শেয়ার করুন
Share Button
   ধর্ম
  ধৈর্য্য ও সিয়াম সাধনা
  1, June, 2017, 8:00:39:PM

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাস ধৈর্য্যের মাস বলেছেন। ধৈর্য্য ধারণ করার অব্যর্থ ও কষ্টকর শিক্ষা নিহীত আছে সিয়াম সাধনার মধ্যে। সেই শিক্ষা মানুষের জাগতিক কাজ-কর্মে সফল হওয়ার নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।

সাহরী খাওয়ার পর আল্লাহর বান্দা নিয়ত করে সুবহে সাদিক থেকে পানাহার পরিত্যাগ করার মাধ্যমে সিয়াম শুরু করে। এর পর সকাল পেরিয়ে সময়ের চাকা দুপুর গড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে রোজাদারের  ক্ষুধাও তৃষ্ণা বেড়ে যায়। দুপুর গড়িয়ে সময় যখন তাকে বিকেলের অবসন্নতায় ঠেলে দেয়, তখন তার তৃষ্ণা ও ক্ষুধার তীব্রতা বেড়ে যায় বহু গুণ। দুপুরের ক্ষুধায় নফস তাকে পানাহার করার জন্য প্রলব্দ করেছিল। কিন্তু প্রভুর নির্দেশের কাছে নফসের আহবান হার মেনেছে। বিকেলের ক্ষুধার তীব্রতায় নফসের আহ্বানের শক্তিও বেড়েছে বহু গুণ। কিন্তু তাতেও বান্দা সাড়া দেয়নি। কারণ নফসের তাড়না থেকে বান্দার মনে প্রভুর তুষ্টির চেতনা অনেক বেশি শক্তিমান। তাই তো ক্ষুধা ও তৃষ্ণার তীব্রতার মাঝেও প্রভু-ভক্ত রোজাদার ধৈর্য্য ধারণ করেছে। কষ্টের মাঝে ধৈর্য্য ধারণ করার এই শিক্ষার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসের নাম সিয়াম।

চরম আকর্ষণ ও চাহিদার পরও বান্দা যখন ধৈর্য্যরে হাতিয়ার দিয়ে কষ্টকে পরাজিত করেছে তখন প্রভু-তুষ্টির সাধনার পথিক এই বান্দার জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরষ্কার স্বরূপ ঘোষণা এসেছে, ধৈর্য্য ধারণকারীদেরকে এত বেশি প্রতিদান দেওয়া হবে যে তা গণনা করা যাবে না। পবিত্র কোরআনে আরও ঘোষণা হয়েছে, হে ঈমানদারগণ, ধৈর্য্য ধারণ করো, অটল-অবিচল থাক, আল্লাহর রাস্তায় নিজেকে ধরে রাখো এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাকো, তাহলে সফল হবে।

সূরা কাসাস–এ ধৈর্য্য ধারণকারী বান্দাদের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, ধৈর্য্যরে কারণে তাদেরকে একবার নয়- দুই প্রতিদান দেওয়া হবে। আর এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে যখন মহান রব ঘোষণা করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্য্য ধারণকারীদের সঙ্গে আছেন।

সহি বুখারী ও মুসলিম শরীফে হযরত আবু সায়িদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ধৈর্য্য থেকে অধিক উত্তম এবং বিস্তৃত কোন দান বান্দার জন্য হতে পারে না। অন্য হাদীসে এসেছে, ইমানদারের সকল কর্মই আশ্চর্যজনকভাবে তার জন্য মঙ্গলজনক। তার কাছে কোনো নেয়ামত এলে যে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে এবং শুকরিয়া জ্ঞাপন তার জন্য মঙ্গলজনক। আবার কোনো বিপদ ও মসিবত এলে সে ধৈর্য্য ধারণ করে এবং এ ধৈর্য্য ধারণ করাও তার জন্য যারপর নাই মঙ্গল বয়ে আনবে।

আসলে ইহকাল ও পরকালে সফলতার কষ্টকর চারিত্রিক গুণের নাম ধৈর্য্য। মানুষের জীবনে, বিপদে, মসিবতে, কষ্টে ও সংকটে, প্রতিযোগিতা ও প্রতিকুলতায় কিভাবে ধৈর্য্য ধারণ করতে হয়, তার পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা নিহীত আছে সিয়াম সাধনায়। আল্লাহ পাক সেই শিক্ষা গ্রহণ করার সবাইকে তাওফিক নসিব করুন। আমীন।

লেখক : মুফতি আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক, উপাধ্যক্ষ, কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসা



:        
   আপনার মতামত দিন