শেয়ার করুন
Share Button
   বিশেষ সংবাদ
  সকল প্রশাসক জনসেবার প্রশাসনে পরিগণিত হয়ে উঠুক-মাহফুজ কবির
  2, January, 2018, 7:50:32:PM

একজন আব্দুল আওয়াল মাননীয় জেলা প্রশাসক, ঠাকুরগাঁও জেলা। "জনসেবার জন্য প্রশাসন”  সাধারণ তিন শব্দের সাদামাটা একটি অতিসরল বাক্য।
অনেকে অনেক ভাবেই ভাবার্থ প্রকাশ করছেন -কারো চোখে তিনি "মানবতার ডিসি" কারো চোখে তিনি  "জনতার প্রশাসক" কারো চোখে তিনি  "সততার প্রতিক" 

 আরোও অসংখ্য অপ্রকাশিত উপমা ঠাকুরগাঁওসহ গোটা দেশেই যথেষ্ট পজিটিভ উদাহরণের নমুনারূপ প্রতিফলিত হচ্ছে-

খুব স্বভাবতই আমারও চরম উত্তেজনা রয়েছে -
স্বাভাবিক নয় বরং অস্বাভাবিক দর্শনী আমাকে তাড়িত করছে -----

দর্শনি সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব অনুভূতি সূচকের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। কিছু দিন পূর্বোক্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমার কলামটি প্রকাশিতও হয়েছিল বিষয়বস্তুটি ছিল "-----------এটি

"গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা--

মানবসভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানগুলোর একটি হচ্ছে গণতন্ত্র। পাশ্চাত্যে এর সূচনা হলেও বর্তমানে পৃথিবীর সবর্ত্রই এর বিকাশ ঘটেছে। বর্তমানের গণতন্ত্রের বিকাশ কেবল রাষ্ট্র পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং মানবসভ্যতার সামাজিক ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্রের প্রয়োগ আমরা দেখতে পাই। গণতন্ত্রের মাধ্যমে জনগণ নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। গণতন্ত্র ভাল কি মন্দ এ তুলনায় গেলে এর ভাল দিকটিই বেশী সমাদৃত হয়। গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আকর্ষণের অনেক কারণ আছে। গণতান্ত্রিক শাসন-কাঠামোতে জনমানুষের স্থান আছে এবং তাদের প্রতিনিধিত্বের বক্তব্য আছে। শাসিতের কাছে শাসকশ্রেণি দায়িত্বশীল, সংবেদনশীল ও দায়বদ্ধ থাকে। তাতে আইনের শাসন, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি থাকে। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণতান্ত্রিক সরকার-ব্যবস্থাই উত্তম। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয় আর দুর্নীতি বাড়ে। স্বৈরশাসন মানুষের অধিকার হরণ করে। শাসন-শোষন দিয়ে রাষ্ট্রকে মানুষের কল্যাণের বাইরে নিয়ে যায়।

