শেয়ার করুন
Share Button
   ধর্ম
  বাংলাদেশে জনসংখ্যায় মুসলিমদের অনুপাত কমেছে
  30, May, 2017, 8:41:8:PM

চার বছর আগে বাংলাদেশে জনসংখ্যায় মুসলমানদের শতকরা হার যত ছিল, বর্তমানে তার চেয়ে সামান্য কমেছে। পরিসংখ্যার ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্যে এই বিষয়টি্ প্রকাশ পেয়েছে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অনুপাত যেখানে ক্রমাগত কমেছে, সেখানে এই ঘটনাটিকে অভিনব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

 

প্রতি দশ বছর পরপর আদমশুমারি করার কথা থাকলেও দুটি আদমশুমারির মধ্যবর্তী সময়ে প্রতিবছর আরো একটি জরিপ করা হয়। সেটি হচ্ছে `স্যাম্পল ভাইট্যাল স্ট্যাটিসটিকস।`আর এই জরিপেই সংখ্যালঘুদের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি জানা যায়।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১২ সালে বাংলাদেশে মুসলিম জনগোষ্ঠী ছিল প্রায় ১৩ কোটি ৫৬ লক্ষ। আর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিমাণ ছিল এক কোটি ৭০ লাখের কিছু বেশি। আর ২০১৬ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশে মুসলিমদের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪ কোটি ২১ লাখের কিছু বেশি। আর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা বেড়ে হয় এক কোটি ৮৬ খালের মত। অর্থাৎ চার বছরে মুসলিম জনগোষ্ঠী বেড়েছে ৬৫ লাখ আর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা বেড়েছে ১৬ লাখেরও বেশি।

অর্থাৎ চার বছরে মুসলিম জনগোষ্ঠী বেড়েছে প্রায় ০.০৪৮ শতাংশ। আর সংখ্যালঘুদের অনুপাত বেড়েছে ০.০৯ শতাংশের বেশি।

পরিসংখ্যার ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী ২০১২ সালে বাংলাদেশ জনসংখ্যায় মুসলিম অংশ ছিল ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশ। আর অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ছিল ১১ দশমিক ২ শতাংশ।

চার বছর পরে এসে ২০১৬ সালের ১ জুলাই মুসলিমদের শতকরা হার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে হয় ৮৮.৪ শতাংশ। আর মুসলিমদের যতটা কমেছে, স্বভাবতই অমুসলিমদের ততটাই বেড়েছে।

পরিসংখ্যার ব্যুরোর এই জরিপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে অমুসলিমদের অনুপাত সামান্য বাড়ার বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। সেখানে কেবল বছরওয়ারী পরিসংখ্যান দেয়া ছিল।

এই পরিসংখ্যানে দেখা যায় ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে মুসলিমদের অনুপাত কিছুটা বেড়ে যায়। ওই বছর দেশের মোট জনসংখ্যার ৮৯.১ শতাংশ ছিল মুসলিম। অর্থাৎ এক বছরে শতকরা হারে মুসলিমদের অনুপাত বাড়ে ০.৩ শতাংশ। পরের বছর তা আরও ০.১ শতাংশ বেড়ে হয় ৮৯.২ শতাংশ।

আবার ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে এই অনুপাত এক শতাংশের মত কমে যায়। এই বছর জনসংখ্যায় অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা ছিল শকতরা ১১.৮ ভাগ। সেখান থেকে পরের বছর অমুসলিমদের অনুপাত আবার কিছুটা কমে ১১.৬ শতাংশ হয়।

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ের আদমশুমারিতে দেখা গেছে বাংলাদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমেছে। ১৯৫১ সালে যে আদমশুমারি হয়েছিল তাতে বাংলাদেশে মোট জনগোষ্ঠির ২২ শতাংশ ছিল হিন্দু। ১৯৭৪ সালের আদমশুমারিতে এটা নেমে আসে ১৪ শতাংশে। আর সর্বশেষ ২০১১ সালের আদমশুমারিতে এটা নেমে আসে ৮ দশমিক ৪ শতাংশে।

জনসংখ্যায় সংখ্যালঘুদের অনুপাত যেখানে ধারাবাহিকভাবে কমেছে এতদিন, সেখানে গত চার বছরে উল্টোচিত্রকে কীভাবে হল-জানতে চাইলে পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, এই বিষয়টা আমাদের গবেষণার মূল ফোকাস ছিল না। কাজেই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারবো না।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক নূর-উন-নবী বলেন, `জনসংখ্যায় মুসলমানের অনুপাত কমার ক্ষেত্রে অনেকগুলো ফ্যাক্টর কাজ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বড় একটি সংখ্যক মানুষের বিদেশে কাজের জন্য যাওয়া। বাংলাদেশ থেকে কাজের খোঁজে যারা বিভিন্ন দেশ যায়, তাদের সিংহভাগই যায় মুসলিম দেশগুলোতে। স্বভাবতই মুসলিমরাই সেখানে যায়। আর প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী বিদেশে কাজ করতে যায় বলে জনসংখ্যায় মুসলিমদের অনুপাত কিছুটা কমতে পারে।

অধ্যাপক নুর-উন নবী বলেন, অনেক সময় `স্যামপ্লিং এরর` থাকে। কোনো একটি এলাকায় অন্য ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা বেশি থাকতে পারে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপে এসব এলাকাকে নমুনা হিসেবে বেশি বেছে নেয়া হতে পারে।`

এই জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ তৃতীয় যে কারণটির কথা বলেছেন, সেটা হলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। তিনি বলেন, `আমাদের দেশে মুসলিমদের মধ্যে অতীত কাল থেকেই সন্তান ধারণের প্রবণতা বেশি ছিল। কিন্তু বর্তমান যুগে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম গতি পেয়েছে এবং মানুষ কম সন্তান নিচ্ছে। এ কারণেও থর্মীয় সংখ্যালঘুদের অনুপাত কিছুটা বাড়তে পারে।`



:        
   আপনার মতামত দিন