপনার মতামত দিন