মানবসভ্যতার প্রাচীনতম শাসনপদ্ধতির অন্যতম হল আমলাতন্ত্র (Bureuncracy)। সরকারের কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম অঙ্গ হচ্ছে আমলাতন্ত্র। প্রাচীন এই পদ্ধতি সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়ে বর্তমানে বিশ্বে সর্বত্রই প্রচলিত আছে। Maxweber তার Hydraulic state গবেষণায় উল্লেখ করেন যে, well organised centralised bureucracies were well in place in ancient India and China। রাজা অশোক- এর আমলে সু-শৃঙ্খল কেন্দ্রীয় আমলাতন্ত্র ভারতে এবং মেন্ডারিনের আমলে চীনে পরিলক্ষিত হয়। সরকারের নীতি বাস্তবায়নে আমলাতন্ত্র প্রধান ভুমিকা পালন করে থাকে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমলাতন্ত্রের ভুমিকা আরো বেশী। একটি টিপিক্যাল (Typical) উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে আমরা প্রশাসনের নিরবচ্ছিন্ন ভূমিকা দেখতে পাই। বাংলাদেশে আমরা যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা দেখতে পাই তা মূলতঃ বৃটিশ উপনিবেশিক আমলে এদেশ শাসনে বৃটিশরা যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করেছিল তারই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এটি। বৃটিশরা এ শাসনের জন্য যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা স্থাপন করে পরবর্তীকালে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পরও পাকিস্তানি সরকার কর্তৃক তা চলতে থাকে। ১৯৪৭ সালের পর পরবর্তী সময়ে তৎকালীন পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু না হওয়ার কারণে দেশের প্রধান নির্বাহীর ইচ্ছানুযায়ী প্রশাসকগণ কাজ করতেন। বৃটিশ শাসনামলে তাই আই,সি,এস (ICS) অফিসাররা স্থানীয় মন্ত্রীদের উপর মর্যাদা পেতেন এবং পাকিস্তান আমলেও আমরা দেখতে পাই যে warrant of Precedence এ সংসদ সদস্যদের অবস্থান ছিল যুগ্ম সচিবের সমপর্যায়ে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পদ মর্যাদা সচিবের ওপর নির্ধারিত হয়। তাছাড়া সংসদ সদস্যদের মেয়াদ খণ্ডকালীন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা স্থায়ী বলে উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রশাসকগণই মূল ভূমিকা পালন করে আসছেন। প্রশাসকদের অবস্থান এবং স্থায়িত্বের কারণে মাঠপর্যায়ে জনগণ প্রশাসকদেরই সরকার মনে করে থাকে। তাই সচারচর রাজনীতিবিদ, গবেষক বিভিন্ন পেশাজীবী গ্রুপ আমলাতন্ত্রকে সমালোচনা করলেও আজ পর্যন্ত তারা এর কোন বিকল্প ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে আমলাতন্ত্রের কোন বিকল্পের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন হচ্ছে আমলাতন্ত্রকে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানো। এর জন্য চাই সংসদ এবং আমলাতন্ত্রের মধ্যে সমন্বয়। বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৫(৬) ধারাবলে ১৯৭৫ সালে যে রুলস অব বিজনেস (Rules of Business,1975) প্রণীত হয়েছিল তা মন্ত্রণালয়ের সকল কার্যক্রমে প্রধান নির্বাহী ছিলেন সচিবগণ এবং সচিবগণ ছিলেন মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকতা (Principal Accounting Officer )। ১৯৯৬ সালে রুলস অব বিজনেস পরিবর্তন করে মন্ত্রীদের মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহী করা হলেও সচিবগণ এখনও Principal Accounting Officer হিসেবে কাজ করেন।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জন-প্রতিনিধি ও জনপ্রশাসকের সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা একান্ত বিবেচ্য। রাজনৈতিক নেতৃত্বাধীনের জনপ্রশাসকরা আনুগত্যশীল হবেন এটাই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সুনির্দিষ্ট যোগ্যতার পরিচয় প্রদান একান্তভাবে আবশ্যক। কারণ জনপ্রতিনিধিগণ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে অস্থায়ী এবং জনপ্রশাসকগণের পদ স্থায়ী। উদাহরন স্বরুপ বলা যায় - বৃটিশ পার্লামেন্টের ঐতিহ্য এক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রসিদ্ধ লাভ করেছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে জনপ্রতিনিধি ও জন প্রশাসকদের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা হয়। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে স্বেচ্ছাচারিতা থাকে না , এজন্য বিশ্বের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক দেশের আইনসভা কর্তৃক বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সভাপতি স্থায়ী কমিটি আইনসভার পক্ষে কার্যপরিচালনার জন্যে নির্বাচিত হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে সরকারের জন-ত প্রতিনিধি ও জন প্রশাসকগণ নিয়ন্ত্রিত থাকেন। অনেক গণতান্ত্রিক দেশে ন্যায়পাল (Ombudsman) প্রতিষ্ঠা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ন্যায়পাল হলো সাংবিধানিক সংসদীয় কার্যালয় বা সরকারী প্রশাসন কর্তৃক জনগণের বিরুদ্ধে কৃত অন্যায় অসুবিধার বিরুদ্ধে আইনসভা থেকে জনগণের পক্ষে এসব অনিয়ম প্রতিকারের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের সংবিধানে ও এ বিধান রাখা হয়েছে(৭৭)।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জন-প্রতিনিধি ও জন-প্রশাসকদের সু-সম্পর্কের উপর নির্ভর করে সমস্ত জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সম্মানের ভিত্তিতেই এ সম্পর্ক গড়ে ওঠা সম্ভব। দেশ ও দেশের জনগণ সবকিছুর উর্ধ্বে--- এ ধারণা থেকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা মানুষের জন্য কার্যকর ও অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত করতে পারে। জন-প্রতিনিধিদের চিন্তা-চেতনার ফসল থেকে সৃষ্ট নীতিসমূহ বাস্তবায়িত হয় জনপ্রশাসকদের দ্বারা। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি ও জনপ্রশাসকদের মূল লক্ষ্য দেশ এবং মানুষের কল্যাণ। এ প্রয়াসকে সামনের রেখেই জন-প্রতিনিধি ও জন-প্রশাসকদের ভূমিকা কার্যকর করাই দেশ ও মানুষের জন্য কল্যাণকর

