শেয়ার করুন
Share Button
   সংগঠনের খবর
  এ সপ্তাহেই বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা, যারা থাকছেন নীতিনির্ধারণী ফোরামে
  2, August, 2016, 1:34:19:PM

বিএনপিপি নিউজ ডেস্ক:

প্রায় সাড়ে চার মাস সময় নিয়ে বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ প্রায় শেষ করেছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। চলতি সপ্তাহেই এই কমিটি ঘোষণা করার কথা রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি হতে পারে ৪৩২ সদস্যের।

বিগত সময়ে কয়েকবার কমিটি ঘোষণার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও চলতি সপ্তাহে কমিটি ঘোষণার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে।

দলীয় প্রধানের ঘনিষ্ঠ সূত্রমতে, আসন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের সফলতার বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েই বিএনপি চেয়ারপারসন দলের নতুন জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করেছেন। এখন চেয়ারপারসন গুলশান কার্যালয়ে শেষ মুহূর্তের কাজ সারছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে ঝুঁকি নিয়ে যারা কাজ করতে পারবেন এমন নেতাদের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। দলের চেয়ারপারসনের পরামর্শক্রমে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজে সহযোগিতা করেছেন। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠ নেতা, দল সমর্থক বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শ নিয়েছেন। জেলা পর্যায়ের নেতাদের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নেতাদের মতামত নেয়া হয়েছে।

গত ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে স্থায়ী ও নির্বাহী কমিটির নেতা নির্বাচনের একক ক্ষমতা চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেন কাউন্সিলরা। সেই ক্ষমতাবলে কাউন্সিলের পরে তিন ধাপে মহাসচিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, কোষাধ্যক্ষ, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ৪০টি পদের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি।

দলের সিনিয়র এক নেতা জানান, গত মাসের শুরুতে আরেক ধাপে স্থায়ী কমিটিসহ উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পদে কমিটির আরেকটি অংশ ঘোষণার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে দেশে বড় ধরনের জঙ্গি হামলার কারণে দলীয় বিষয়ের চেয়ে জাতীয় বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন। ফলে কমিটি ঘোষণায় আরো বিলম্ব হয়। এখন অন্যান্য কর্মকা-ের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যের কাজ সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিতে কমিটি ঘোষণা জরুরি বলে মনে করছেন দলীয় প্রধান। তাই চলতি সপ্তাহেই কমিটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দলের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানিয়েছে, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে বেশি। শেষ পর্যন্ত হয়তো এ পদের সংখ্যা ১৯ থেকে বাড়ানো হতে পারে। এই কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম, আবদুল্লাহ আল নোমান, সাদেক হোসেন খোকা, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং সালাহউদ্দিনের আসার সম্ভবনা বেশি।

গত কমিটির যুগ্ম মহাসচিবদের প্রায় সবাই এবার ভাইস চেয়ারম্যান হচ্ছেন। ভাইস চেয়ারম্যানদের কয়েকজন বর্তমান পদেই থাকছেন, বাকিরা হবেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। এ ছাড়া সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক পদে সাবেক ছাত্রনেতারা প্রাধান্য পাচ্ছেন। এত সব পদের মধ্যে তেমন চমক থাকছে না। তবে বিস্মিত হওয়ার মতো কিছু থাকতে পারে, অর্থাৎ যোগ্যতা ও দক্ষতা কম এবং রাজনৈতিকভাবে তুলনামূলক অনভিজ্ঞ কয়েকজনের ‘অতিমূল্যায়ন’ হতে যাচ্ছে বলে সূত্রগুলো বলছে।

দলের নীতিনির্ধারণী অপর একটি সূত্র জানায়, কমিটি গঠন হওয়ার পর আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ‘চা-চক্রে’ বসবেন খালেদা জিয়া। তাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা সফল হলে জাতীয় কনভেনশন করা হতে পারে।

কমিটি গঠনের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ বলেন, কাউন্সিলররা কমিটি গঠনের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনকে একক ক্ষমতা ও দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি এ নিয়ে কাজ করছেন। কবে নাগাদ কমিটি ঘোষণা করা হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা না গেলেও সম্ভবত আর বেশি সময় লাগবে না। যেকোনো সময়ই কমিটি ঘোষণা হতে পারে।

একই বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, ‘কমিটি গঠন বিশাল কর্মযজ্ঞ। এটি করতে গেলে অনেকের পরামর্শ নিতে হয়। নানা বিষয় চিন্তা করতে হয়। নেতাদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও অতীত কার্যক্রমের ব্যাপারে খোঁজ নিতে হয়। শুধু বললেই কমিটি হয়ে যায় না। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে গিয়ে একটু সময় লেগেছে। অচিরেই এর ফল দেখা যাবে।’



:        
   আপনার মতামত দিন