শেয়ার করুন
Share Button
   বাংলাদেশ
  ছেলের বদলে মেয়ে নবজাতক দেওয়ার অভিযোগ
  29, December, 2017, 6:57:59:PM

বিশেষ প্রতিনিধি: ছেলেসন্তান হলেও তা বদলে মেয়েসন্তান দেওয়া হচ্ছে, এমন অভিযোগ এনে এক দম্পতি সন্তান গ্রহণ না করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থান করছেন। তাঁদের অভিযোগ, ছেলে হলেও চিকিৎসার জন্য নবজাতক ওয়ার্ডে নিয়ে সাত দিন পর মেয়েসন্তান দিয়েছেন হাসপাতাল ওয়ার্ডের কিছু কর্মচারী।

এই অভিযোগ পাপিয়া খাতুন (২৫) ও মনু মিয়া (৩০) দম্পতির। মেয়ে গ্রহণে নারাজ পাপিয়ার প্রশ্ন, ছেলেসন্তান কীভাবে মেয়েসন্তান হলো?

পাপিয়া-মনু দম্পতির বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বাদেকল্পা গ্রামে। সন্তান বদলে দেওয়ার অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁরা আইনি পদক্ষেপ না নিলেও নিজ সন্তান ফেরত পাওয়ার দাবিতে হাসপাতালেই অবস্থান করছিলেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে গত সোমবার রাতে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

গতকাল সকালে হাসপাতালে কথা হয় ওই দম্পতি ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে। পাপিয়া-মনু মিয়ার অভিযোগ, ১০ ডিসেম্বর বিকেলেই তাঁরা নিশ্চিত হন তাঁদের ছেলে হয়েছে। নবজাতক ওয়ার্ডে সন্তান চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথম ছয় দিনে তাঁদের ডাকা হয়নি। পরে গত রোববার বিকেলে মাকে ডাকা হয়। তিনি ওই ওয়ার্ডে গিয়ে দায়িত্বরত কর্মচারীদের কথামতো নবজাতকের জন্য বাটিতে দুধ দিয়ে আসেন। পরদিন দুপুরে নবজাতক সুস্থ জানিয়ে তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। কিন্তু তুলে দেওয়া হয় ছেলের পরিবর্তে মেয়ে। পরে তাঁরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলে বিষয়টি কাউকে না জানানোর অনুরোধ করে ওই দিন রাত ১০টা পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যে এর সুরাহা না হওয়ায় স্বজনেরা হট্টগোল করেন। তখন গতকাল পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়। তবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সুরাহা হয়নি।

পাপিয়া বলেন, শিশু গর্ভে থাকাকালীন চারবার করা আল্ট্রাসনোগ্রামে প্রতিবারই তাঁর গর্ভে ছেলেসন্তান রয়েছে বলে জেনেছেন।

হাসপাতালের উপপরিচালক লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোথাও ভুল হতে পারে। হাসপাতালের কেউ নবজাতক বদলও করতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। এ ঘটনায় কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর শাস্তি হবে।’



:        
   আপনার মতামত দিন