আমার যুক্তির বাস্তবতা হঠাৎ --
অনেকটা নির্বাক আচ্ছন্নতা আমাকে বেশ খানিকটা সময়অব্দি বাকরুদ্ধ করে ফেলে।সোশ্যালসহ অসংখ্য অনলাইন গণমাধ্যমসমূহে ভাইরাল হয়ে যায় মূহুর্তেই খবরটি কারণ অধিক স্পর্শকাতর নাম-পরিচয়বিহীন একজন গর্ভবতী নারীর করুণ বাস্তবিক 
দৃশ্যপট!!! বিষয়টি সকলের নিকট করুণার আত্মোন্নতির ভূমিকায় গভীর দাগ কেটেছে নিশ্চয়ই।।
আমারও কেটেছে কিন্তু একটু রহস্যময়তায়-

করুণাময়তার পাশাপাশি চেতনার জাগরণমন্ত্রের আলোকবর্তিকাররূপে।
আমার সেই লেখার মূল বিষয়বস্তু রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রের সমান্তরালবর্তী সত্যিকারের গণতন্ত্রের যথার্থ মেলোবন্ধনরূপ।

স্বাধীনতার মূল চেতনা যখন এই করুণ দৃশ্যান্তরে নিস্তব্ধ --
অন্যদিকে এর চেয়েও আমাকে আশান্বিত দৃশ্যপটে বিবেককে জাগ্রত করে তোলো বহুপ্রতিক্ষার অনেক দামে কেনার "স্বাধীনতা`র পরিপক্বতার ছায়াপট দৃশ্যতরূপে।

বির্তকহীন যুক্তি "আমলাতন্ত্র ও সরকারপক্ষ " বিকশিত দৃকপাতে "শক্তিশালী গণতন্ত্র" প্রতিফলন ঘটাবে। যতবেশী আমলাতন্ত্র রাজনীতিজ্ঞকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিবে আবার রাজনীতিজ্ঞও আমলাতন্ত্রকে লক্ষবস্তুর নিশানায় ঠেলে দিবে।

যেখানে রাজনীতি অকার্যকর সেখানে আমলাতন্ত্র কার্যকর আবার আমলাতন্ত্র যেখানে অসহায় সেখানে রাজনীতি পরিপূরক।

পথচলাটা সমান্তরাল হলেই আমাদের স্বাধীনতা উজ্জ্বলময়তা এমন "মানবতার" আবেশকে নিঃসংশয়ে বিলীন করে দেবে নিমেষেই।।।।

তাই "আব্দুল আওয়াল" শুধু সাধারণত শব্দিত রূপ নয় একটি আলোকবর্তিকাও আমার নিকট কেননা এমনতর বাস্তবরূপ "শিক্ষক" আমাদের "জাতীয়বোধ ও স্বাধীনতা" কে উচ্চতর পথে প্রজ্বলিত করবে এবং প্রেরণার্থক হয়ে রবে একদিন নিশ্চয়ই মানবতার দিকপালরূপে তাইতো আমি বলি আব্দুল আওয়াল অতিসাধারণ নাম কিন্তু
তা অসাধারণ " প্রতিষ্ঠানরূপে" জাগরিত রবে আমাদের মননশীলতায়।

বিবেকবোধের শাব্দিক তুমি নতুনরূপে চেনালে যা ছড়িয়ে যাক গোটা দেশময়, গোটা বিশ্বময় আর স্বাধীনতার পূরিপূর্ণতায় আমরা প্রজ্বলিত হবো আলোকবর্তিকারূপে।

লেখক : মাহফুজ কবির সম্পাদক -বিএনপিপিনিউজ ও আজীবন সদস্য, রংপুর রিপোর্টস ক্লাব,রংপুর।

 

 



:        
   আপনার মতামত দিন
     বিশেষ সংবাদ
মেলায় পণ্য কিনে উপহার পেয়ে খুশি নাজমুল হুদা
................................................................
ঢাকায় প্রবেশে উচ্চ হারে ফি নেয়ার প্রস্তাব
................................................................
আমানত ফেরতে ফারমার্সের ব্যর্থতায় টিআইবির উদ্বেগ
................................................................
আগামী সপ্তাহে ১৫ কোম্পানির এজিএম
................................................................
বিদায়ী বছরে এসে নড়বড়ে ব্যাংক খাত
................................................................
ইসলাম, নারী এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ "গোলাম মাওলা রনি"
................................................................
নুহ নবীর নৌকার খোঁজে
................................................................
আল্লাহর গজব নাজিল হয় যে কারনে
................................................................
পর্যটক টানছে থাইল্যান্ডের মসজিদগুলো
................................................................
সন্তান-সন্তুতির প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসা
................................................................