শেয়ার করুন
Share Button
  
  ২৮ গ্রাহকের ২০ লাখ টাকা গায়েব
  17, February, 2016, 1:12:28:PM
এটিএম (অটোমেটেড ট্রেলার মেশিন) কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে ২৮ জন গ্রাহকের ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তিনটি ব্যাংকের ছয়টি বুথ থেকে চুরি করা হয়েছে ৩০০ গ্রাহকের তথ্য। এসব গ্রাহকের কার্ড বাতিল করে নতুন করে কার্ড ইস্যু করতে ব্যাংকগুলোকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর ছয়টি বুথের বাইরে অন্য কোন বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসানো হয়েছে কিনা তাও যাচাই করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া কোন গ্রাহককে কোন ব্যাংক টাকা ফেরত দেবে তা নির্ধারণ করে টাকা ফেরত দিতেও ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
 
গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত তিনটি ব্যাংকের ছয়টি বুথ পরিদর্শন ও ভিডিও ফুটেজ যাচাই করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে গ্রাহকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর। তারা বুথের ভিডিও ফুটেজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ না করায়, বুথে নিয়োজিত গার্ডদের দায়িত্বে অবহেলা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ মতো এটিএম বুথের লেনদেনে আগে থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিনটি তদন্ত দল বিষয়টি তদন্ত করেছে। গতকাল তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও দিন শেষে তা দিতে পারেনি। তবে আজ উপস্থাপন করবেন বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। তবে পুলিশি তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত সরাসরি ব্যাংকের ‘কর্মকর্তারা জড়িত’ না বলে ‘দায়িত্বে অবহেলা’ই বলছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত দল। বাকি কাজ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে করতে হবে বলে জানান তারা। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত দল- কি হয়েছে, কিভাবে হয়েছে, কেন হয়েছে বা এর দায়ভার কার তা বের করেছে। কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে যে ব্যক্তিগুলো অপরাধ সংঘটিত করেছে তাদের পরিচয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকেই বের করতে হবে। তাদের খুঁজে পেলেই সরাসরি এই অপরাধের সঙ্গে আরো কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা জানা যাবে।
 
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, দেশে এটিএম, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ৯০ লাখ ছাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে লেনদেন হচ্ছে নয় হাজার কোটি টাকার বেশি। এটিএম বুথের সংখ্যা সাত হাজারের কিছু বেশি। আর ব্যাংকগুলোর শাখার সংখ্যা নয় হাজারের কিছু বেশি।
 
সূত্রটি জানায়, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষ পরিদর্শনে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলো যদি নিয়মিত ভিডিও পর্যবেক্ষণ করতো তবে প্রথম থেকেই বিষয়টি নজরে পড়তো। কারণ ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায় কিভাবে একদল লোক কারসাজি করছে। একটি লোক বুথগুলোতে ঢুকে প্রথমে সামনে থাকা সিসি ক্যামেরাকে একটি কাগজ দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। কিন্তু তারা হয়তো বুঝতে পারেনি অন্য ক্যামেরাগুলোতে বিষয়টি দেখা যাচ্ছে। সেই ফুটেজে দেখা যায়, কালো কাপড় পরিহিত একটি লোক স্কিমিং ডিভাইস বসাচ্ছে। এছাড়া তারা একটি ছোট ক্যামেরাও বসায়। পরে এগুলো আবার খুলেও নিয়ে আসে। ব্যাংকের কর্মকর্তারা এসব বিষয় লক্ষ্য করেনি। করলেও তারা তার ব্যবস্থা নেয়নি।

 

জানা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম, পরিদর্শন ও আইটি বিভাগ এ তিন বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিনটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। তারা ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল), ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল) এবং দি সিটি ব্যাংকের মিরপুর, কালসি ও বনানির বুথগুলোতে তদন্ত করে গতকাল পর্যন্ত ২৮ জন গ্রাহকের ২০ লাখ টাকা জালিয়াতি হওয়ার তথ্য পেয়েছে। এর মধ্যে ইবিএলেরই বেশি। তবে অভিযোগের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন। এ সংখ্যা ৫০ জন হতে পারে। এক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণও বাড়বে। এটিএম মেশিনে বিশেষ স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে এ জালিয়াতি করে। পরে ওই ডিভাইসের মাধ্যমে কার্ডের নাম্বার, পিন ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে নকল কার্ড তৈরি করে জালিয়াতির মাধ্যমে অনেক টাকা হাতিয়ে নেয় ওই চক্র।
 
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্কিমিং ডিভাইসের দাম মাত্র ২০০ ডলার। এর আগেও এটিএম কার্ড জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কার্ড জালিয়াতির অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এটিএম কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন বুথ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এটিএম বুথের সিপিইউ থেকে গ্রাহকের তথ্য ও উচ্চক্ষমতার ক্যামেরার মাধ্যমে তাদের পাসওয়ার্ড ও পিনকোড সংগ্রহ করে তারা। এর পর সংগৃহীত তথ্য ব্ল্যাংক কার্ডের ম্যাগনেটিক স্ট্রিপে ধারণের মাধ্যমে নতুন কার্ড তৈরি করা হয়। এ কার্ড দিয়েই পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা ব্যাংকের এটিএম বুথগুলো দেখাশোনার কাজ করতেন বলে জানা যায়। স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন এটিএম বুথ সম্পর্কে ভালো ধারণা ছিল তাদের।


:        
   আপনার মতামত দিন